প্রধান কার্যালয়ঃ ৩-ডি, কাব্যকস ভবন, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি- ২০৪৪৭৪/২০২৫
ফোন:- 02224458547-01339-314085
ই-মেইল- crimebd2025@gmail.com
ফিলিস্তিনের অধিকৃত পশ্চিম তীরে অবৈধ বসতি স্থাপনকারীরা নারকীয় তাণ্ডব চালাচ্ছে। পুলিশ ও সেনাবাহিনীর সহযোগিতায় গ্রামে গ্রামে ফিলিস্তিনিদের বাড়ি-ঘরে হামলার পাশাপাশি অগ্নিসংযোগও চলছে।
অ্যাম্বুলেন্সেও হামলা চালানো হচ্ছে গুলিবিদ্ধদের হাসপাতালে নেওয়ার সময়। অন্যদিকে গাজায় লাখো বাস্তুচ্যুত মানুষের জীবন অনিশ্চয়তায় কাটছে। অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে বিভিন্ন রোগ ছড়িয়ে পড়ছে। এর মধ্যেই ইসরাইলি হামলা অব্যাহত রয়েছে।
সম্প্রতি পশ্চিম তীরে অবৈধ বসতি স্থাপনকারীদের সহিংসতা আরও বৃদ্ধি পেয়েছে। একের পর এক গ্রামে তারা সহিংস হামলা চালাচ্ছে। ফিলিস্তিনিরা আতঙ্কের মধ্যে দিন কাটাচ্ছে। শুক্রবার বেথলেহেমের আবু নুজাইম গ্রামে হামলা চালায় সেটেলাররা। ফিলিস্তিনিদের লক্ষ্য করে গুলি ছোড়া হয় এবং বেশ কয়েকজন হতাহত হন।
গুলিবিদ্ধদের হাসপাতালে নেওয়ার সময় ইসরাইলিরা অ্যাম্বুলেন্সেও হামলা করে। গাড়ির জানালা ভেঙে মরিচের গুঁড়া স্প্রে করা হয়, ফলে অ্যাম্বুলেন্স কর্মীরা অসুস্থ হয়ে পড়েন। হামলাকারীরা পরে গ্রামের প্রধান সড়ক বন্ধ করে দেয়।
পশ্চিম তীরের হেবরনে অবৈধ বসতি স্থাপনকারীরা সহিংস আক্রমণ করে যাচ্ছে। মাসাফের ইয়াত্তায় তুবা এলাকায় ফিলিস্তিনি বাড়িতে অগ্নিসংযোগের অভিযোগ উঠেছে, এর ফলে তিনটি পরিবার, ১৪ শিশু সহ, বাস্তুচ্যুত হয়েছে।
হামলায় সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা ধ্বংস হয়েছে এবং বিপুল পরিমাণ পশুখাদ্য নষ্ট হয়েছে। জাতিসংঘের হিসাব মতে, বছরের প্রথম সাত মাসেই বসতি স্থাপনকারীদের হামলা ও সংশ্লিষ্ট বিধিনিষেধে দুই হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি বাস্তুচ্যুত হয়েছেন।
শুক্রবার পশ্চিম তীরের নাবলুস ও বেথলেহেম গভর্নরেটজুড়ে একের পর এক হামলা চালিয়েছে ইসরাইলি বাহিনী এবং বসতি স্থাপনকারীরা। এতে দুইজন প্যারামেডিক সহ ছয়জন ফিলিস্তিনি আহত হন। প্যালেস্টাইন রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি (পিআরসিএস) জানায়, নাবলুসের পূর্বে অবস্থিত বেইত ফুরিক-এই তাদের কর্মীরা ইসরাইলি বাহিনীর হাতে মার খাওয়া এক ব্যক্তির চিকিৎসা প্রদান করেন।
গাজার আকাশে যুদ্ধবিমান এবং ড্রোনের তৎপরতা কিছুটা কমলেও বাস্তুচ্যুত মানুষের জন্য অনিশ্চয়তা কাটেনি। তাঁবু ও অস্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্রে লাখো ফিলিস্তিনি মানবেতর জীবনযাপন করছেন।
অতিরিক্ত ভিড়, বিশুদ্ধ পানির সংকট, ইঁদুরের উপদ্রব এবং স্বাস্থ্যসেবার সীমাবদ্ধতা বিভিন্ন রোগে ছড়িয়ে পড়ছে। জাতিসংঘ জানাচ্ছে, যুদ্ধবিরতির পরও শত শত শিশু নিহত হয়েছে। প্রতিদিনই হামলার ঝুঁকির মধ্যে রয়েছেন বেসামরিক মানুষ।
এই পরিস্থিতিতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প কর্তৃক প্রস্তাবিত আন্তর্জাতিক স্থিতিশীলতা বাহিনীতে সেনা পাঠাতে অনুমোদন দিয়েছে উগান্ডার সংসদ। মরক্কোও সেনা পাঠানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। পরিকল্পনা অনুযায়ী, হামাসের নিরস্ত্রীকরণ এবং ইসরাইলি সেনা প্রত্যাহারের ধাপ শেষ হলে গাজায় এই বাহিনী মোতায়েন হবে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন