প্রধান কার্যালয়ঃ ৩-ডি, কাব্যকস ভবন, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি- ২০৪৪৭৪/২০২৫
ফোন:- 02224458547-01339-314085
ই-মেইল- crimebd2025@gmail.com
রাজধানীর মিরপুরে রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারে (মা ও শিশুস্বাস্থ্য কেন্দ্র) ভাঙচুরের ঘটনার পর পদত্যাগ করেন সংসদ সদস্য ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টি। নির্বাচন কমিশন (ইসি) সংরক্ষিত নারী আসনে উপনির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করেছে।
ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী, আগামী ১২ নভেম্বর সংরক্ষিত নারী আসনের ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। ১২ অক্টোবর সোমবার এ উপনির্বাচনের তফসিল প্রকাশ করে ইসি।
ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টির পদত্যাগের পর, ওই আসনে পরবর্তী সংসদ সদস্য কে হচ্ছেন, তা নিয়ে বিএনপির নেতা-কর্মীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনা চলছে। সাবেক সংসদ সদস্য, কেন্দ্রীয় নেত্রী, অঙ্গসংগঠনের নেত্রী এবং জেলা পর্যায়ের সংগঠকদের অনেকেই মনোনয়ন পাওয়ার জন্য তৎপরতা চালাচ্ছেন।
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, সংরক্ষিত নারী আসনে মনোনয়নপ্রত্যাশীদের তালিকায় বিএনপির পরিচিত ও অভিজ্ঞ নেত্রীদের পাশাপাশি দীর্ঘদিনের আন্দোলন-সংগ্রামে সক্রিয় অনেক নেত্রী রয়েছেন। তাদের মধ্যে কেউ কেউ আগে সংরক্ষিত আসনে মনোনয়ন চেয়েও পাননি, আবার কেউ সরাসরি নির্বাচনে দলীয় মনোনয়ন পাওয়ার চেষ্টা করেছিলেন। মিষ্টির পদত্যাগের ফলে নতুন সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে বলে মনে করছেন তারা।
বিএনপির দায়িত্বশীল নেতাদের মতে, বর্তমানে দল রাষ্ট্রক্ষমতায় থাকায় সংসদ সদস্য হওয়ার আগ্রহীদের সংখ্যা বেড়েছে। পরিচিত নেত্রীদের বাইরেও অনেকে কেন্দ্রীয় নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ করছেন এবং বিভিন্নভাবে মনোনয়ন পাওয়ার চেষ্টা চালাচ্ছেন। তবে, শূন্য আসনে কাকে মনোনয়ন দেওয়া হবে, সে বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। বিএনপির পাশাপাশি জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেত্রীদের মধ্যেও এ নিয়ে আগ্রহ রয়েছে।
উল্লেখ্য, গত ২৪ সেপ্টেম্বর রাজধানীর মিরপুরে রাড্ডা স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রে হামলা, লুটপাট ও ভবন গুঁড়িয়ে দেওয়ার ঘটনায় ঘনিষ্ঠ ব্যক্তিদের নাম আসার পর রাজনৈতিক দায় নিয়ে প্রশ্নের মুখে পড়েন মিষ্টি। প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নির্দেশনার পর গত ১ অক্টোবর স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের কাছে পদত্যাগপত্র জমা দেন তিনি। তবে, হামলা ও ভাঙচুরে নিজের সম্পৃক্ততার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন মিষ্টি।
মিষ্টির পদত্যাগের ফলে তার সংরক্ষিত নারী আসনটি এখন শূন্য অবস্থায় রয়েছে। নিয়ম অনুযায়ী, সরাসরি ভোটে নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের আনুপাতিক হারে রাজনৈতিক দলগুলো সংরক্ষিত নারী আসন পেয়ে থাকে। ফলে শূন্য হওয়া আসনটি বিএনপির ভাগে পড়েছে। দলটি ঠিক করবে, নতুন করে কে সংসদে প্রতিনিধিত্ব করবেন।
জাতীয় সংসদ (সংরক্ষিত মহিলা আসন) নির্বাচন আইন, ২০০৪-এর ২৭ ধারা অনুযায়ী, আসন শূন্য হওয়ার ৯০ দিনের মধ্যে উপনির্বাচন আয়োজনের বিধান রয়েছে। সেই বিধান অনুসারে, আগামী ১২ নভেম্বর সংরক্ষিত নারী আসনে ভোটগ্রহণ হবে বলে ঘোষণা করেছে নির্বাচন কমিশন।
এবার বিএনপির মনোনয়নে ৩৬ জন সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। গত ৩০ এপ্রিল তাদের নির্বাচিত হওয়ার গেজেট প্রকাশিত হয় এবং ৩ মে তারা শপথ নেন। দায়িত্ব নেওয়ার পাঁচ মাসের মধ্যেই সংসদ সদস্য পদ ছাড়েন মিষ্টি।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন