প্রধান কার্যালয়ঃ ৩-ডি, কাব্যকস ভবন, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি- ২০৪৪৭৪/২০২৫
ফোন:- 02224458547-01339-314085
ই-মেইল- crimebd2025@gmail.com
পশ্চিমবঙ্গের রাজ্য পুলিশের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে, তারা অবৈধ বাংলাদেশি সন্দেহে গভীর রাতে মুসলিম নাগরিক ও শিশুদের আটক করে ডিটেনশন সেন্টারে পাঠাচ্ছে। গত জুন মাস থেকে এখন পর্যন্ত অন্তত নয়জন মুসলিম পুরুষ ও দুটি শিশুকে আটক করার ঘটনা প্রকাশ্যে এসেছে।
মানবাধিকার কর্মী এবং আইনজীবীরা এই ধরনের পুলিশি অভিযানকে সম্পূর্ণ বেআইনি এবং অসাংবিধানিক হিসেবে চিহ্নিত করেছেন।
নিপীড়নের শিকার পরিবারের সদস্যরা অভিযোগ করেছেন যে, পুলিশ গভীর রাতে তাদের বাড়িতে হানা দিয়ে কোনও ওয়ারেন্ট, রিমান্ড অর্ডার বা এফআইআরের অনুলিপি দেখায়নি।
আটককৃতদের মধ্যে অনেকের কাছে আধার কার্ড, ভোটার কার্ড, এমনকি নির্বাচন কমিশনের বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা এসআইআরের ভোটার তালিকাভুক্ত বৈধ কাগজপত্র থাকা সত্ত্বেও তা আমলে নেওয়া হয়নি।
মুর্শিদাবাদের রামকান্তপুর গ্রামের ইব্রাহিম শেখের পরিবারের সদস্যরা জানান, গত মাসে একদল পুলিশ পরিচয়ে তাদের বাড়িতে ঢুকে নাগরিকত্বের নথি দেখতে চায় এবং ‘বাংলাদেশি না ভারতীয়’- তা নিয়ে প্রশ্ন করে। পরে ষাটোর্ধ্ব অসুস্থ ইব্রাহিমকে জোরপূর্বক তুলে নিয়ে যাওয়া হয়।
পরিবারের পক্ষ থেকে কলকাতা হাইকোর্টে হেবিয়াস কর্পাস পিটিশন দাখিল করা হলেও পুলিশের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে যে, এই পদক্ষেপ সরকারি নির্বাহী আদেশের নির্দেশিকা অনুযায়ী নেওয়া হয়েছে।
এছাড়া উত্তর দিনাজপুর ও মুর্শিদাবাদের অন্যান্য পরিবার থেকেও একই কায়দায় গভীর রাতে মানুষজনকে তুলে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে।
এমনকি কোথাও কোথাও আটককৃতদের পুশ-ব্যাক বা সীমান্ত পেরিয়ে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানোর চেষ্টা ব্যর্থ হওয়ার পর পুলিশের পক্ষ থেকে স্বতঃপ্রণোদিত মামলা দায়েরের ঘটনাও ঘটেছে।
মানবাধিকার সংগঠন ও আইনজীবীরা বলছেন, নাগরিকদের এভাবে আটক করা মৌলিক অধিকারের চরম লঙ্ঘন, কারণ কোনও সুনির্দিষ্ট তদন্ত বা আইনি প্রক্রিয়া ছাড়া এই পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।
সূত্র: স্ক্রল ডট ইন
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন