প্রধান কার্যালয়ঃ ৩-ডি, কাব্যকস ভবন, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি- ২০৪৪৭৪/২০২৫
ফোন:- 02224458547-01339-314085
ই-মেইল- crimebd2025@gmail.com
হরমুজ সংকটের প্রেক্ষাপটে সৌদি আরবের তেল রপ্তানির জন্য লোহিত সাগরের ইয়ানবু বন্দর একটি গুরুত্বপূর্ণ বিকল্প হয়ে দাঁড়িয়েছে। তবে বর্তমানে সেই পথও হামলার ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। হুতিদের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার কারণে এই গুরুত্বপূর্ণ তেলবন্দর রক্ষার জন্য সৌদি আরবে সেনা পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে ফ্রান্স। সেনা পাঠানোর সঙ্গে সঙ্গে রাডার এবং প্রতিরক্ষাব্যবস্থাও সেখানে পাঠানো হবে।
বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) রাতে একটি টেলিভিশন সাক্ষাৎকারে ফরাসি প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল মাখোঁ এই ঘোষণা দেন। সংবাদমাধ্যম রয়টার্সের প্রতিবেদনে এই তথ্য প্রকাশিত হয়েছে।
মাখোঁ জানান, সৌদি আরবের সঙ্গে ইয়ানবু রক্ষার জন্য একটি চুক্তি চূড়ান্ত করেছে ফ্রান্স। এই চুক্তির আওতায় ফরাসি সেনাসদস্য, রাডার এবং প্রতিরক্ষাব্যবস্থা সেখানে পাঠানো হবে। তবে তিনি একটি বিষয় স্পষ্ট করেছেন যে, ফরাসি সেনাদের পাঠানো হচ্ছে ইয়ানবু রক্ষার উদ্দেশ্যে, চলমান সংঘাতে সরাসরি অংশ নেওয়ার জন্য নয়। কিন্তু প্রশ্ন উঠছে, সৌদি আরবের একটি বন্দর রক্ষায় এর পেছনে কি কারণ রয়েছে।
কেন সেনা পাঠাতে হচ্ছে ফ্রান্সকে?
হরমুজ প্রণালির চলমান সংকট এই সিদ্ধান্তের পেছনে একটি বড় কারণ। মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের ফলে হরমুজ দিয়ে জ্বালানি পরিবহন মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত হওয়ায় ইয়ানবুর গুরুত্ব অনেক বেড়ে গেছে। সৌদি আরবের পূর্বাঞ্চল থেকে ইস্ট-ওয়েস্ট পাইপলাইনের মাধ্যমে তেল নিয়ে যাওয়া হয় লোহিত সাগরের এই বন্দরে। সেখান থেকে হরমুজ এড়িয়ে সরাসরি আন্তর্জাতিক বাজারে তেল পাঠানো সম্ভব। তবে সম্প্রতি এই ব্যবস্থাও বড় ধাক্কা খেয়েছে।
ইয়েমেনের হুতিরা সৌদি আরবের বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুর পাশাপাশি ইয়ানবুতে আরামকোর স্থাপনায় হামলার দাবি করেছে। সৌদি কর্তৃপক্ষও ইয়ানবুসহ বিভিন্ন এলাকায় ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করার কথা জানিয়েছে। এর আগে ড্রোন হামলায় সৌদি আরবের ইস্ট-ওয়েস্ট পাইপলাইনের তিনটি পাম্পিং স্টেশন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। এর ফলে ইয়ানবু দিয়ে তেল রপ্তানিও বন্ধ হয়ে যায়। পরে পাইপলাইনটি সীমিত পরিসরে আবার চালু করা হয়েছে।
সুতরাং, ইয়ানবুর নিরাপত্তা এখন শুধু সৌদি আরবের বিষয় নয়। বিশ্ববাজারে তেলের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখার ক্ষেত্রেও এই বন্দরের গুরুত্ব বেড়ে গেছে। ফ্রান্সও জ্বালানি সংকটের চাপ অনুভব করছে। মাখোঁ বলেন, আগামী শীতের জন্য ফ্রান্সে পর্যাপ্ত তেল ও গ্যাসের মজুত রয়েছে। তাঁর সরকার নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করতে কাজ করছে।
একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ডিজেল রপ্তানি নিষিদ্ধ করার বিষয়টি বিবেচনা করছে। যদি এমন খবর সত্যি হয়, তবে এর ফল বিশ্ব ও মার্কিন অর্থনীতির জন্য বিপর্যয়কর হতে পারে বলেও সতর্ক করেছেন তিনি। তবে হোয়াইট হাউস এই ধরনের কোনো পরিকল্পনার কথা অস্বীকার করেছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন