প্রধান কার্যালয়ঃ ৩-ডি, কাব্যকস ভবন, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি- ২০৪৪৭৪/২০২৫
ফোন:- 02224458547-01339-314085
ই-মেইল- crimebd2025@gmail.com
যুক্তরাষ্ট্রে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার চেষ্টা ব্যর্থ হওয়ার পরও ক্রিস্টা পাইকের জরুরি চিকিৎসা পাওয়ার ক্ষেত্রে দেরি হয়েছে। কারা কর্তৃপক্ষ এবং জরুরি সেবাকর্মীদের মধ্যে বিভ্রান্তির কারণে চিকিৎসাসহায়তা পেতে প্রায় আধা ঘণ্টা সময় লেগে যায়। সোমবার প্রকাশিত জরুরি ফোনকলের রেকর্ডিং থেকে এই তথ্য প্রকাশ পায়।
৩০ সেপ্টেম্বর টেনেসি অঙ্গরাজ্যের রিভারবেন্ড কারাগারে ৫০ বছর বয়সী পাইকের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার চেষ্টা করা হয়। তাকে পেন্টোবারবিটাল নামের ওষুধের দুটি মাত্রা দেওয়া হয়, কিন্তু তিনি মারা যাননি। এরপর কারা কর্তৃপক্ষ অ্যাম্বুলেন্সের জন্য ফোন করে।
রাত ৮টা ৪০ মিনিটে প্রথম ফোনটি করা হয়। ফোনে জানানো হয়, প্রায় এক ঘণ্টা আগে ওষুধ প্রয়োগ করা হলেও বন্দি মারা যাননি এবং অ্যাম্বুলেন্স প্রয়োজন। তবে জরুরি সেবার দায়িত্বে থাকা কর্মী পরিচয় নিশ্চিত করার সংকেত চাইলে ফোনকারী তা দিতে পারেননি। ফলে ঘটনাটি সত্য কি না, তা নিয়ে সন্দেহ সৃষ্টি হয়।
রেকর্ডিং অনুযায়ী, রাত ৯টা ৩ মিনিটে জরুরি যোগাযোগ বিভাগের এক কর্মী জানান, তাদের কাছে ফোনটি ভুয়া বলে তথ্য এসেছে এবং কারাগারে চিকিৎসাসহায়তার প্রয়োজন নেই। চার মিনিট পর এক সেবাকর্মী জানান, কারাগারের ফটকের বাইরে থাকা এক ব্যক্তি ঘটনাটি সত্য বলে দাবি করছেন এবং দ্রুত ভেতরে যাওয়ার অনুরোধ জানাচ্ছেন।
পরে কারাগারের কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রণকক্ষ ফোনটির সত্যতা নিশ্চিত করে। রাত ৯টা ১১ মিনিটে জরুরি সেবাকর্মীদের কারাগারে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হয়। অর্থাৎ প্রথম ফোনের প্রায় ৩১ মিনিট পর তারা ভেতরে যাওয়ার ছাড়পত্র পান।
১৯৯৫ সালে সহপাঠী কোলিন স্লেমারকে পিটিয়ে ও ছুরিকাঘাতে হত্যার দায়ে পাইকের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। তাকে হাসপাতালে নেওয়ার পর এক সময় কৃত্রিম শ্বাসযন্ত্রের সাহায্য নিতে হয়। তার আইনজীবীরা তখন বেঁচে থাকার আশা কম বলে জানান। পরে পাইক জ্ঞান ফিরে পেয়ে কথা বলতে শুরু করেন এবং সহায়তা নিয়ে হাঁটতেও সক্ষম হন। হাসপাতাল থেকে ছাড়া পাওয়ার পর তাকে আবার নারীদের কারাগারে নেওয়া হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার চেষ্টা থেকে বেঁচে যাওয়া একমাত্র পরিচিত ব্যক্তি পাইক, এমনটি জানিয়েছে মৃত্যুদণ্ডবিরোধী একটি গবেষণা সংস্থা। তবে তার মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার চেষ্টা কেন ব্যর্থ হয়েছিল, তা টেনেসির সংশোধন বিভাগ এখনো জানায়নি। বিশেষজ্ঞদের ধারণা, শিরায় ওষুধ দেওয়ার ব্যবস্থায় ত্রুটি হয়ে ওষুধ রক্তপ্রবাহে না গিয়ে শরীরের টিস্যুতে জমে থাকতে পারে।
মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার আগে যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্ট তা স্থগিত করার শেষ মুহূর্তের আবেদন নাকচ করেছিল। পাইকের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হলে ১৮২০ সালের পর টেনেসিতে তিনিই হতেন মৃত্যুদণ্ড পাওয়া প্রথম নারী। তবে এখন তার পরবর্তী পরিণতি কী হবে, তা স্পষ্ট নয়।
সূত্র: সিবিএস নিউজ
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন