প্রধান কার্যালয়ঃ ৩-ডি, কাব্যকস ভবন, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি- ২০৪৪৭৪/২০২৫
ফোন:- 02224458547-01339-314085
ই-মেইল- crimebd2025@gmail.com
ওয়াসার একটি পাম্পে নতুন করে চাবি বসানোর পর থেকেই মিরপুর সাড়ে ১১ নম্বরের বি ব্লকের বাসিন্দারা পানি সংকটে ভুগছেন। অভিযোগ রয়েছে, রহস্যময় সেই চাবির কারণে দীর্ঘদিন পানি সরবরাহ বন্ধ ছিল।
সময় সংবাদের অনুসন্ধানে উঠে এসেছে, চাবির ওই কারসাজিতে এক মাসেরও বেশি সময় এলাকাবাসী পানি থেকে বঞ্চিত ছিলেন। শুধু মিরপুর নয়, এমন আরও কয়েকটি এলাকায় পানি সংকটকে পুঁজি করে ওয়াসার পানিবাহী গাড়ির মাধ্যমে কর্মচারীদের অতিরিক্ত টাকা আদায়ের অভিযোগও পাওয়া গেছে।
মিরপুর সাড়ে ১১ নম্বরের বি ব্লকের বাসিন্দাদের অভিযোগ, দিনের পর দিন কল খুললেও পানি বের হচ্ছে না, শুধুমাত্র বাতাস বের হচ্ছে। এভাবে এক মাসেরও বেশি সময় ধরে শত শত পরিবারকে দুর্ভোগ পোহাতে হয়েছে।
এদিকে, পানি সংকটের সুযোগে বেড়েছে ওয়াসার পানিবাহী গাড়ির চাহিদা। গত জুন মাসে ওয়াসার জোন-১০ এলাকায় প্রায় ৩ হাজার গাড়ির পানির চাহিদা ছিল, যার ৯৫ শতাংশ সরবরাহ করেছে ওয়াসা। একই সময়ে জোন-৪ থেকে সরবরাহ করা হয়েছে আরও এক হাজারের বেশি পানিবাহী গাড়ি।
অভিযোগ রয়েছে, এসব গাড়ি থেকে নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে কয়েক গুণ বেশি টাকা নেওয়া হয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, ৬০০ টাকার পানির জন্য ৮০০ টাকা নেয়া হচ্ছে। আবার তিন গাড়ি পানির জন্য ৩ হাজার টাকা নেয়া হয়েছে। অনেক ক্ষেত্রে চালকরা অতিরিক্ত বকশিশও দাবি করেন।
স্থানীয়রা বলছেন, তৈয়বা মসজিদসংলগ্ন ওয়াসার পাম্পে নতুন চাবি বসানোর পর থেকেই তাদের এলাকায় পানি সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়। অথচ একই পাম্প থেকে পাশের একটি ক্যাম্পে নিয়মিত পানি সরবরাহ করা হচ্ছে।
এক বাসিন্দা জানান, এক মাস ধরে এলাকায় পানি নেই। সামান্য বৃষ্টিতে হাঁটুসমান পানি জমে যায়, কিন্তু বাসায় খাওয়ার পানিও পাওয়া যাচ্ছে না। ওয়াসাকে বারবার জানানো হলেও কোনো সমাধান হয়নি। অথচ পাশের ক্যাম্পে নিয়মিত পানি সরবরাহ হচ্ছে। চাবি বসানোর আগে নিয়মিত পানি পাওয়া গেলেও এরপর থেকে তা বন্ধ হয়ে যায়।
অভিযোগের সত্যতা যাচাই করতে সময় সংবাদ যায় সংশ্লিষ্ট পাম্পে। সেখানে পাম্প অপারেটরও চাবি বসানোর বিষয়টি স্বীকার করেন। তিনি বলেন, একটি চাবি বসানো হয়েছে। তখন কেউ আপত্তি করেনি বা ভিডিওও করেনি। ওই চাবির কারণে তিন ঘণ্টা চলাচল কমে গেছে।
ওয়াসার জোন-১০-এর নির্বাহী প্রকৌশলী জানিয়েছেন, পাম্পের চাবি-সংক্রান্ত জটিলতা দ্রুত সমাধানের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। এলাকার লোকজন সরাসরি তার সঙ্গে যোগাযোগ করলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।
সময় সংবাদ এ বিষয়ে প্রতিবেদন প্রচারের পরদিন থেকেই মিরপুর সাড়ে ১১ নম্বরের বি ব্লকে পানি সরবরাহ স্বাভাবিক হয়। এতে প্রশ্ন উঠেছে, তাহলে কি এতদিন চাবি-সংক্রান্ত জটিলতার কারণেই পানি সরবরাহ বন্ধ ছিল?
তবে প্রায় এক মাস পর একই এলাকায় আবারও পানি সংকট দেখা দিয়েছে। শুধু মিরপুর নয়, কাজীপাড়া, শেওড়াপাড়া, পূর্ব কাফরুল, মধ্য বাড্ডা, রামপুরা ও উত্তরাসহ রাজধানীর বিভিন্ন এলাকার বাসিন্দারাও একই সমস্যায় ভুগছেন।
ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. আমিনুল ইসলাম বলেন, দ্রুত সমস্যা সমাধানে বিভিন্ন পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে। আগামী এপ্রিল থেকে জুনের মধ্যে মেঘনা নদী থেকে প্রতিদিন ৫০ লাখ লিটার পানি পাওয়া যাবে, যার একটি অংশ এসব এলাকায় সরবরাহ করা হবে। তখন এই সংকট আর থাকবে না। তিনি জানিয়েছেন, ভবিষ্যতে সব কার্যক্রমে জনগণকে সম্পৃক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে।
মৌলিক এই সেবার স্থায়ী সমাধান চান এলাকাবাসী। তাদের প্রত্যাশা, কেবল আশ্বাস নয়, চাবি-সংক্রান্ত রহস্যের সমাধান করে দ্রুত স্বাভাবিক পানি সরবরাহ নিশ্চিত করা হবে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন