প্রধান কার্যালয়ঃ ৩-ডি, কাব্যকস ভবন, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি- ২০৪৪৭৪/২০২৫
ফোন:- 02224458547-01339-314085
ই-মেইল- crimebd2025@gmail.com
গাইবান্ধার সাদুল্লাপুরে সম্পত্তির ভাগ না পাওয়ার কারণে বৃদ্ধ বাবার জানাজা আটকে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে তার মেয়ের বিরুদ্ধে।
জানাজাটি সোমবার (১২ অক্টোবর) সকাল ১০টায় অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল, কিন্তু বিকেল ৩টা পর্যন্ত মৃত নাজির উদ্দিন নামে ওই ব্যক্তির মরদেহ বাড়ির উঠানে পড়ে ছিল। তার মেয়ে হালিমা বেওয়া (৫০) বাবার সম্পত্তি থেকে এক বিঘা জমি পাওয়ার দাবি করেছেন।
সোমবার বিকেল ৩টার দিকে ধাপেরহাট ইউনিয়ন পরিষদের ৪, ৫ ও ৬ নম্বর ওয়ার্ডের সংরক্ষিত নারী সদস্য মোছা. রওশন আক্তার গণমাধ্যমকে ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেন।
জানা গেছে, সাদুল্লাপুর উপজেলার ধাপেরহাট ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের বোয়ালীদহ গ্রামের বাসিন্দা নাজির উদ্দিন পেশায় কৃষক ছিলেন। তার এক ছেলে ইদ্রিস আলী (৪৮) এবং এক মেয়ে হালিমা বেওয়া রয়েছে। রোববার (১১ অক্টোবর) বিকেল ৩টার দিকে বার্ধক্যজনিত কারণে তার মৃত্যু ঘটে।
পরিবার ও স্থানীয় সূত্র জানাচ্ছে, নাজির উদ্দিন জীবদ্দশায় তার সম্পত্তি ছেলের নামে রেজিস্ট্রি করে দেন। সোমবার সকাল ১০টায় জানাজার সময় নির্ধারণ করা হলে আত্মীয়স্বজন ও প্রতিবেশীরা বাড়িতে উপস্থিত হন। কিন্তু সম্পত্তির ভাগ নিয়ে বিরোধের কারণে জানাজায় বাধা দেন মেয়ে হালিমা।
হালিমার অভিযোগ, তার বাবা বেঁচে থাকতে কৌশলে জমি লিখে নেওয়া হয়েছে এবং তাকে সম্পত্তির ভাগ থেকে বঞ্চিত করা হয়েছে। তিনি জানান, নিজের ভাগের এক বিঘা জমি বুঝে না পাওয়া পর্যন্ত বাবার জানাজা হতে দেবেন না।
অন্যদিকে, নাজির উদ্দিনের ছেলে ইদ্রিস আলীর দাবি, তার বাবা স্বেচ্ছায় তাকে জমি লিখে দিয়েছেন। তিনি বলেন, ওই সম্পত্তিতে বোনের কোনো ভাগ নেই।
এ নিয়ে জানাজায় অংশ নিতে আসা স্থানীয় লোকজন সমঝোতার চেষ্টা করলেও তা সফল হয়নি। ফলে সোমবার বিকেল ৩টা পর্যন্ত বাড়ির উঠানেই পড়ে ছিল নাজির উদ্দিনের মরদেহ।
ধাপেরহাট ইউনিয়ন পরিষদের সংরক্ষিত নারী সদস্য মোছা. রওশন আক্তার গণমাধ্যমকে জানান, নাজির উদ্দিন বেশ কিছুদিন ধরে বার্ধক্যজনিত অসুস্থতায় ভুগছিলেন। রোববার বিকেল ৩টার দিকে তার মৃত্যু হয়। সোমবার সকাল ১০টায় জানাজা হওয়ার কথা ছিল, কিন্তু তার মেয়ে সম্পত্তির ভাগ না পাওয়ার অভিযোগে জানাজা আটকে রেখেছেন।
এ বিষয়ে ধাপেরহাট তদন্তকেন্দ্রের ইনচার্জ (আইসি) পরিদর্শক এস্তেখার হাসান গণমাধ্যমকে বলেন, এ ঘটনায় মৌখিক অভিযোগ নিয়ে এক ব্যক্তি তদন্তকেন্দ্রে এসেছিলেন। তার কাছে লিখিত অভিযোগ চাওয়া হয়েছিল, কিন্তু পরে তিনি আর আসেননি।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন