প্রধান কার্যালয়ঃ ৩-ডি, কাব্যকস ভবন, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি- ২০৪৪৭৪/২০২৫
ফোন:- 02224458547-01339-314085
ই-মেইল- crimebd2025@gmail.com
বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম আবারও কমেছে। সৌদি আরবের গুরুত্বপূর্ণ ইস্ট-ওয়েস্ট পাইপলাইনে তেল সরবরাহ পুনরায় শুরু হওয়া এবং যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সংঘাতের কূটনৈতিক সমাধানের সম্ভাবনা বাজারে সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ কিছুটা কমিয়ে দিয়েছে।
এর ফলে বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) এশীয় বাণিজ্যে ব্রেন্ট এবং ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট, দুই ধরনের অপরিশোধিত তেলের দাম কমেছে।
রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, বুধবার বাংলাদেশ সময় সকাল সাড়ে ৭টার দিকে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ৭ সেন্ট বা দশমিক শূন্য ৭ শতাংশ কমে ব্যারেলপ্রতি ৯৯ ডলার ১৮ সেন্টে নেমে আসে। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের বেঞ্চমার্ক ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট বা ডব্লিউটিআইয়ের দাম ৩৫ সেন্ট বা দশমিক ৩৯ শতাংশ কমে প্রতি ব্যারেল ৯০ ডলার ১৭ সেন্টে দাঁড়িয়েছে।
তেলের দাম কমার অন্যতম কারণ সৌদি আরবের ইস্ট-ওয়েস্ট পাইপলাইনে কার্যক্রম পুনরায় শুরু হওয়া। ১১ সেপ্টেম্বর ড্রোন হামলার পর পাইপলাইনটি বন্ধ ছিল, কিন্তু মঙ্গলবার এটি পুনরায় চালু করা হয়। এই পাইপলাইনটির মাধ্যমে লোহিত সাগরের ইয়ানবু বন্দরের দিকে প্রতিদিন প্রায় ৪০ লাখ ব্যারেল অপরিশোধিত তেল পাঠানো সম্ভব, যা বিশ্বের মোট তেল সরবরাহের প্রায় ৪ শতাংশ। তবে, ক্ষতিগ্রস্ত পাম্পিং স্টেশনগুলোর কারণে পুরো সক্ষমতায় ফিরতে কয়েক সপ্তাহ সময় লাগতে পারে বলে সূত্র জানিয়েছে।
অন্যদিকে, জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে কূটনৈতিক যোগাযোগের সম্ভাবনা বাজারে কিছুটা স্বস্তি এনেছে। ইরানের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র যদি সামরিক চাপ কমায় এবং ইরানের বন্দরগুলোর ওপর অবরোধ তুলে নেয়, তবে এক সপ্তাহের মধ্যে হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এই নৌপথটি বিশ্বের তেল ও গ্যাস পরিবহনের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, যেখানে যুদ্ধের আগে বৈশ্বিক তেল ও গ্যাসের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ পরিবহন হতো।
তবে, সংঘাত পুরোপুরি থেমে যাওয়ার কোনো নিশ্চয়তা এখনো নেই। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান বজায় রেখেছেন। একই সময়ে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে কূটনৈতিক যোগাযোগের সম্ভাবনাও আলোচনায় রয়েছে। ফলে, তেলের বাজারে সরবরাহ পরিস্থিতি নিয়ে স্বস্তি ফিরলেও ভূরাজনৈতিক ঝুঁকি এখনও একটি বড় অনিশ্চয়তা হিসেবে রয়ে গেছে।
এর আগে মঙ্গলবার ব্রেন্টের দাম ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলারের নিচে নেমে আসে। রয়টার্সের হিসাবে, ৮ সেপ্টেম্বরের পর এটি ছিল প্রথমবার যখন ব্রেন্ট ১০০ ডলারের নিচে লেনদেন করে। একই দিনে মার্কিন ডব্লিউটিআইও দুই সপ্তাহের সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে যায়।
বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্য থেকে তেল সরবরাহ স্বাভাবিক হওয়ার আরও লক্ষণ দেখা গেলে বাজারে সাম্প্রতিক ভূরাজনৈতিক ঝুঁকির কারণে তৈরি হওয়া অতিরিক্ত মূল্য কিছুটা কমতে পারে। তবে, হরমুজ প্রণালির পরিস্থিতি এবং যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সংঘাতের গতিপথের ওপরই এখন তেলের বাজারের পরবর্তী দিক অনেকটা নির্ভর করছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন