প্রধান কার্যালয়ঃ ৩-ডি, কাব্যকস ভবন, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি- ২০৪৪৭৪/২০২৫
ফোন:- 02224458547-01339-314085
ই-মেইল- crimebd2025@gmail.com
চাঁপাইনবাবগঞ্জের সীমান্তবর্তী একটি সড়ক একই দিনে দুইবার উদ্বোধনের ঘটনা ঘটেছে। জামায়াতের বর্তমান এমপি সকালে সড়কটির নির্মাণ কাজ উদ্বোধন করেছেন, আর বিকেলে বিএনপির সাবেক এমপি পুনরায় উদ্বোধন করেছেন। এ নিয়ে তীব্র সমালোচনা শুরু হয়েছে। স্থানীয়দের মতে, রাজনৈতিক দ্বন্দ্বের কারণে এমন উদ্বোধন এবং পাল্টা উদ্বোধনের ঘটনা ঘটেছে। তবে এলজিইডি জানাচ্ছে, কোনটিই আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন নয়।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার চরবাগডাঙ্গা ইউনিয়নের বাখের আলী বিওপি ক্যাম্প থেকে ফরিদপুর বিওপি ক্যাম্প পর্যন্ত সড়ক নির্মাণের কাজ স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর-এলজিইডি শুরু করেছে। তিন কিলোমিটার ৫৫০ মিটার সড়ক নির্মাণে ব্যয় ধরা হয়েছে ৩ কোটি ৯৪ লাখ ৪০ হাজার ৫৩১ টাকা। সড়কটি নির্মিত হলে সীমান্তবর্তী এলাকায় বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ-বিজিবির টহল এবং সীমান্তে নজরদারিতে সুবিধা হবে, পাশাপাশি পদ্মা নদী তীরবর্তী এলাকার মানুষের যাতায়াত সহজ হবে।
এদিকে, কাজ কয়েকদিন আগে থেকেই শুরু হলেও রোববার (০১ নভেম্বর) সকালে সড়কটির নির্মাণকাজ উদ্বোধন করেন চাঁপাইনবাবগঞ্জ-৩ আসনের বর্তমান সংসদ সদস্য ও ঢাকা দক্ষিণ মহানগর জামায়াতের আমীর নুরুল ইসলাম বুলবুল। একই দিনে বিকেলে সেই সড়কটির পুনরায় উদ্বোধন করেন বিএনপির সাবেক এমপি, বিএনপি চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা ও জেলা পরিষদের প্রশাসক হারুনুর রশীদ।
উদ্বোধনের সময় সকাল ও বিকেলে এনিয়ে পাল্টাপাল্টি সমালোচনা করতে দেখা যায় বর্তমান এবং সাবেক এমপিকে। তবে এলজিইডির কর্মকর্তারা জানাচ্ছেন, বর্তমান বা সাবেক এমপি উদ্বোধন করলেও কোনটিই আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন নয়। সাবেক ও বর্তমান এমপি উদ্বোধন দাবি করলেও সড়কটির নির্মাণকাজ প্রায় দুই সপ্তাহ আগে থেকেই শুরু হয়েছে বলে জানা গেছে।
সকালে এমপি বুলবুল উদ্বোধনের সময় স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের নামসহ ব্যানার থাকলেও বিকেলে সাবেক এমপি হারুনুর রশীদ উদ্বোধন করার সময় তা ছিল না। সাবেক এমপি হারুনুর রশীদ ফিতা কেটে উদ্বোধন করেন। তবে এলজিইডির কর্মকর্তা এবং ঠিকাদার উভয় সময়েই উপস্থিত ছিলেন।
এ বিষয়ে মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করলেও চাঁপাইনবাবগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য ও ঢাকা দক্ষিণ মহানগর জামায়াতের আমীর নুরুল ইসলাম বুলবুলকে পাওয়া যায়নি। তবে উদ্বোধন শেষে মতবিনিময় সভায় তিনি বলেন, ‘আপনি (হারুনুর রশীদ) যদি চান চাঁপাইনবাবগঞ্জে যত ভালো কাজ হবে, এর উদ্বোধনে আমার সাথে থাকতে চান, ওয়েলকাম, আপনি থাকবেন আমার সাথে। কারণ আমি সহযোগিতা ও সহমর্মিতার সঙ্গে জেলাকে সবাই মিলে এগিয়ে নিতে চাই। সুতরাং, আমি যেই কাজ উদ্বোধন করব, আপনি আমার সাথে থাকেন কোনো অসুবিধা নাই। আপনি জেলা পরিষদের প্রশাসক, সেই বরাদ্দ নিয়ে থাকেন। আপনার যে বরাদ্দ আসবে, কী বাজেট আসছে আপনি কোন খাতে খরচ করছেন এবং করবেন, সেটি জেলা পরিষদের উপদেষ্টা হিসেবে খোঁজ-খবর নেয়ার দায়িত্ব এমপির আছে। এটি শুধু আমার একার নয়, সারা বাংলাদেশের সকল এমপির আছে। সুতরাং আপনার তদারকি করা আমার দায়িত্ব। কিন্তু আমার কোনো কাজের দিকে তাঁকানো আপনার দায়িত্ব না।’
তিনি আরও বলেন, ‘আগামী ৫ বছরে চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর আসনে যা কাজ হবে, তার সব কাজের দায়িত্ব হচ্ছে এমপির। যেটা এমপির কাজ, এমপিকে করতে দিবেন। ৬২ হাজার ৬১৯ ভোট বেশি পেয়ে আমি নির্বাচিত হয়েছি, এতগুলো মানুষ আমাকে আপনার থেকে বেশি সমর্থন দিয়েছে। আপনার ভোট আপনি কিভাবে পেয়েছেন, সেটি জনগণ জানে। জনগণের কোনো অধিকার নিয়ে আপনি (সাবেক এমপি ও বিএনপি নেতা হারুনুর রশীদ) হউন আর যেই হউন ছিনিমিনি খেললে জনগণকে সাথে নিয়ে তা প্রতিহত করব। এখানে এলজিইডির কাজ হবে, আর আপনি উদ্বোধন করবেন। আমার কাজ, আর আপনি উদ্বোধন করবেন। এই এখতিয়ার আপনাকে কে দিয়েছে, জনগণ দেয়নি।’
একই সড়ক বারবার উদ্বোধনের কারণ জানতে চাইলে চাঁপাইনবাবগঞ্জ-৩ আসনের সাবেক এমপি ও বিএনপি চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা এবং জেলা পরিষদের প্রশাসক হারুনুর রশীদ সময় সংবাদকে বলেন, ‘এনিয়ে এমপি বুলবুলকে প্রশ্ন করুন। তিনিই বলতে পারবেন। আমি নিজে এসব রাস্তা-ঘাটের বরাদ্দ নিয়ে আসছি, আর তিনি (এমপি বুলবুল) গিয়ে উদ্বোধন করছে। বরাদ্দ-প্রকল্প আমি নিয়ে আসছি, আর ব্যানার টাঙিয়ে গিয়ে উদ্বোধন বললেই হলো? এত ছ্যাচড়ামি করার কোন দরকার নাই। একজন এমপির প্রটোকল তাকে বুঝতে হবে। বরাদ্দ নিয়ে আসার সুবাদে আমি সাবেক এমপি ও জেলা পরিষদের প্রশাসক হিসেবে পরিদর্শন বা উদ্বোধন করতেই পারি।’
এদিকে, উদ্বোধন পরবর্তী আলোচনা সভায় সাবেক এমপি ও বিএনপি চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা হারুনুর রশীদ বলেন, ‘আমাদের নতুন এমপিকে (নুরুল ইসলাম বুলবুল) বলব, বহু কাঁচা রাস্তা আছে ভাই, তুমি টাকা বরাদ্দ নিয়ে এসে কাজ করো, তোমার বরাদ্দ আনার ক্ষমতা আমরা দেখতে চাই। মানুষ চাই, এখানে আরও কাজ হোক, উন্নয়ন হোক, কোন অসুবিধা নাই। কথাবার্তা বলার সময় খুব সাবধানে বলবা, উল্টাপাল্টা কথা বললে, জনগণ কিন্তু সেব্যাপারেও ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। এরকম ছ্যাচড়া এমপি আমি দেখিনি। এত ছ্যাচড়া এমপি বাংলাদেশে আর কোথাও আছে কি না আমার জানা নেই। সড়কটি আমার নির্বাচনী প্রতিশ্রুতির অংশ ছিল, বাস্তবায়নেও আমার অনেক সহযোগিতা ছিল।’
সড়ক নির্মাণের ঠিকাদার মো. সেলিম রেজা বলেন, ‘বর্তমান ও সাবেক এমপি উদ্বোধনের দুই সময়ই আমি উপস্থিত ছিলাম। এনিয়ে আমাদের তেমন কোন কার্যক্রম নেই। উদ্বোধন ছাড়াও সরকারের বিভিন্ন পর্যায়ের প্রতিনিধি পরিদর্শনে আসলে, আমাদেরকে থাকতেই হয়। সেই সুবাদেই আমার থাকা।’
এ বিষয়ে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করলেও ফোন রিসিভ করেননি স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর-এলজিইডি চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা কার্যালয়ের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. হারুন অর রশীদ।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলা এলজিইডির প্রকৌশলী মো. আজহারুল ইসলাম জানান, এলজিইডির পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করা হয়নি। এটি হলে আমরা ফলক বসাতাম। কিন্তু তা করা হয়নি। বর্তমান ও সাবেক এমপি দুজনই তদারকির কাজে গেছিলেন। সরকারের বিভিন্ন পর্যায়ের প্রতিনিধিরা পরিদর্শন বা তদারকিতে গেলে আমরা সেখানে উপস্থিত থাকি। চলতি বছরের ডিসেম্বরেই প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হবে বলে জানান তিনি।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন