প্রধান কার্যালয়ঃ ৩-ডি, কাব্যকস ভবন, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি- ২০৪৪৭৪/২০২৫
ফোন:- 02224458547-01339-314085
ই-মেইল- crimebd2025@gmail.com
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু যখন ভাষণ দিতে মঞ্চে ওঠেন, তখন বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিরা যৌথভাবে অধিবেশন কক্ষ ত্যাগ করে ওয়াকআউট করেন। এই ধরনের নজিরবিহীন প্রতিবাদের ফলে সাধারণ পরিষদ মিলনায়তনের একটি বিশাল অংশ মুহূর্তেই ফাঁকা হয়ে যায়।
জাতিসংঘের সদর দপ্তর থেকে প্রাপ্ত প্রতিবেদন ও ভিডিও চিত্রে দেখা যায়, নেতানিয়াহুর ভাষণ শুরু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে বাংলাদেশ, সৌদি আরব, তুরস্ক, ফিলিস্তিন, ইরান, পাকিস্তান, মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া, ব্রাজিল ও স্পেনের মতো দেশের প্রতিনিধিরা কক্ষ ত্যাগ করেন।
তুরস্কের বার্তা সংস্থা আনাদোলু এজেন্সির একটি বিশ্লেষণে জানানো হয়েছে, বিশ্বের প্রায় ৭০টি দেশের প্রতিনিধি দল সরাসরি ওয়াকআউট করেছেন অথবা তাদের আসন খালি রেখে প্রতিবাদ জানিয়েছেন।
কূটনীতিকদের এই গণ-ওয়াকআউটের মধ্যেও ভাষণ অব্যাহত রাখেন ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী। তিনি কক্ষ ত্যাগকারী কূটনীতিকদের "ভণ্ড মানবাধিকার আন্দোলনকারী" বলে কটাক্ষ করেন এবং হলে অবস্থানরত অন্যান্যদের "কাপুরুষ" বলে আখ্যা দেন। একই সঙ্গে গাজায় গণহত্যা চালানোর অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করে নেতানিয়াহু দাবি করেন, ইসরায়েল গণহত্যা রোধে কাজ করছে।
ভাষণে নেতানিয়াহু নিউ ইয়র্কের মেয়র জোহরান মামদানির তীব্র সমালোচনা করেন, যিনি পূর্বে গাজায় ইসরায়েলি হামলার বিরোধিতা করেছিলেন এবং নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের (আইসিসি) গ্রেপ্তারি পরোয়ানা কার্যকর করার পক্ষে অবস্থান নিয়েছিলেন।
নেতানিয়াহুর বক্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় নিউ ইয়র্কের মেয়র জোহরান মামদানি বলেন, ফিলিস্তিনিদের ওপর চালানো গণহত্যা ও যুদ্ধাপরাধ ধামাচাপা দিতেই ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী জাতিসংঘের মঞ্চ ব্যবহার করে অসত্য বক্তব্য দিয়েছেন। কোনো মিথ্যাই এই সত্যকে আড়াল করতে পারবে না যে, আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতে নেতানিয়াহু একজন চিহ্নিত যুদ্ধাপরাধী হিসেবে গ্রেপ্তারি পরোয়ানার মুখোমুখি হয়ে আছেন।
অন্যদিকে সাধারণ পরিষদের ভেতরের এই কূটনৈতিক প্রতিবাদের বাইরে ম্যানহাটনজুড়ে নেতানিয়াহু ও গাজা যুদ্ধের বিরুদ্ধে তীব্র জনবিক্ষোভ দেখা যায়। 'জুয়িশ ভয়েস ফর পিস'-সহ একাধিক মানবাধিকার সংগঠনের আহ্বানে শত শত বিক্ষোভকারী জাতিসংঘের কাছের সড়কগুলো অবরোধ করেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ অভিযান চালিয়ে আন্তর্জাতিক স্তরের বেশ কয়েকজন বিশিষ্ট ব্যক্তিসহ শতাধিক বিক্ষোভকারীকে গ্রেপ্তার করেছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন