প্রধান কার্যালয়ঃ ৩-ডি, কাব্যকস ভবন, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি- ২০৪৪৭৪/২০২৫
ফোন:- 02224458547-01339-314085
ই-মেইল- crimebd2025@gmail.com
উদ্যোক্তারা দাবি করেছেন, রেকর্ড পরিমাণ প্রবাসী আয়ের ধারা বজায় রাখতে জনশক্তি রফতানির নীতি প্রণয়নে বেসরকারি খাতকে সম্পৃক্ত করা প্রয়োজন। যদি তা না করা হয়, তাহলে রেমিট্যান্স প্রবাহে গতি কমে যেতে পারে এবং সরকারের উন্নয়ন পরিকল্পনাও ব্যাহত হতে পারে। তারা একই সঙ্গে দাবি করেছেন যে প্রবাসীদের পাঠানো অর্থ লাভজনকভাবে বিনিয়োগের সুযোগ তৈরি করতে রেমিট্যান্স বন্ড চালু করা জরুরি। অর্থনীতিবিদরাও মত দিয়েছেন যে, বন্ড, পুঁজিবাজার কিংবা সরকারের উন্নয়ন প্রকল্পে প্রবাসীদের অর্থ বিনিয়োগের জন্য এখনই সমন্বিত পরিকল্পনা নিতে হবে। সদ্য সমাপ্ত অর্থবছরে দেশে ৩ হাজার ৫৫৬ কোটি ২০ লাখ ডলার প্রবাসী আয় এসেছে, যা আগের অর্থবছরের তুলনায় ১৭ দশমিক ৩ শতাংশ বেশি। দেশের ইতিহাসে এক অর্থবছরে এটিই সর্বোচ্চ রেমিট্যান্স প্রবাহ। পুরো বছরজুড়ে প্রতি মাসে ২ বিলিয়ন ডলারেরও বেশি বৈদেশিক মুদ্রা প্রবাসীরা দেশে পাঠিয়েছেন। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, এই ধরনের ধারাবাহিক রেমিট্যান্স প্রবাহ আগে কখনো দেখা যায়নি। গত ডিসেম্বর থেকে মে পর্যন্ত টানা ছয় মাস ৩ বিলিয়ন ডলারের বেশি প্রবাসী আয় দেশে এসেছে, যা বাংলাদেশের ইতিহাসে প্রথম। হুন্ডি কমে আসা এবং প্রবাসী শ্রমিকদের দক্ষতা ও আয় বাড়ার সঙ্গে, তাদের পাঠানো অর্থের লাভজনক বিনিয়োগ নিশ্চিত করতে জনশক্তি রফতানিকারকরা রেমিট্যান্স বন্ড চালুর দাবি করেছেন। বায়রার সাবেক সংস্কৃতি বিষয়ক সম্পাদক মোবারক উল্লাহ শিমুল বলেছেন, সরকার যেহেতু প্রবাসীদের নিয়ে অনেক স্বপ্ন দেখছে এবং বিভিন্ন উদ্যোগের কথা বলছে, তাই রেমিট্যান্স বন্ড চালু করা উচিত। এতে প্রবাসীরা আরও উৎসাহিত হবেন এবং নিজেদের সম্মানিত মনে করবেন। তবুও উদ্যোক্তাদের অভিযোগ, বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ শক্তিশালী করা, ঋণ পরিশোধ এবং আমদানি ব্যয় মেটাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখলেও প্রবাসীরা এখনও যথাযথ মূল্যায়ন পান না। তারা সবাই একযোগে সরকারের প্রতি এই দাবি জানিয়েছেন যে ভবিষ্যতের নীতি ও পরিকল্পনা প্রণয়নের সময় সংশ্লিষ্ট উদ্যোক্তাদেরও সাথে রাখতে হবে। শ্রমবাজার রক্ষা আন্দোলনের আহ্বায়ক মো. আতিকুর রহমান বিশ্বাস বলেছেন, সরকার যদি শ্রমিক পাঠানোর নীতি তৈরির সময় ব্যবসায়ীদের নিয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন, তাহলে সেই নীতির কার্যকারিতা বেড়ে যাবে। অন্যথায়, পূর্বের মতো অনেক উদ্যোগের ব্যর্থতার ঝুঁকি থাকবে। প্রবাসীদের অর্থ বিনিয়োগের জন্য রেমিট্যান্স বন্ড চালুর পক্ষে মত দিয়েছেন অর্থনীতিবিদরাও। তাদের মতে, এটি সরকারের উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে অর্থের জোগান নিশ্চিত করতে সহায়ক হবে। অর্থনীতিবিদ ড. মাহফুজ কবির বলেছেন, এখন এমন উদ্যোগ নেয়ার উপযুক্ত সময়। যদি প্রবাসীদের জন্য আলাদা বন্ড চালু করা যায়, তাহলে তাঁরা স্বেচ্ছায় সেখানে বিনিয়োগ করতে পারবেন। এতে দেশের উন্নয়ন প্রকল্পে অর্থায়ন সহজ হবে, এবং প্রবাসীদের দেশের উন্নয়নের অংশীদার হিসেবে স্বীকৃতি পাওয়া সম্ভব হবে। খাতসংশ্লিষ্টদের মতে, শ্রমবাজার সম্প্রসারণের জন্য দক্ষ জনশক্তি পাঠানোর কোন বিকল্প নেই। এজন্য আরও প্রশিক্ষণ কেন্দ্র গড়ে তোলা, অভিবাসন ব্যয় কমানো এবং জনশক্তি রফতানি খাতকে 'ঝুঁকিপূর্ণ' তালিকা থেকে বের করে সহজ শর্তে ব্যাংক ঋণের ব্যবস্থা করতে সরকারের কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করার প্রয়োজনীয়তা রয়েছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন