প্রধান কার্যালয়ঃ ৩-ডি, কাব্যকস ভবন, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি- ২০৪৪৭৪/২০২৫
ফোন:- 02224458547-01339-314085
ই-মেইল- crimebd2025@gmail.com
বিএনপি করার কারণে বিগত সরকারের আমলে বিরোধী দলের নেতাকর্মীদের ওপর নেমে এসেছিল অবর্ণনীয় নির্যাতন।
চোখ বেঁধে তুলে নিয়ে প্লাস দিয়ে হাতের নখ তোলা, নখের ভেতর সুই ঢোকানো কিংবা গভীর জঙ্গলে নিয়ে অমানবিক নির্যাতনের পর সাজানো মামলায় রিমান্ডে নেয়া হতো তাদের। শ্রীপুরে কারা নির্যাতিত নেতাদের এক অনুষ্ঠানে উঠে এসেছে এমনসব ভয়াবহ এবং লোমহর্ষক নির্যাতনের স্মৃতি।
বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) গাজীপুরের শ্রীপুরের সিসিডিবি ক্লাইমেট সেন্টারের সভাকক্ষে বিগত সরকারের আমলে নির্যাতিত নেতাদের সংগঠন ‘শ্রীপুর উপজেলা ও পৌর নির্যাতিত ঐক্য ফোরাম’-এর প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী ও সংবর্ধনা অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়।
অনুষ্ঠানে জেলজীবনের নির্মম দিনগুলোর কথা স্মরণ করেন উপজেলার বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী। এ সময় সেখানে এক আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়। সংগঠনের সভাপতি আরিফুল ইসলাম সরকারের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক এস এম ফরহাদ মিয়ার সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন গাজীপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য অধ্যাপক ডা. এস এম রফিকুল ইসলাম বাচ্চু।
অনুষ্ঠানে বিগত সরকারের নির্যাতনের ভয়াবহ বর্ণনা দেন শ্রীপুর পৌর বিএনপির সদস্য সচিব বিল্লাল হোসেন বেপারি। তিনি বলেন, ‘বিএনপি করার কারণে এমন কোনো নির্যাতন নেই যা করা হয়নি। চোখ বেঁধে ডিবি অফিসে নিয়ে প্লাস দিয়ে হাতের নখ তোলা হতো, নখের ভেতর ঢোকানো হতো সুই। এমনকি একটি মসজিদের ইমামের কাছে নিয়ে তওবাও পড়ানো হয়। কালো কাপড় বেঁধে গভীর জঙ্গলে নিয়ে অমানবিক নির্যাতন চালানো হতো। পরে সাজানো ও মিথ্যা ঘটনার মামলা দিয়ে আদালতে উপস্থাপন করে রিমান্ড চাওয়া হতো।’
তিনি আরও জানান, তৎকালীন সরকারের রাজনৈতিক আক্রোশের শিকার হয়ে কয়েকবার কারাবরণ করেন তিনি এবং হয়েছেন কয়েক ডজন মামলার আসামি। তৎকালীন গাজীপুরের পুলিশ সুপার হারুনের রোষানলেও পড়েন তিনি। তাকে গ্রেফতার করে শারীরিক নির্যাতন চালানো হয়। নির্যাতন থেকে বাঁচতে পরিবারের সদস্যদের কাছে টাকা দাবি করা হয় এবং পরে ধাপে ধাপে ধারদেনা করে তাদের কাছ থেকে দেড় কোটি টাকা হাতিয়ে নেয়া হয়।
অনুষ্ঠানে নিজস্ব কারাজীবনের স্মৃতিচারণ করেন গাজীপুর জেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক আরিফুল ইসলাম সরকার। দায়িত্ব পালনকালে ৫১টি মামলার আসামি হয়েছিলেন তিনি এবং কয়েক ধাপে ১৮৬ দিন জেলে খেটেছেন। তিনি জানান, নিজের কন্যা সন্তানের জন্মের খবর তিনি কারাগার থেকেই শুনেছেন এবং সন্তানের মুখটাও কারাগারের ভেতর থেকেই দেখেছেন। গ্রেফতার হওয়ার পরপরই তাকে টর্চার সেলে নেয়া হয় এবং সেখানে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালানো হয়।
শ্রীপুর উপজেলা ছাত্রদলের সদস্য সচিব আমিনুল ইসলাম সরকার জানান, ২০২৩ সালে বিএনপির ডাকা হরতালে শ্রীপুরের জৈনা বাজার এলাকায় ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে অবরোধ তৈরি করেন তারা। এ ঘটনায় একই বছরের বৃহস্পতিবার (২ নভেম্বর) রাতে ময়মনসিংহের ভালুকার স্কয়ার মাস্টারবাড়ি থেকে র্যাব-১ তাকে গ্রেফতার করে।
গ্রেফতারের পর চোখে ও মাথায় কালো কাপড় বেঁধে তাকে র্যাব সদর দফতরে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের পর ভোররাতে একটি কক্ষে বেধড়ক পেটানো হয়। এ সময় বিএনপি আন্দোলনের পরিকল্পনা জানতে চায় র্যাব সদস্যরা। কোনো তথ্য না পেয়ে আক্রোশের বশবর্তী হয়ে সেখানকার একটি কক্ষে দুদিন তাকে বন্দি করে রাখা হয়। বন্দিশালায় কখনো এক বেলা, কখনো দুবেলা খাবার দেয়া হতো। প্রায় পাঁচ মাস পর তিনি উচ্চ আদালতের নির্দেশে জামিনে মুক্ত হন।
অনুষ্ঠানে বিগত ১৭ বছরে ফ্যাসিস্ট সরকারের নির্যাতনের স্মৃতিচারণ করে আরও বক্তব্য রাখেন বীর মুক্তিযোদ্ধা ফজলুল হক, মোসলেম উদ্দিন মৃধা, অ্যাডভোকেট আবু জাফর, অ্যাডভোকেট আহসান কবির, আবুল হোসেন প্রধান, রাজীবুল বেপারী, মামুন আকন, মোক্তারুল করিম মোড়ল শামীম প্রমুখ।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন