প্রধান কার্যালয়ঃ ৩-ডি, কাব্যকস ভবন, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি- ২০৪৪৭৪/২০২৫
ফোন:- 02224458547-01339-314085
ই-মেইল- crimebd2025@gmail.com
যুক্তরাষ্ট্র মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর ইরানে হামলার সম্ভাবনা নিয়ে মধ্যপ্রাচ্যের মিত্র দেশগুলোকে সতর্ক করেছে। ওয়াশিংটনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সম্ভাব্য এই হামলা কয়েক দিন ধরে চলতে পারে। এদিকে, ইরানের পাল্টা হামলায় জ্বালানি স্থাপনা ও গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কাও রয়েছে আঞ্চলিক দেশগুলোর মধ্যে।
বুধবার (২৮ অক্টোবর) প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক দুই কূটনীতিকের উদ্ধৃতি দিয়ে বার্তা সংস্থা এপি এসব তথ্য জানায়। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, আগামী ৩ নভেম্বর যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর ইরানে হামলা চালানোর বিষয়টি বিবেচনা করছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে এ বিষয়ে এখনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি।
মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোকে পাল্টা হামলার আশঙ্কায় সতর্ক করা হয়েছে। এপির প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের কূটনীতিক ও প্রতিরক্ষা কর্মকর্তারা মধ্যপ্রাচ্যের কিছু দেশ এবং আঞ্চলিক মিত্রদের সম্ভাব্য নতুন সামরিক অভিযানের বিষয়ে সতর্ক করেছেন। একই সঙ্গে ইরান যদি পাল্টা হামলা চালায়, সেক্ষেত্রে প্রস্তুতি নেওয়ারও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
মার্কিন কর্মকর্তাদের আশঙ্কা, নতুন হামলা শুরু হলে ইরান কেবল যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক স্থাপনাকে লক্ষ্যবস্তু করবে না, বরং জ্বালানি অবকাঠামোসহ গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাতেও আঘাত হানতে পারে। এ কারণে সম্ভাব্য ক্ষয়ক্ষতি মোকাবিলায় সতর্কতামূলক ব্যবস্থা গ্রহণের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে মিত্র দেশগুলোকে।
কূটনীতিকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য অভিযান কয়েক দিন স্থায়ী হতে পারে। তবে ইরান ও দেশটির মিত্র সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলো পাল্টা হামলা শুরু করলে সংঘাতের সময়সীমা আরও দীর্ঘায়িত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেননি ট্রাম্প
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, ইরানে হামলা চালানোর বিষয়ে ট্রাম্প এখনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেননি। তবে তিনি একাধিকবার ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, ৩ নভেম্বরের নির্বাচন শেষ হওয়ার পর সামরিক পদক্ষেপের বিষয়টি বিবেচনা করতে পারেন।
হোয়াইট হাউস এবং মার্কিন কর্মকর্তারা এ বিষয়ে মন্তব্য করতে রাজি হননি। ফলে সম্ভাব্য অভিযানের সুনির্দিষ্ট সময়, লক্ষ্যবস্তু এবং সামরিক পরিকল্পনার বিস্তারিত এখনো পরিষ্কার নয়।
এপির প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, নির্বাচনের পরপরই অভিযান চালানোর মতো প্রস্তুতি মার্কিন সামরিক বাহিনীর কতটা রয়েছে, তা-ও নিশ্চিত নয়।
পারস্য উপসাগরে মার্কিন সামরিক উপস্থিতি বাড়ানোর লক্ষ্যে গত মাসের শেষ দিকে পেন্টাগন ইউএসএস থিওডোর রুজভেল্ট বিমানবাহী রণতরিসহ কয়েকটি উভচর সামরিক জাহাজ এবং মেরিন সেনা মোতায়েন করেছে। এসব সেনা ও নৌবাহিনীর সদস্যের সংখ্যা প্রায় ৯ হাজার বলে এপির প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
এক মার্কিন কর্মকর্তা এর আগে জানিয়েছিলেন, এই মোতায়েনের ফলে ওই অঞ্চলে মার্কিন নাবিক ও মেরিন সেনার সংখ্যা ২০ হাজার ছাড়িয়ে যেতে পারে। পাশাপাশি সেখানে শত শত সামরিক উড়োজাহাজও মোতায়েনের সম্ভাবনা রয়েছে।
তবে সামরিক উপস্থিতি বাড়ানো সত্ত্বেও নতুন অভিযান কখন শুরু হতে পারে, সে বিষয়ে নিশ্চিত কোনো সময়সীমা পাওয়া যায়নি।
কূটনীতির পথ খোলা রাখার বার্তা ইরানের
এদিকে সম্ভাব্য নতুন হামলার হুমকির মধ্যেও কূটনীতির মাধ্যমে সংকট সমাধানের সুযোগ রয়েছে বলে জানিয়েছে তেহরান। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি বুধবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে বলেন, কূটনীতিকে সফল হওয়ার সুযোগ দিতে চায় তেহরান।
গত মাসে যুদ্ধবিরতিতে ফেরার লক্ষ্যে ইরান যে প্রস্তাব দিয়েছিল, তা নিয়ে মধ্যস্থতাকারীদের সঙ্গে আলোচনা চলছে। ওই প্রস্তাব ট্রাম্প প্রত্যাখ্যান করেছিলেন। তবে ইরান এখনও সেটিকে আলোচনার ভিত্তি হিসেবে ব্যবহারের পক্ষে।
অন্যদিকে সংযুক্ত আরব আমিরাতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় উত্তেজনা নিয়ন্ত্রণে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোকে বিচক্ষণতার পরিচয় দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে এবং রাজনৈতিক সমাধানের পথ অনুসরণের জন্য উৎসাহিত করেছে। দেশটি পূর্ণমাত্রার সামরিক সংঘাতে ফিরে যাওয়ার ঝুঁকি এড়াতে চায়।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন