প্রধান কার্যালয়ঃ ৩-ডি, কাব্যকস ভবন, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি- ২০৪৪৭৪/২০২৫
ফোন:- 02224458547-01339-314085
ই-মেইল- crimebd2025@gmail.com
যুক্তরাষ্ট্রে স্বাস্থ্যবিমা ছাড়া চিকিৎসা করাতে গিয়ে রোগীরা বড় অঙ্কের বিলের সম্মুখীন হতে পারেন। সরকারি হেলথ ইন্স্যুরেন্স মার্কেটপ্লেসের তথ্য অনুযায়ী, হাসপাতালে তিন দিনের থাকার গড় খরচ প্রায় ৩০ হাজার ডলার। ভাঙা পায়ের চিকিৎসায় খরচ হতে পারে সাড়ে সাত হাজার ডলার। তবে হাসপাতাল, চিকিৎসা এবং রোগীর অবস্থার ওপর ভিত্তি করে খরচের তারতম্য দেখা যায়।
প্রাইমারি কেয়ার চিকিৎসক দেখানো, বিশেষজ্ঞের পরামর্শ, সন্তান প্রসব অথবা অস্ত্রোপচারের জন্য দেশজুড়ে নির্ধারিত কোনো একক মূল্য নেই। হাসপাতালের প্রকাশিত চার্জ, বিমা ছাড়া রোগীর জন্য নির্ধারিত মূল্য এবং আর্থিক সহায়তার পর প্রদেয় অর্থের মধ্যে পার্থক্য থাকতে পারে। হাসপাতাল ও চিকিৎসকের বিল পৃথকভাবে আসতে পারে।
স্বাস্থ্যবিমা ছাড়া চিকিৎসা নিলে রোগীরা নির্ধারিত চিকিৎসার সম্ভাব্য খরচের লিখিত হিসাব চাইতে পারেন। ‘গুড ফেইথ এস্টিমেট’ নামে পরিচিত এই ব্যবস্থায় সাধারণত অন্তত তিন কর্মদিবস আগে চিকিৎসার সময় নির্ধারণ করলে অথবা খরচের হিসাব চাইলে সুবিধাটি প্রযোজ্য হয়।
চূড়ান্ত বিল সম্ভাব্য হিসাবের চেয়ে অন্তত ৪০০ ডলার বেশি হলে নির্ধারিত প্রক্রিয়ায় বিরোধ নিষ্পত্তির আবেদন করা যেতে পারে। তবে জরুরি চিকিৎসার ক্ষেত্রে আগাম এ হিসাব দেওয়ার নিয়ম প্রযোজ্য নয়।
নিউইয়র্ক সিটির বাসিন্দাদের জন্য এনওয়াইসি কেয়ার একটি বিকল্প। এটি স্বাস্থ্যবিমা নয়; বরং বিমার যোগ্য নন বা বিমার খরচ বহন করতে পারেন না, এমন বাসিন্দাদের চিকিৎসাসেবা পাওয়ার কর্মসূচি। এতে মাসিক প্রিমিয়াম নেই। আয় ও পরিবারের সদস্যসংখ্যার ভিত্তিতে সেবার ফি নির্ধারিত হয়, যা শূন্য ডলার থেকেও শুরু হতে পারে। কর্মসূচিটির তথ্য অনুযায়ী, এতে অভিবাসনসংক্রান্ত অবস্থার তথ্য নথিভুক্ত করা হয় না এবং ভাষাগত সহায়তাও রয়েছে।
এ ছাড়া যোগ্যতা অনুযায়ী মেডিকেইড ও এসেনশিয়াল প্ল্যানের মতো স্বাস্থ্যবিমা কর্মসূচিতে যুক্ত হওয়ার সুযোগ রয়েছে। তবে সবার জন্য এসব সুবিধা প্রযোজ্য নয়। নিউইয়র্কের স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, ফেডারেল নীতির পরিবর্তনে ২০২৬ সালের ১ জুলাই থেকে এসেনশিয়াল প্ল্যানের সম্প্রসারিত অংশে থাকা অনেকের অন্য বিমায় যাওয়ার প্রয়োজন হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন এলাকায় কমিউনিটি হেলথ সেন্টারে বিমা থাকুক বা না থাকুক, চিকিৎসা নেওয়া যায়। এসব কেন্দ্রে আয় ও পরিবারের সদস্যসংখ্যার ভিত্তিতে ফি কমানোর ব্যবস্থা রয়েছে। তবে সব কেন্দ্রে একই হারে চিকিৎসা পাওয়া যায় না।
হাসপাতালের বিল পরিশোধে অসুবিধা হলে বিলিং বিভাগ বা আর্থিক পরামর্শকের সঙ্গে যোগাযোগ করা উচিত। যোগ্যতা অনুযায়ী আর্থিক সহায়তা পাওয়া যেতে পারে। তবে সহায়তার পরিমাণ ব্যক্তির পরিস্থিতি ও সংশ্লিষ্ট কর্মসূচির নিয়মের ওপর নির্ভর করে।
প্রেসক্রিপশনের ওষুধ কেনার ক্ষেত্রে গুডআরএক্সের মতো ডিসকাউন্ট সেবার মূল্য তুলনা করা যায়। এটি স্বাস্থ্যবিমা নয় এবং একই ওষুধ কেনার ক্ষেত্রে সাধারণত বিমার সুবিধার সঙ্গে একত্রে ব্যবহার করা যায় না।
জরুরি অবস্থায় খরচের ভয়ে চিকিৎসা বিলম্ব করা ঝুঁকিপূর্ণ। মেডিকেয়ার অর্থায়ন গ্রহণকারী হাসপাতালের জরুরি বিভাগে বিমা না থাকলেও বা অর্থ পরিশোধের সামর্থ্য না থাকলেও জরুরি অবস্থা যাচাই এবং রোগীকে স্থিতিশীল করার প্রয়োজনীয় চিকিৎসা পাওয়ার অধিকার রয়েছে। নাগরিকত্ব না থাকার কারণে এ সেবা প্রত্যাখ্যান করা যায় না।
তবে জরুরি চিকিৎসার অধিকার মানেই চিকিৎসা বিনা মূল্যে পাওয়া নয়। তাই স্বাস্থ্যবিমা না থাকলে চিকিৎসার সম্ভাব্য খরচ, আর্থিক সহায়তার যোগ্যতা এবং কম খরচের বিকল্পগুলো আগেই জেনে নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন