প্রধান কার্যালয়ঃ ৩-ডি, কাব্যকস ভবন, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি- ২০৪৪৭৪/২০২৫
ফোন:- 02224458547-01339-314085
ই-মেইল- crimebd2025@gmail.com
ট্রেনের ময়লার ঝুড়িতে দুটি জর্দার কৌটা তিনি পেয়েছিলেন। তিনি শাশুড়ির জন্য এগুলো নিজের কাছে রেখেছিলেন, কারণ শাশুড়ি জর্দা পছন্দ করেন। পরে একটি কল পেয়ে কৌটা খুলে দেখেন, এতে সোনার অলংকার ও টাকা রয়েছে। তবে মো. মোশারফ হোসেন সিদ্ধান্ত নেন, এ সমস্ত মালিকের কাছে ফেরত দেবেন। কয়েক ঘণ্টার মধ্যে তিনি তা ফেরতও দিয়েছেন।
বুধবার (১৫ জুলাই) চট্টগ্রাম থেকে ছেড়ে আসা ঢাকাগামী মহানগর গোধূলি ট্রেনে যাত্রী একটি সোনার চেইন ও টাকা ফেলে যান। স্টুয়ার্ড গার্ড মোশারফ হোসেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা শহরের কাউতলী এলাকা থেকে এসেছেন। এর জন্য তিনি প্রশংসা পাচ্ছেন।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে অনেকেই তাকে নিয়ে কথা বলছেন এবং প্রশংসা করছেন। ঘটনাটি শুরু হয় ১৫ জুলাই সন্ধ্যায়। চট্টগ্রাম থেকে ঢাকাগামী মহানগর গোধূলি ট্রেনের খাবার গাড়িতে থাকা এক নারী যাত্রী ময়লার ঝুড়িতে দুটি জর্দার কৌটা ফেলে যান। ওই নারী কৌটাগুলো খালি মনে করে ফেলেন।
ওই দুই কৌটার একটিতে ছিল সোনার চেইন এবং অন্যটিতে নগদ দুই হাজার টাকা। ট্রেনে চলাচলের সময় নিরাপত্তার স্বার্থে জর্দার কৌটায় সোনার অলংকার ও টাকা রাখা হয়েছিল, কিন্তু ওই নারী বিষয়টি ভুলে গিয়েছিলেন।
এদিকে, যাত্রী কিশোরগঞ্জের ভৈরব রেলওয়ে স্টেশনে নেমে যান এবং বাড়িতে যাওয়ার পর নিজের ভুল বুঝতে পারেন। এরপর ট্রেনে জরিমানা গুনতে গিয়ে টিকিটের গায়ে একটি ফোন নম্বর দেখতে পান। সেই নম্বরে কল করার পর হারিয়ে যাওয়া জিনিসের সন্ধান পান তিনি।
মোশারফ হোসেন বলেন, বুধবার রাতে আমি আম খেয়ে খোসা ময়লার ঝুড়িতে ফেলতে গিয়ে দেখি জর্দার কৌটা পলিথিন মোড়ানো। কারণ আমার শাশুড়ি জর্দা পছন্দ করেন, তাই এগুলো রাখি। এর মধ্যেই ফোন আসে সোনা ও টাকা হারিয়ে যাওয়ার বিষয়ে। আমি জানাই, এমন কিছুই পাইনি। তখন বলা হয়, জর্দার কৌটায় এসব ছিল। আমি জানিয়ে দিই যে কৌটাগুলো আমার কাছে আছে। পরে খুলে দেখে একটি সোনার চেইন ও দুই হাজার টাকা পায়। মহানগর ট্রেনটি রাতে নিশিথা এক্সপ্রেস হয়ে চট্টগ্রামের দিকে ফেরার পথে যাত্রীর স্বজনের কাছে এগুলো বুঝিয়ে দিই।
এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, অন্যের জিনিস আমি কেন রাখব! এটা ফিরিয়ে দিতে পেরে আমি খুব আনন্দিত। আমার খুব ভালো লেগেছে। চাকরি জীবনের প্রায় ২০ বছর চলছে এবং ওই সময়ে আমি আরও যাত্রীর কিছু জিনিসপত্র ফিরিয়ে দিয়েছি।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন