প্রধান কার্যালয়ঃ ৩-ডি, কাব্যকস ভবন, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি- ২০৪৪৭৪/২০২৫
ফোন:- 02224458547-01339-314085
ই-মেইল- crimebd2025@gmail.com
ভোলার লালমোহন উপজেলার ফরাজগঞ্জ ইউনিয়নে, সরকারি নিবন্ধিত জেলে কার্ড থাকা সত্ত্বেও শতাধিক জেলে ভিজিএফের চাল নিয়ে অভিযোগ তুলেছেন। ৫৮ দিনের সামুদ্রিক মাছ ধরার নিষেধাজ্ঞা চলাকালীন, সরকার জেলেদের জন্য খাদ্য সহায়তা হিসেবে চাল বরাদ্দ দিলেও তারা দাবি করেছেন যে প্রকৃত অনেক কার্ডধারী সেই সুবিধা থেকে বঞ্চিত হয়েছেন। এই কারণে ভুক্তভোগী জেলেরা ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।
জেলেদের অভিযোগ হলো, গভীর সমুদ্রে ৫৮ দিনের নিষেধাজ্ঞার সময় জীবিকা বন্ধ থাকার কারণে সরকার প্রতিজন জেলের জন্য ৭৭ কেজি করে ভিজিএফ চাল বরাদ্দ দেয়। কিন্তু ফরাজগঞ্জ ইউনিয়নের অনেক প্রকৃত জেলে সেই চাল পাচ্ছেন না। যদিও তাদের কাছে সরকারি নিবন্ধিত জেলে কার্ড ও মাস্টাররোলে নাম রয়েছে, তাদের চাল দেওয়া হয়নি। এমনকি ইউনিয়ন পরিষদে গেলেও নানা অজুহাতে চাল ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে।
উপজেলা মৎস্য অফিস সূত্র জানায়, সরকার ৫৮ দিনের নিষেধাজ্ঞার জন্য ৫৭ দিনের খাদ্য সহায়তা বরাদ্দ দিয়েছে। ফরাজগঞ্জ ইউনিয়নে সরকারি নিবন্ধিত জেলের সংখ্যা ৩,৩৫৫ জন হলেও, চাল বরাদ্দ এসেছে মাত্র ১,০০০ জেলের জন্য, যার পরিমাণ ৭৭.৩৩ মেট্রিক টন।
জেলে মো. বাবুল বলেন, "গত ৫ আগস্টের পর থেকে আমি কোনো সরকারি চাল পাইনি। আমার নামে বৈধ জেলে কার্ড রয়েছে। ইউনিয়ন পরিষদে গেলে বলা হয়, এই কার্ডের চাল আগেই বিতরণ করা হয়েছে। কিন্তু আমার চাল কে নিয়েছে, সেটির জবাব কেউ দিতে পারেনি।"
জেলে আলী আহমদ বলেন, "আগে নিয়মিত জেলে কার্ডের চাল পেতাম। এখন চাল এলেও আমাদের দেওয়া হয় না। খোঁজ নিতে গেলে বলা হয়, আমাদের নামে কোনো বরাদ্দ নেই। তাহলে আমরা কেন সরকারি সহায়তা থেকে বঞ্চিত হচ্ছি?"
একই অভিযোগ করেছেন জহুরুল হক ও রতন মাঝি। তারা জানান, "সরকারের সব নিষেধাজ্ঞা মেনে আমরা নদী ও সাগরে মাছ ধরা বন্ধ রাখি। অথচ জেলে কার্ড ও তালিকায় নাম থাকা সত্ত্বেও ভিজিএফের চাল দেওয়া হচ্ছে না। চাল চাইতে গেলে নানা অজুহাতে ফিরিয়ে দেওয়া হয়।"
এদিকে চাল বিতরণের সুবিধাভোগীদের তালিকা (বেনিফিশিয়ারি লিস্ট) এবং মাস্টাররোল দেখতে চাইলে ফরাজগঞ্জ ইউনিয়ন পরিষদ এবং লালমোহন উপজেলা প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট দপ্তর তা প্রদর্শন করতে পারেনি।
অভিযোগ সম্পর্কে ফরাজগঞ্জ ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান মো. মোস্তফা কামাল বলেন, "আমরা নিয়ম মেনেই চাল বিতরণ করছি। যদিও নিবন্ধিত জেলেদের তুলনায় বরাদ্দ অনেক কম এসেছে। তাই সবাইকে চাল দেওয়া সম্ভব হয়নি।"
লালমোহন উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা আলী আহমদ আখন্দ জানান, "কিছু অনিয়ম হয়েছে। তবে বিষয়টি সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে ইউনিয়ন পরিষদের সঙ্গে কথা বলতে হবে।"
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ সিফাত বিন সাদেক বলেছেন, "এ বিষয়ে কেউ লিখিত অভিযোগ করার পর তদন্ত করে অভিযোগ প্রমাণিত হলে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।"
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন