প্রধান কার্যালয়ঃ ৩-ডি, কাব্যকস ভবন, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি- ২০৪৪৭৪/২০২৫
ফোন:- 02224458547-01339-314085
ই-মেইল- crimebd2025@gmail.com
সর্বোচ্চ মাত্র সাত মাসের একটি শিশু। এ শিশু এখনো কথা বলতে শিখেছে না, হাঁটতেও শেখেনি। কিন্তু সেই শিশুর ভবিষ্যৎ নিয়ে চিন্তায় মা ও বাবা উদ্বিগ্ন। সন্তানের নিরাপদ ভবিষ্যতের দাবিতে তাই এই সাত মাসের শিশুকে কোলে নিয়ে কলকাতার রাজপথে মিছিলে অংশগ্রহণ করেন এক দম্পতি।
সর্বভারতীয় ডাক্তারি প্রবেশিকা পরীক্ষা ‘নিট’ কেলেঙ্কারির কারণে শিক্ষার্থীদের আত্মহত্যার ঘটনা এবং দিল্লিতে প্রতিবাদী শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশি নির্যাতনের অভিযোগে শুক্রবার (২৪ জুলাই) কলকাতার রাজপথে প্রতিবাদের আগুন ছড়ায়।
এখন মিছিলে সকলের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে ব্যারাকপুরের বাসিন্দা শ্রুতি বিশ্বাস ও সায়ক সরকার দম্পতি। কোলে রয়েছে দুধের শিশু, পিঠের ব্যাগে রয়েছে ফিডিং বোতল এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় সামগ্রী। তাদের হাতে থাকা একটি প্ল্যাকার্ডে লেখা ছিল ‘ইভেন مাই সন ইজ মোর এডুকেটেড দেন দ্য গভর্নমেন্ট’ (এমনকি আমার ছেলে সরকারের চেয়ে বেশি শিক্ষিত)।
প্রতিবাদে অংশ নেওয়ার কারণ তুলে ধরে মা শ্রুতি বিশ্বাস বলেন, ‘যখন আমার সন্তান বড় হয়ে স্কুলে পড়বে, তখন তাকেও এই একই প্রশাসনিক ব্যবস্থা মুখোমুখি হতে হবে। প্রশ্নপত্র ফাঁসের কারণে ইতোমধ্যে ২০ জন শিক্ষার্থী আত্মহত্যা করেছেন। একজন অভিভাবক ও নারী হিসেবে আমার মনে হয়েছে প্রতিবাদ করা খুবই জরুরি। মূলত সন্তানের ভবিষ্যতের কথা ভেবেই আমি রাজপথে নেমেছি।’
শুক্রবার কলকাতায় এই বিশাল মহামিছিলের ডাক দেয় এসএফআই, এআইডিএসও, ডিওয়াইএফআই, পিডিএসএফ ও এআইএসএ-সহ বামপন্থী আটটি ছাত্র ও যুব সংগঠন। মিছিলে সংহতি জানাতে অংশগ্রহণ করে ‘কাকরোচ জনতা পার্টি’র সদস্যরা এবং বিপুলসংখ্যক সাধারণ অভিভাবক। এর ফলে অন্যান্য দিনের তুলনায় এই আন্দোলনের তরঙ্গ ছিল অনেক বেশি।
সকাল থেকে শিয়ালদহ স্টেশনের সামনে একত্রিত হতে থাকেন বিভিন্ন সংগঠনের নেতা-কর্মীরা। বিকেলে সেখান থেকে বিশাল মিছিলটি শহরের প্রাণকেন্দ্র ধর্মতলার দিকে এগোতে শুরু করে। মিছিলে অংশগ্রহণকারীরা ভারতের কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবি করেন। একই সঙ্গে কেন্দ্র ও রাজ্যের শাসকগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে সমালোচনাও করা হয়।
যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে কলকাতা পুলিশের সাথে কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানরাও রাজপথে মোতায়েন ছিল।
অন্যদিকে, একই দিনে বিকেলে কলেজ স্কয়ার থেকেও আরো একটি বিক্ষোভ মিছিল বের হয়ে ধর্মতলার দিকে চলে যায়। শহরের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সড়কে একসঙ্গে চলতে থাকা আন্দোলনের কারণে কলকাতার যানবাহন চলাচল থমকে যায়।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন