প্রধান কার্যালয়ঃ ৩-ডি, কাব্যকস ভবন, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি- ২০৪৪৭৪/২০২৫
ফোন:- 02224458547-01339-314085
ই-মেইল- crimebd2025@gmail.com
অ্যানিমেটেড চলচ্চিত্র ‘রিও’ এর মাধ্যমে বিশ্বব্যাপী পরিচিতি অর্জন করা নীল রঙের টিয়া পাখি ‘স্পিক্স ম্যাকাও’। সিনেমার প্রধান দুই চরিত্র ব্লু ও জুয়েল এই বিশেষ প্রজাতির পাখিকে প্রতিনিধিত্ব করে। তবে বাস্তব জীবনে এই দৃষ্টিনন্দন পাখির অবস্থা অত্যন্ত সংকটাপন্ন। বর্তমানে বন্য পরিবেশে স্পিক্স ম্যাকাও আর টিকে নেই।
স্পিক্স ম্যাকাওয়ের বৈজ্ঞানিক নাম Cyanopsitta spixii। আন্তর্জাতিক প্রকৃতি সংরক্ষণ সংস্থা (আইইউসিএন) ২০১৯ সালে এই প্রজাতিটিকে বন্য পরিবেশে ‘বিলুপ্ত’ হিসেবে শ্রেণীবদ্ধ করেছে। এর অর্থ হলো, প্রকৃতিতে মুক্ত অবস্থায় এই প্রজাতির কোনো পাখির অস্তিত্ব নেই।
ব্রাজিলের নির্দিষ্ট কিছু অঞ্চলে একসময় স্পিক্স ম্যাকাওয়ের বিচরণ ছিল। বিশেষ করে শুষ্ক বনাঞ্চলের ক্যারাইবা গাছের ওপর নির্ভর করে তারা বাসা বাঁধত ও বংশবিস্তার করত। কিন্তু সময়ের সঙ্গে ব্যাপক বন উজাড়ের ফলে তাদের প্রাকৃতিক আবাসস্থল ধ্বংস হতে শুরু করে।
এছাড়া, পোষা পাখির আন্তর্জাতিক বাজারে চাহিদার কারণে দীর্ঘদিন ধরে অবৈধ শিকার ও পাচারের শিকার হয় স্পিক্স ম্যাকাও। আবাসস্থল ধ্বংস এবং অবৈধ বাণিজ্য এই দুইয়ের প্রভাবে বন্য পরিবেশে প্রজাতিটির সংখ্যা দ্রুত হ্রাস পায়। ২০০০ সালের পর থেকে বন্য অবস্থায় স্পিক্স ম্যাকাওয়ের কোনো নিশ্চিত অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি।
তবে বন্য পরিবেশে বিলুপ্ত হলেও প্রজাতিটি পুরোপুরি পৃথিবী থেকে হারিয়ে যায়নি। বিভিন্ন সংরক্ষণকেন্দ্র, প্রজননকেন্দ্র ও চিড়িয়াখানায় থাকা পাখিদের নিয়ে চলছে নিয়ন্ত্রিত প্রজনন কর্মসূচি।
এই কর্মসূচির লক্ষ্য হলো স্পিক্স ম্যাকাওয়ের সংখ্যা বাড়িয়ে ভবিষ্যতে তাদের ব্রাজিলের আদি আবাসস্থলে পুনরায় অবমুক্ত করা।
সংরক্ষণবিদদের এই উদ্যোগ ইতোমধ্যে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি তৈরি করেছে। তবে একটি স্থিতিশীল ও স্বনির্ভর বন্য জনসংখ্যা প্রতিষ্ঠা করা এখনো দীর্ঘমেয়াদি ও চ্যালেঞ্জিং কাজ।
‘রিও’ সিনেমার মাধ্যমে যে নীল পাখি কোটি মানুষের ভালোবাসা পেয়েছে, তার বাস্তব গল্প তাই অনেকটাই ভিন্ন। স্পিক্স ম্যাকাওয়ের বর্তমান অবস্থা একই সঙ্গে জীববৈচিত্র্য রক্ষা, বন সংরক্ষণ এবং অবৈধ বন্যপ্রাণী বাণিজ্য বন্ধের গুরুত্বও তুলে ধরে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন