প্রধান কার্যালয়ঃ ৩-ডি, কাব্যকস ভবন, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি- ২০৪৪৭৪/২০২৫
ফোন:- 02224458547-01339-314085
ই-মেইল- crimebd2025@gmail.com
মাঠের চারপাশে তখন তীব্র উত্তেজনা বিরাজমান। একদিকে ছিল বিবাহিতদের দল, অপরদিকে অবিবাহিতদের দল।
হাডুডুর এই প্রতিযোগিতায় উত্তেজনার পাশাপাশি একটি বিশেষ আকর্ষণ ছিল একই পরিবারের দুই সদস্য—এক দলে বাবা এবং অন্য দলে ছেলে। বাবার উদ্দেশ্য ছিল বিবাহিতদের সম্মান রক্ষা করা, আর ছেলের লক্ষ্য ছিল অবিবাহিতদের হয়ে জয় অর্জন করা। ফলে মাঠে বাবা-ছেলের সম্পর্কটি মুহূর্তেই পরিণত হয় তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতায়।
শুক্রবার (২৮ আগস্ট) বিকেলে মানিকগঞ্জের শিবালয় উপজেলার জমদুয়ারা যুব সংঘের উদ্যোগে এমন একটি ব্যতিক্রমী হাডুডু খেলার আয়োজন করা হয়। গ্রাম বাংলার ঐতিহ্যবাহী এই খেলা দেখতে মাঠের চারপাশে হাজার হাজার নারী ও পুরুষ জমায়েত হন।
আয়োজকরা জানান, এক সময় বর্ষাকালে এক গ্রামের সঙ্গে অন্য গ্রামের মধ্যে প্রতিযোগিতামূলক হাডুডু খেলা অনুষ্ঠিত হতো। তবে কালের পরিবর্তনে আধুনিক খেলাধুলার কারণে জাতীয় খেলা হাডুডু বর্তমানে নতুন প্রজন্মের কাছে অনেকটাই অপরিচিত হয়ে পড়েছে।
সেই ঐতিহ্য পুনরুদ্ধারের জন্য এবারের আয়োজন ছিল কিছুটা ভিন্ন।
খেলায় গ্রামের বয়স্ক ও বিবাহিতরা অংশগ্রহণ করেন এক দলে, অন্যদিকে অবিবাহিত তরুণদের নিয়ে গঠন করা হয় আরেকটি দল। মাঠে দুই প্রজন্মের আক্রমণ-পাল্টা আক্রমণে দর্শকদের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। এর মধ্যেই বিশেষ আকর্ষণ হয়ে ওঠেন বাবা হাফিজুর রহমান হাতেম ও তাঁর ছেলে মো. পারভেজ শেখ।
বাবা খেলছেন বিবাহিতদের দলে, আর ছেলে অবিবাহিতদের হয়ে খেলছেন।
মাঠের বাইরে নীরব দর্শক ছিলেন পারভেজের মা। শেষ পর্যন্ত তরুণদের শক্তির বিরুদ্ধে অভিজ্ঞতার লড়াইয়ে জয়লাভ করে অভিজ্ঞতার দল। বিবাহিতরা অবিবাহিতদের ৩-১ পয়েন্টে পরাজিত করেন।
বাবা হাফিজুর রহমান কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘আমরা যুবক বয়সে অনেক হাডুডু খেলেছি। শুধু শরীরে শক্তি থাকলেই হয় না, জানতে হয় নানা কলাকৌশল। এখানেই আমরা জিতে গেছি।’
ছেলে পারভেজ বলেন, ‘হাডুডু খেলার তেমন অভিজ্ঞতা আমাদের নেই। এ কারণে জয়লাভ করতে পারিনি। তারপরও ভালো লাগছে, মুরুব্বিরা জিতেছে।’
খেলা দেখতে আসা সত্তরোর্ধ্ব কয়েকজন দর্শক হাসতে হাসতে বলেন, ‘বিবাহিতরা জিতে গেছে, মানে আমরা জিতে গেছি। আমাদের যে বয়স হয়েছে, এখন আর মাঠে নামতে পারব না। তবে বিবাহিতরা দেখিয়ে দিয়েছে, সিনিয়ররা ফুরিয়ে যায়নি।’
খেলার প্রধান অতিথি ও প্রধান পৃষ্ঠপোষক মো. শহিনুর রহমান শাহীন বলেন, ‘যুব সমাজকে মাদক থেকে দূরে রাখতেই এই ব্যতিক্রম আয়োজন করা হয়েছে। একই সঙ্গে হারিয়ে যেতে বসা গ্রামীণ খেলা নতুন প্রজন্মের কাছে পরিচিত করানো এবং সুস্থ ক্রীড়াচর্চার পরিবেশ তৈরি করাও আমাদের উদ্দেশ্য।’
তিনি বলেন, ‘আজকের খেলা দেখতে শত শত নারী-পুরুষ এসেছেন। পুরস্কার বিতরণেও ব্যতিক্রম রাখা হয়েছে। উভয় দলকে একটি করে বিশেষ ছাতা উপহার দেওয়া হয়েছে। এই জনপদে ভবিষ্যতে যেকোনো ধরনের গ্রামীণ খেলা আয়োজন করা হলে ব্যক্তিগত অর্থ দিয়ে পাশে থাকার প্রত্যয়ও ব্যক্ত করছি।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন