প্রধান কার্যালয়ঃ ৩-ডি, কাব্যকস ভবন, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি- ২০৪৪৭৪/২০২৫
ফোন:- 02224458547-01339-314085
ই-মেইল- crimebd2025@gmail.com
মো. সাদ্দাম হাওলাদার নামের এক বিএনপি নেতা সৌদি আরবে পবিত্র কাবা শরিফের সামনে দাঁড়িয়ে রাজনীতি ছাড়ার ঘোষণা দিয়েছেন।
সোমবার (৩১ আগস্ট) তিনি নিজের ফেসবুক আইডি থেকে একটি ভিডিও পোস্ট করেন, যেখানে পবিত্র কাবা শরিফকে সাক্ষী রেখে রাজনীতি ছাড়ার কথা জানান। ভিডিওর কমেন্টে তিনি বিএনপির রাজনীতি ছাড়ার ঘোষণা দিয়ে একটি দীর্ঘ স্ট্যাটাসও লিখেছেন, যা দ্রুত ভাইরাল হয়ে যায়।
মো. সাদ্দাম হাওলাদার বর্তমানে জিয়া সাইবার ফোর্সের বরিশালের আগৈলঝাড়া উপজেলা শাখার সহ-সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি বিএনপির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সাংগঠনিক পদ ও রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড থেকেও পদত্যাগের ঘোষণা দিয়েছেন।
সাদ্দাম হোসেনের এমন সিদ্ধান্তের পেছনে অন্য কোনো রহস্য রয়েছে কিনা, সে ব্যাপারে জানতে চাওয়া হলেও সৌদি আরবে অবস্থান করায় তার বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।
ফেসবুকে পোস্টে সাদ্দাম হাওলাদার লেখেন, ‘আসসালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহ। প্রিয় বাংলাদেশ, প্রিয় মাতৃভূমি, প্রিয় জন্মভূমি বরিশালের গৌরনদী-আগৈলঝাড়াবাসী আপনারা সবাই কেমন আছেন? আশা করি সবাই ভালো আছেন, আমিও আল্লাহর অশেষ রহমতে ও আপনাদের দোয়া এবং ভালোবাসায় অনেক ভালো আছি। শুকরিয়া, আলহামদুলিল্লাহ্।’
তিনি আরও উল্লেখ করেন, ‘আপনারা সবাই অবগত আছেন যে, বাংলাদেশের বৃহত্তম দল বিএনপির সঙ্গে দীর্ঘদিন যাবত আমি, বাবা ও চাচাসহ আমার পরিবার বংশের ৯০% সবাই এই দলের সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলাম।
আমি মো. সাদ্দাম হাওলাদার জাতীয় উপ-নির্বাচন কমিটির (সাবেক) সদস্য ও ৪নং মডেল গৈলা ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক দলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক প্রার্থী ও একজন একটিভ সদস্য এবং বর্তমানে আগৈলঝাড়া উপজেলা জিয়া সাইবার ফোর্সের সহ-সভাপতি দায়িত্বরত অবস্থায় আছি।’
তিনি আরও লেখেন, ‘আপনারা সবাই জানেন, বর্তমানে আমি একজন সৌদি প্রবাসী ও রেমিটেন্সযোদ্ধা, বাংলাদেশের বর্তমান রাজনীতি প্রেক্ষাপটে আমার দ্বারা রাজনীতি করা সম্ভব নয়। আমরা বই পুস্তকে পড়েছিলাম রাজনীতি হল জনগণের সেবা করা, এখন দেখছি ভিন্ন।’
সাদ্দাম হাওলাদার বলেন, ‘হাজারো কথা/অভিযোগ থাকলেও দলের প্রতি আমার বিন্দু পরিমাণ কোনো অভিযোগ নেই। আমি শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের আদর্শে অনুপ্রাণিত মরহুমা দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে ভালোবাসি, ভালোবাসি দেশ নায়ক তারেক রহমানের সৎ ও যোগ্য ব্যক্তিকে, ভালোবাসি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলকে।
আমি কোনো বড় রাজনীতিবিদ না বা ত্যাগী নেতাকর্মী নই, আমার চাইতে হাজারো লক্ষ কোটি নেতাকর্মী এখন দলের কাছে বোঝা ও অবহেলিত। তাই আমি স্ব-সম্মানে সজ্ঞানে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল নামক সব রাজনীতি থেকে দূরে সরে যাচ্ছি এবং পদত্যাগ করলাম।’
তিনি উল্লেখ করেন, ‘আজকের পর থেকে আমি কোনো দলের সঙ্গে সম্পৃক্ত নই। আল্লাহতায়ালার ঘর পবিত্র কাবা শরিফকে সামনে রেখে তওবা করলাম, সবাই আমার জন্য দোয়া করবেন এবং আমার রাজনৈতিক জীবনে যদি জানা/অজানা কাউকে বিন্দু পরিমাণ কষ্ট দিয়ে থাকি তাহলে আমাকে আপনাদের কারো ছেলে, ভাই, বন্ধু বা সন্তান হিসেবে ক্ষমা করে দেবেন। আমি সবার কাছে বিনয়ের সঙ্গে মাফ চাই।’
শেষে তিনি বিশেষ দ্রষ্টব্য দিয়ে লেখেন, ‘রাজনীতি ছিল আমার আবেগ ও মনের খোড়াক, ভেবেছিলাম জনগণের সেবা করব। তবে সেটা রাজনীতি দিয়ে হইলো না, তবে রাজনীতির বাইরেও যে মানব সেবা করা যায়, সেটা আমি সাদ্দাম প্রমাণ করে দিবে, আল্লাহ ভরসা। বিগত দিনে যেমন অসহায় হতদরিদ্র মানুষের পাশে সর্বদা ছিলাম, ভবিষ্যতে আমার সর্বোচ্চটা দিয়ে চেষ্টা করব, ইনশাআল্লাহ।’
এ বিষয়ে আগৈলঝাড়া উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব মোল্লা বশির আহমেদ পান্না বলেন, বিষয়টি আমার জানা নেই। তাছাড়া সাদ্দাম হাওলাদার দীর্ঘদিন থেকে সৌদি আরবে রয়েছেন। কারো সঙ্গে কোনো ধরনের বিরোধ থেকে সাদ্দাম হাওলাদার ক্ষোভের কারণে এ সিদ্ধান্ত নিয়েছেন কিনা, বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে।
তিনি আরও বলেন, পাশাপাশি সাদ্দাম হাওলাদার লিখিতভাবে কোনো পদত্যাগপত্র না পাঠিয়ে কি কারণে ফেসবুকে ভিডিও ছেড়ে বিভ্রান্তির সৃষ্টি করেছেন, সে ব্যাপারেও খোঁজখবর না নিয়ে বিস্তারিত বলা যাবে না।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন