প্রধান কার্যালয়ঃ ৩-ডি, কাব্যকস ভবন, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি- ২০৪৪৭৪/২০২৫
ফোন:- 02224458547-01339-314085
ই-মেইল- crimebd2025@gmail.com
নেত্রকোনার খালিয়াজুরিতে উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষা (এইচএসসি) পাশ না করেও একটি শিক্ষক ৪৩ বছর ধরে চাকরি করছেন, এই বিষয় নিয়ে অভিযোগ উঠেছে।
অভিযোগকারীর তথ্য অনুযায়ী, চাকরিতে যোগদানের সময় ওই শিক্ষকের বয়স ছিল ১৭ বছরের কম। তবে অভিযুক্ত শিক্ষক মো. আব্দুল মোনায়েম জানিয়েছেন, তার পদে নিয়োগের সময় এইচএসসি পাশের যোগ্যতার প্রয়োজন ছিল না; এসএসসি পাসের যোগ্যতা নিয়ে তাকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল।
আব্দুল মোনায়েম উপজেলার নূরপুর বোয়ালী দাখিল মাদরাসার এবতেদায়ি শাখার জুনিয়র শিক্ষক হিসেবে কর্মরত রয়েছেন। এই বিষয়ে মো. কাজী আলম নামের এক শিক্ষার্থীর অভিভাবক মাদরাসা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান, মাদরাসা শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক, জেলা প্রশাসকসহ বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।
অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে, তিনি ১৯৮৩ সালের ২ নভেম্বর ওই মাদরাসায় যোগদান করেন। তার এসএসসি সনদ অনুযায়ী, জন্মতারিখ ১৯৬৭ সালের ২ জানুয়ারি। সেই হিসেবে চাকরিতে যোগদানের সময় তার বয়স ছিল ১৬ বছর ১০ মাস।
অভিযোগকারী আরও দাবি করেছেন, ওই সময়ের নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি, প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের তথ্য এবং লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষার নম্বরপত্র পাওয়া যায়নি।
অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়, ১৯৯২ সালে মাদরাসা শিক্ষা অধিদপ্তরের নির্দেশের পরে আব্দুল মোনায়েমকে এইচএসসি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে বলা হয়েছিল। তিনি ১৯৯৪ ও ১৯৯৬ সালে পরীক্ষা দিয়েও উত্তীর্ণ হতে পারেননি। ১৯৯৮ সালের পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার জন্য ছুটি নিলেও তিনি শেষ পর্যন্ত পরীক্ষায় অংশ নেননি বলেও অভিযোগটি করা হয়েছে।
এছাড়া, ব্যবস্থাপনা কমিটির শিক্ষক প্রতিনিধি থাকাকালে স্বাক্ষর জাল করে প্রায় ১০ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগেও তার বিরুদ্ধে মামলা ছিল। অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে, ২০২০ সালের ১৭ অক্টোবর মাদরাসা ব্যবস্থাপনা কমিটির তৎকালীন সদস্য রুহুল আমিন বাদী হয়ে জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলাটি করেন।
এসব অভিযোগ অস্বীকার করে আব্দুল মোনায়েম গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, ১৯৮৩ সালে এবতেদায়ি শাখা চালুর পর মাদরাসা ব্যবস্থাপনা কমিটি চারজন শিক্ষক নিয়োগ দিয়েছে। এবতেদায়ি প্রধানের জন্য ফাজিল বা এইচএসসি পাশ এবং বাংলা বিষয়ের শিক্ষকের জন্য আলিম বা বিজ্ঞান বিভাগ থেকে এসএসসি পাসের যোগ্যতা চাওয়া হয়েছিল। তিনি এসএসসি পাশের যোগ্যতায় বাংলা বিষয়ের শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন। তাই তার নিয়োগের জন্য এইচএসসি সনদের প্রয়োজন ছিল না।
চাকরিতে যোগদানের সময় বয়স ১৭ বছরের কম থাকার বিষয়ে তিনি বলেন, তার জন্মতারিখ অনুযায়ী তখন বয়স ছিল ১৬ বছর ১০ মাস। তবে তাকে তৎকালীন মাদরাসা ব্যবস্থাপনা কমিটি নিয়োগ দিয়েছে এবং তিনি নিজে কোনো নিয়ম তৈরি করে চাকরিতে যোগ দেননি।
টাকা আত্মসাৎ ও স্বাক্ষর জালিয়াতির অভিযোগ অস্বীকার করে তিনি জানিয়েছেন, তিনি কোনো টাকা আত্মসাৎ বা স্বাক্ষর জাল করেননি।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে মাদরাসা সুপার মো. হারুন অর রশিদ জানিয়েছেন, আব্দুল মোনায়েমকে একাধিকবার এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার কথা বলা হলেও তিনি বিষয়টি ব্যক্তিগত বলে এড়িয়ে গেছেন। ২০২৫ সালের ৩ জুলাই থেকে ৭ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত অনুমতি ছাড়া অনুপস্থিত থাকায় তাকে তিনটি নোটিশ দেওয়া হয়। পরে তিনি ভুল স্বীকার করে ক্ষমা চান। তিনি ১৯৯৪ ও ১৯৯৬ সালে এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়ে উত্তীর্ণ হতে পারেননি। এরপর তিনি আর পরীক্ষায় অংশ নিয়েছেন কি না, তা জানা নেই তার।
খালিয়াজুরি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও মাদরাসা পরিচালনা কমিটির সভাপতি অলিদুজ্জামান জানিয়েছেন, অভিযোগ পেয়েছি। তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটির মাধ্যমে বিষয়টি তদন্ত করা হবে। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন