প্রধান কার্যালয়ঃ ৩-ডি, কাব্যকস ভবন, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি- ২০৪৪৭৪/২০২৫
ফোন:- 02224458547-01339-314085
ই-মেইল- crimebd2025@gmail.com
বন্ধ কারখানা চালু করা এবং স্থবির অর্থনীতি চাঙ্গা করার লক্ষ্যে, বাংলাদেশ ব্যাংকের ঘোষিত ৬০ হাজার কোটি টাকার প্রণোদনা প্যাকেজ বাস্তবায়নে ধীরগতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে। এর মধ্যে, নীতিসহায়তা এবং প্রণোদনা পেতে ব্যাংক বা সরকারের বিরুদ্ধে করা সব মামলা প্রত্যাহারের নতুন শর্তের জন্য বড় বাধা সৃষ্টি হয়েছে। উদ্যোক্তাদের মধ্যে উদ্বেগ রয়েছে যে, যদি আগাম মামলা প্রত্যাহার করা হয় এবং পরে সুবিধা না পাওয়া যায়, তাহলে ভুক্তভোগী গ্রাহকের জন্য আর কোনো আইনি সুরক্ষাকবচ থাকবে না।
চলতি বছরের মে মাসে, বাংলাদেশ ব্যাংক ১৫টি খাতে ৬০ হাজার কোটি টাকার পুনঃঅর্থায়ন এবং নিজস্ব তহবিলের মাধ্যমে প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করেছে। কিছুদিন পর, খেলাপি ঋণ কমানোর লক্ষ্যে বিশেষ ‘এক্সিট পলিসি’ শিথিল শর্তে চালু করেছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা। তবে গত ২৯ জুলাই, একটি প্রজ্ঞাপনে কেন্দ্রীয় ব্যাংক জানায় যে, যেকোনো সুবিধার পূর্বশর্ত হিসেবে গ্রাহককে সরকার, বাংলাদেশ ব্যাংক বা সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের বিরুদ্ধে চলমান রিট পিটিশনসহ সব মামলা হলফনামার মাধ্যমে প্রত্যাহার করতে হবে।
এই শর্ত আরোপের ফলে ব্যবসায়ীদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া এবং চরম উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে। বাংলাদেশ গার্মেন্টস ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিজিএমইএ) সভাপতি মাহমুদ হাসান খান বলেন, ‘মামলা প্রত্যাহারের পর নীতিসহায়তা না মিললে উদ্যোক্তারা সরাসরি খেলাপিতে পরিণত হতে পারেন। আমরা চাই ব্যাংক পর্ষদে নীতিসহায়তার ফাইল অনুমোদিত হওয়ার পর চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত কার্যকরের আগে মামলা প্রত্যাহারের কাগজ জমা নেওয়ার নিয়ম করা হোক।’
তবে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রজ্ঞাপনকে যৌক্তিক মনে করছেন ব্যাংক নির্বাহীরা। অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকার্স বাংলাদেশ (এবিবি) এর চেয়ারম্যান ও সিটি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মাসরুর আরেফিন জানিয়েছেন, আদালতে মামলা ও নীতিসহায়তার আবেদন একত্রে চলতে পারে না। যদি মামলা প্রত্যাহার করা হয়, তাহলে আদালতে মামলার জট কমার পাশাপাশি ব্যাংকগুলোর খেলাপি ঋণও অনেকাংশে কমে যাবে।
ধীরগতির বিষয়টি স্বীকার করে বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক আরিফ হোসেন খান জানিয়েছেন, সার্বিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি বিবেচনায় নীতিসহায়তা বাস্তবায়নে কিছুটা সময় লাগছে। তবে কৃষি ও গ্রামীণ অর্থনীতির প্যাকেজগুলোর গতি অনেক ভালো। উভয় পক্ষ যদি সমঝোতার মানসিকতায় এগোতে পারেন, তবে খেলাপি ঋণ কমার পাশাপাশি অর্থনীতিতেও গতি ফিরবে বলেও তিনি উল্লেখ করেছেন।
উল্লেখযোগ্যভাবে, দেশে চলমান বেসরকারি বিনিয়োগ খরার মধ্যে, সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী চলতি বছরের জুনে বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধি ইতিহাসের সর্বনিম্ন ৪.৪৭ শতাংশে নেমে এসেছে। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) তথ্যমতে, জিডিপি-বেসরকারি বিনিয়োগ অনুপাতও কমে ২১.৫৩ শতাংশে গিয়ে দাঁড়িয়েছে। ব্যবসায়ীদের দাবি, এসব প্রণোদনা ও নীতিসহায়তা দ্রুত বাস্তবায়নে জটিলতা নিরসন করা হোক।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন