প্রধান কার্যালয়ঃ ৩-ডি, কাব্যকস ভবন, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি- ২০৪৪৭৪/২০২৫
ফোন:- 02224458547-01339-314085
ই-মেইল- crimebd2025@gmail.com
একসঙ্গে অনেক মানুষ বসে আড্ডা দিচ্ছেন, কিন্তু মশার কামড় খেতে হচ্ছে শুধুমাত্র একজনকেই—এমন দৃশ্য প্রায়ই দেখা যায়। অনেকেই বিষয়টিকে কাকতালীয় মনে করেন, তবে এর পেছনে রয়েছে বৈজ্ঞানিক কারণ। শরীরের কিছু বৈশিষ্ট্যের কারণে নির্দিষ্ট কিছু মানুষকে মশা অন্যদের তুলনায় বেশি কামড়ায়।
আনন্দবাজারের একটি প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, শরীর থেকে নিঃসৃত কার্বন ডাই-অক্সাইড, রক্তের গ্রুপ, ঘামের গন্ধ, শরীরের তাপমাত্রা, অতিরিক্ত মদ্যপান এবং ত্বকে থাকা কিছু ব্যাকটেরিয়ার কারণে মশা কিছু মানুষের প্রতি বেশি আকৃষ্ট হতে পারে।
নিঃশ্বাসের কার্বন ডাই-অক্সাইড
শরীর থেকে নিঃসৃত কার্বন ডাই-অক্সাইড মশাকে আকৃষ্ট করে। মশার শুঁড়ে থাকা বিশেষ ধরনের অনুভূতিশক্তিসম্পন্ন অংশ প্রায় ১০০ ফুট দূরত্ব থেকে নিঃশ্বাসের মাধ্যমে বের হওয়া কার্বন ডাই-অক্সাইড শনাক্ত করতে সক্ষম।
যারা নিয়মিত ব্যায়াম করেন বা দ্রুত হাঁটেন, তাদের নিঃশ্বাসের গতি তুলনামূলকভাবে বেশি থাকে। ফলে শরীর থেকে বেশি কার্বন ডাই-অক্সাইড বের হয়। এতে এডিস এবং ম্যালেরিয়ার মশা তাদের প্রতি বেশি আকৃষ্ট হতে পারে।
রক্তের গ্রুপ
বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে, ‘ও’ পজেটিভ এবং ‘ও’ নেগেটিভ রক্তের গ্রুপের মানুষের প্রতি মশা তুলনামূলকভাবে বেশি কামড়ায়। এরপর রয়েছে ‘বি’ রক্তের গ্রুপের মানুষ।
তবে মশা কীভাবে রক্তের গ্রুপের পার্থক্য বুঝতে পারে, তা নিয়ে এখনও গবেষণা চলছে। নির্দিষ্ট রক্তের গ্রুপের মানুষের ত্বক থেকে বিশেষ ধরনের রাসায়নিক সংকেত বের হয়, যা মশা সহজেই শনাক্ত করতে পারে বলে ধারণা করা হয়।
ঘামের গন্ধ
মানুষের ঘামে ল্যাকটিক অ্যাসিড, ইউরিক অ্যাসিড এবং অ্যামোনিয়ার মতো বিভিন্ন উপাদান থাকে। যারা বেশি ঘামেন, তাদের শরীর থেকে এসব উপাদানও বেশি পরিমাণে বের হয়। ফলে তাদের প্রতি মশার আকর্ষণ বৃদ্ধি পেতে পারে।
শরীরের বেশি তাপমাত্রা
মশার শরীরে থাকা বিশেষ অনুভূতিশক্তি শরীরের তাপমাত্রার সামান্য পরিবর্তনও শনাক্ত করতে পারে। বিশেষ করে যারা বেশি ব্যায়াম করেন বা জ্বরে আক্রান্ত, তাদের শরীরের তাপমাত্রা স্বাভাবিকের তুলনায় বেশি থাকতে পারে। এ কারণে মশা তাদের প্রতি বেশি আকৃষ্ট হতে পারে।
অতিরিক্ত মদ্যপান
অতিরিক্ত মদ্যপান করলেও মশার কামড় বৃদ্ধি পেতে পারে বলে গবেষণায় উঠে এসেছে। শরীরে অ্যালকোহল প্রবেশ করলে রক্তনালি প্রসারিত হয় এবং ত্বকে রক্তপ্রবাহ বাড়ে। একই সঙ্গে ঘামের মাধ্যমে ইথানল বের হয়, যা মশা শনাক্ত করতে পারে। এছাড়া অতিরিক্ত মদ্যপানে শরীরের তাপমাত্রাও বৃদ্ধি পেতে পারে, যা মশাকে আকৃষ্ট করে।
ত্বকে থাকা ব্যাকটেরিয়া
মানুষের ত্বকে বিভিন্ন ধরনের অণুজীব বা ব্যাকটেরিয়া বিদ্যমান। ত্বকে থাকা কিছু বিশেষ প্রজাতির ব্যাকটেরিয়ার কারণে ম্যালেরিয়া ও এডিস মশা কিছু মানুষের প্রতি বেশি আকৃষ্ট হতে পারে। ফলে অন্যদের তুলনায় তাদের মশার কামড়ের সংখ্যা বেশি হতে পারে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন