প্রধান কার্যালয়ঃ ৩-ডি, কাব্যকস ভবন, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি- ২০৪৪৭৪/২০২৫
ফোন:- 02224458547-01339-314085
ই-মেইল- crimebd2025@gmail.com
দেশব্যাপী শিশু কন্যা ধর্ষণ ও হত্যার প্রতিবাদে ‘আর না ঝরুক শিশুফুল’ স্লোগান নিয়ে ময়মনসিংহে গান, কবিতা এবং ফুটবল খেলার সহযোগে প্রতিবাদী একটি কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে।
শুক্রবার দুপুরে এই কর্মসূচিটি অনুষ্ঠিত হয়। পরম্পড়া নামে একটি সংস্কৃতিক সংগঠন নগরের চর বড়বিলা নীলের কুঠি এলাকার একটি মাঠে এই আয়োজন করে।
আয়োজকদের তথ্য অনুযায়ী, শিশুকন্যা ধর্ষণ ও হত্যা অব্যাহত রয়েছে। দেশব্যাপী এই ধর্ষণখেলায় পিতা-মাতা এবং সমাজে এক ভিন্নরূপের ক্রন্দনরোল চলছে। আছিয়া থেকে রামিসা, আবার রামিসা থেকে নিছামনি, এইভাবে গত চার মাসেই ধর্ষণের শিকার হয়েছে একশোর বেশি শিশুকন্যা। ধর্ষণ ও হত্যার বিচারের দাবিতে খেলাধুলার মাধ্যমে প্রতিবাদ জানাতেই চারদিকে সবুজ নিয়ে ফুটবল খেলার আয়োজন করা হয়। পাশাপাশি আয়োজনে ধর্ষণবিরোধী গান ও কবিতারও উপস্থিতি ছিল।
শিশুরা এবং তরুণরা যে খেলাধুলায় অংশগ্রহণ করছে, এটাই যেন তাদের মধ্যে নারীর প্রতি সহিংসতার বিরুদ্ধে একটি বার্তা পৌঁছে দেয়, এবং সামাজিক সচেতনতা বাড়ায়, এই উদ্দেশ্যে আয়োজনটি করা হয়। চর বড়বিলা নীলের কুঠি গ্রামের কিশোর, তরুণ ও যুবকদের নিয়ে দুটি ক্রিকেট টিম গঠন করা হয় এবং ফুটবল খেলা অনুষ্ঠিত হয়।
খোলা মাঠে ধর্ষণ ও হত্যার শিকার তিন শিশুর ছবি এবং তাদের পাশে ‘হয়তো ওরাও মাঠে থাকতো খেলা দেখতো। ওরা এখন কবরে’ এবং ‘আর না ঝরুক শিশুফুল’ স্লোগান সম্বলিত দুটি প্যানেল স্থাপন করা হয়। শুক্রবার দুপুরে গানের মধ্য দিয়ে ধর্ষণবিরোধী প্রতিবাদের কর্মকাণ্ড শুরু হয়। ‘এ মানুষ মরলে পরে বিচার হবে কার’ গানের মাধ্যমে খেলোয়াড়দের মাঠে নামার প্রস্তুতি করতে দেখা যায়। ফুটবল ম্যাচের উদ্বোধন করেন সাত বছরের একটি শিশুকন্যা। একটি দলে যখন খেলাধুলা চলছিল, অন্য দিকে ধর্ষণবিরোধী গান ও কবিতা পরিবেশিত হচ্ছিল। এতে উপস্থিত ছিলেন শিশু-কিশোর, এবং বয়স্ক লোকজনও।
চরবড়বিলা গ্রামের বাসিন্দা আসকর আলী জানান, চারদিকে যেভাবে ধর্ষণের খবরে আমরা কন্যা শিশুদের নিয়ে সব সময় ভয় ও আতঙ্কের মধ্যে দিন কাটাচ্ছি। আমরা একটি নিরাপদ পরিবেশ চাই।
আয়োজনে গান পরিবেশন করেন স্থানীয় সংগীতশিল্পী খায়রুল ইসলাম (হীরক)। তিনি বলেন, চারদিকে শিশু ও নারী ধর্ষণের খবর। টিভি, পত্রিকার পাতায় এবং ফেসবুক স্ক্রল করলেই ভেসে আসে নারী ও শিশু ধর্ষণের ভয়াবহ ঘটনা। সমাজটা এভাবে এগোতে পারে না। বিকৃত সমাজের মানুষের শাস্তি অবশ্যই হওয়া উচিত।
তিনি আরও বলেন, শাস্তির পাশাপাশি এই ধরনের ঘটনা রোধে সামাজিক আন্দোলন জরুরি। যদি কোনো তরুণ বা ব্যক্তি খেলাধুলা কিংবা সংস্কৃতির সঙ্গে জড়িত থাকে, তাহলে ধর্ষণ ও মাদক গ্রহণ থেকে দূরে থাকবে। আমরা আমাদের গানে গানে আহ্বান জানাচ্ছি সমাজ থেকে ধর্ষকের নাম মুছে ফেলতে।
আয়োজক সংগঠন পরম্পরার সভাপতি শামীম আশরাফ জানালেন, আমরা চাই ধর্ষণের বিরুদ্ধে সারা দেশের মানুষ একত্রিতভাবে গর্জে উঠুক। বিশ্বকাপ ফুটবলের মৌসম শুরু হয়েছে। ফুটবল মাঠ থেকেও প্রতিবাদ ওঠুক। আমাদের শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হোক। শুধু আলোচিত ঘটনার দ্রুত বিচার নয়, বরং সকল ধর্ষণ ও হত্যার বিচার দ্রুততার সাথে করা হোক।
ধর্ষণবিরোধী ফুটবল খেলা শেষে দুই দলের মধ্যে দুটি নিম গাছের চারা বিতরণ করেন কবি আলিমুল কারিগর। তিনি বলেন, নিম গাছ প্রকৃতিতে অত্যন্ত নির্মল ও বিশুদ্ধ বায়ু দেয়। নিম গাছের বায়ুর মতো আমাদের সমাজও বিশুদ্ধ হোক এবং ধর্ষণ বন্ধ হোক এই কামনা করি।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন