প্রধান কার্যালয়ঃ ৩-ডি, কাব্যকস ভবন, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি- ২০৪৪৭৪/২০২৫
ফোন:- 02224458547-01339-314085
ই-মেইল- crimebd2025@gmail.com
বিজ্ঞানীরা নতুন একটি গ্রহের সন্ধান পেয়েছেন, যা মৃত নক্ষত্রের ধ্বংসাবশেষ থেকে তৈরি হয়েছে—এমন সম্ভাবনার প্রথম প্রমাণ এটি। মহাবিশ্বের বুকে নক্ষত্রের জন্ম ও মৃত্যুর চক্র একটি অবিরাম প্রক্রিয়া। একটি নক্ষত্রের ধ্বংস মানে সবকিছু শেষ হয়ে যাওয়া নয়। এবার বিজ্ঞানীরা নক্ষত্রের ধ্বংসাবশেষ থেকে উদ্ভূত একটি অদ্ভুত গ্রহের সন্ধান পেয়েছেন। এই গ্রহটি মহাবিশ্বে গ্রহ তৈরির প্রচলিত ধারণাকে সম্পূর্ণরূপে পরিবর্তন করার পাশাপাশি জ্যোতির্বিজ্ঞানে নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছে, এমন দাবি করেছেন তারা। নেচার অ্যাস্ট্রোনমি সাময়িকীতে প্রকাশিত গবেষণার ফলাফল প্রমাণ করে যে, একটি নক্ষত্রের মৃত্যু মানে তার সবকিছুর শেষ হয়ে যাওয়ার বিষয় নয়।
ফিনিক্স প্ল্যানেট নামক গ্রহটি মৃত নক্ষত্রের ধ্বংসাবশেষ থেকে তৈরি হয়েছে। এইচএস ০২০৯ প্লাস ০৮৩২ হোয়াইট ডোয়ার্ফ বা শ্বেতবামনের আলো বিশ্লেষণ করে বিজ্ঞানীরা গ্রহটি শনাক্ত করেছেন। ইউনিভার্সিটি অব ওয়ারউইকের পদার্থবিদ্যার অধ্যাপক বরিস গ্যানসিক এ বিষয়ে বলেন, "এই গ্রহ অন্য কোথাও থেকে আসেনি বা পুরোনো সিস্টেমের কোনো বেঁচে থাকা অংশও নয়। এটি তার মৃত নক্ষত্রের উপাদান দিয়েই তৈরি হয়েছে।"
ইউরোপিয়ান রিসার্চ কাউন্সিলের অর্থায়নে ইউনিভার্সিটি অব ওয়ারউইকের বিজ্ঞানীরা গ্রহটির গঠন ও নক্ষত্র ধ্বংসের পর কিভাবে গ্রহটি তৈরি হয়েছে, তা জানার চেষ্টা করছেন। ইউনিভার্সিটি অব ওয়ারউইকের বিজ্ঞানী জেমি উইলিয়ামস জানিয়েছেন, "দ্বিতীয় প্রজন্মের এই সব গ্রহ–নক্ষত্রের মৃত্যুর সময় নিক্ষিপ্ত পদার্থ থেকেই তৈরি হয়।" শ্বেতবামনের চারপাশে এমন গ্রহ খুঁজে পাওয়া সম্পূর্ণ অপ্রত্যাশিত ছিল। একে এমন একটি গ্রহ হিসেবে বর্ণনা করা হচ্ছে, যা তার নিজের পূর্বে প্রদক্ষিণ করা মৃত নক্ষত্রের ছাই থেকে পুনর্জন্ম লাভ করেছে। যখন সূর্যের মতো নক্ষত্রগুলোর জ্বালানি শেষ হয়ে যায়, তখন তারা বিশাল লাল দানব বা রেড জায়ান্টে পরিণত হয় এবং আশপাশের গ্রহগুলোকে গ্রাস করে গ্যাস ও ধূলিকণার বিশাল মেঘ মহাকাশে ছড়িয়ে দেয়। কেন্দ্রের দিকে তখন শুধুমাত্র একটি ঠান্ডা ও ঘন নক্ষত্রের অবশেষ বা শ্বেতবামন রয়ে যায়।
বিজ্ঞানীদের তথ্যমতে, সাধারণত নক্ষত্রের মৃত্যুর সময় নিক্ষিপ্ত পদার্থ মহাশূন্যে হারিয়ে যায়। তবে এই বিশেষ ক্ষেত্রে মহাকর্ষ বল সেই নিক্ষিপ্ত গ্যাস মেঘের একটি অংশ ধরে রাখতে সাহায্য করেছে। ফলে অবশিষ্ট উপাদানগুলো হোয়াইট ডোয়ার্ফ নক্ষত্রের চারপাশে একটি ঘূর্ণমান চাকতিতে পরিণত হয়, যা নতুন শিলা ও গ্যাস জমা হওয়ার জন্য এক ধূলিময় আঁতুড়ঘর তৈরি করে। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সেই ধ্বংসাবশেষ থেকেই একটি পূর্ণাঙ্গ দ্বিতীয় প্রজন্মের গ্রহ তৈরি হয়েছে। উইসকনসিন-ম্যাডিসন ইউনিভার্সিটির অ্যাস্ট্রোনমি বিভাগের বিজ্ঞানী নিকোলাস স্টোন বলেন, "এই উপাদান বিন্যাস এস-প্রসেস বা ভারী মৌল তৈরি প্রক্রিয়ার একটি সুস্পষ্ট লক্ষণ, যা সাধারণ প্রথম প্রজন্মের কোনো গ্রহের মধ্যে থাকার কথা নয়।"
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন