প্রধান কার্যালয়ঃ ৩-ডি, কাব্যকস ভবন, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি- ২০৪৪৭৪/২০২৫
ফোন:- 02224458547-01339-314085
ই-মেইল- crimebd2025@gmail.com
একটি বেসরকারি আর্থিক প্রতিষ্ঠানের লোন অফিসারকে হানিট্র্যাপের ফাঁদে ফেলে ফ্ল্যাটে নিয়ে মারধর এবং আপত্তিকর ভিডিও ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দিয়ে টাকা আদায়ের অভিযোগে পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করেছে ডিবি।
সোমবার (৬ জুলাই) রাজধানীর মিন্টো রোডে ডিএমপির গণমাধ্যম ও জনসংযোগ কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান ডিবি-সাইবার অ্যান্ড স্পেশাল ক্রাইম (দক্ষিণ) বিভাগের উপকমিশনার তরিকুল ইসলাম।
গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিরা হলেন মো. আনোয়ার হোসেন (৪৫), বদিউজ্জামান শাহীন (৪৫), মরিয়ম (৪৯), শাহাদাত হোসেন (৫৮) এবং উর্মী বেগম (৩৯)।
ডিবি বলছে, এই পাঁচজন একটি সংঘবদ্ধ চক্রের সদস্য। তারা ‘হানিট্র্যাপ’ (ঘনিষ্ঠতার প্রলোভন দেখিয়ে ফাঁদে ফেলা) করে মানুষকে জিম্মি করে। তাদের বিরুদ্ধে দেশের বিভিন্ন থানায় একাধিক মামলা আছে। একটি মামলার তদন্তের ভিত্তিতে গত শুক্র-শনিবার রাজধানীর সবুজবাগ, বাড্ডা ও খিলগাঁও এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। তাদের কাছ থেকে নয়টি মুঠোফোন, একটি ওয়াকি-টকি এবং চার হাজার টাকা উদ্ধার করা গেছে।
ডিবির কর্মকর্তা তরিকুল ইসলাম জানিয়েছেন, একটি বেসরকারি আর্থিক প্রতিষ্ঠানের একজন ঋণ বিতরণকারী কর্মকর্তা পেশাগত কাজে গত ১৫ এপ্রিল রামপুরার দক্ষিণ বনশ্রীর একটি মার্কেটে যান। সেখানে একটি নারী নিজেকে ঋণগ্রহীতা পরিচয় দিয়ে তার সঙ্গে পরিচিত হন এবং কর্মকর্তার ভিজিটিং কার্ড সংগ্রহ করেন।
কিছুদিন পর, মোবাইলফোনে যোগাযোগের মাধ্যমে ওই নারী কর্মকর্তার সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে তুলে। এক পর্যায়ে বনশ্রীর একটি হাসপাতালের সামনে দেখা করার প্রস্তাব দেন। নির্ধারিত স্থানে পৌঁছানোর পর, অপর একটি নারী তাকে রিকশায় করে বিভিন্ন গলি ঘুরিয়ে খিলগাঁও থানা এলাকার একটি ফ্ল্যাটে নিয়ে যান।
ঘটনার বিস্তারিত অনুযায়ী, কর্মকর্তা ফ্ল্যাটে প্রবেশের কিছুক্ষণ পরে আরও চারজন সেখানে হাজির হন। তারা কর্মকর্তাকে মারধর করে এবং পরবর্তীতে এক নারীকে সঙ্গে নিয়ে আপত্তিকর অবস্থার ভিডিও ধারণ করা হয়। একই সময় তার মুঠোফোন, মানিব্যাগ, নগদ অর্থ, ব্যাংকের এটিএম কার্ড, জাতীয় পরিচয়পত্র, ড্রাইভিং লাইসেন্স, মোটরসাইকেলের রেজিস্ট্রেশনসহ গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র জোর করে নিয়ে নেওয়া হয়।
পরে, চক্রটি ভুক্তভোগীর কাছে তিন লাখ টাকা দাবি করে এবং তার ব্যাংক হিসাব থেকে মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসেস (এমএফএস) মাধ্যমে মোট ১ লাখ ১০ হাজার টাকা নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে যে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দিয়ে বিভিন্ন সময় তাকে ব্ল্যাকমেল করা হয়েছে। এ ঘটনায় গত ২২ জুন খিলগাঁও থানায় একটি মামলা করেন ভুক্তভোগী।
ডিবির কর্মকর্তা তরিকুল ইসলাম বলেন, ‘প্রাথমিক তদন্তে এই ভুক্তভোগীর পাশাপাশি একাধিক ব্যক্তিকে একই কৌশলে ফাঁদে ফেলা হয়েছে এবং চক্রটির অপরাধ–কাণ্ডের আলামত প্রাপ্ত হয়েছে।’
গ্রেপ্তার পাঁচজন বর্তমানে পুলিশি রিমান্ডে আছে বলে জানায় ডিবি। তারা বলছে, খিলগাঁও থানার মামলার ঘটনাটিসহ অন্য বিষয়গুলো সম্পর্কিত আরও তদন্ত চলছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন