প্রধান কার্যালয়ঃ ৩-ডি, কাব্যকস ভবন, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি- ২০৪৪৭৪/২০২৫
ফোন:- 02224458547-01339-314085
ই-মেইল- crimebd2025@gmail.com
অতিরিক্ত ভ্যাট-ট্যাক্সের কারণে দেশে সিগারেটের দাম যে হারে বাড়ছে, তাতে বিদেশি সিগারেটের চোরাচালান আশঙ্কাজনকভাবে বেড়ে গেছে। বিশেষ করে, চট্টগ্রামের শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ট্রানজিট রুট হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। মধ্যপ্রাচ্য থেকে আসা অনেক যাত্রীর লাগেজে আমদানি নিষিদ্ধ সিগারেট পাওয়া যাচ্ছে। গত ছয় মাসে ২৫ হাজারের কাছাকাছি কার্টন সিগারেট এবং বিপুল পরিমাণ ই-সিগারেট জব্দ করা হয়েছে।
চট্টগ্রামের শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে প্রতিবারই মধ্যপ্রাচ্য থেকে ফ্লাইট অবতরণ করলেই বিপুল পরিমাণ আমদানি নিষিদ্ধ সিগারেট জব্দ হয়ে থাকে। তল্লাশিতে এমন অনেক লাগেজ পাওয়া যাচ্ছে, যেখানে ১০ থেকে ২০ কার্টন সিগারেট রয়েছে, আবার কিছু ক্ষেত্রে তারও বেশি পরিমাণ সিগারেট বহন করা হচ্ছে। গত বছরের ডিসেম্বর থেকে চলতি বছরের মে মাসের মধ্যে ২৪ হাজার ৩৬৪ কার্টন সিগারেট জব্দ করা হয়েছে।
চট্টগ্রাম শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের পরিচালক গ্রুপ ক্যাপ্টেন শেখ আবদুল্লাহ আলমগীর বলেন, কাস্টমস গোয়েন্দা সংস্থা এবং এভিয়েশন সিকিউরিটি সদস্যরা অত্যন্ত তৎপর রয়েছেন। বিভিন্ন গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে এবং স্ক্যানিংয়ের পরিমাণ বৃদ্ধি পাওয়ার জন্য বিপুল পরিমাণ চোরাচালান হওয়া সিগারেট জব্দ করার সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। এর ফলে সরকারের রাজস্ব আয়ও বৃদ্ধি পেয়েছে।
কাস্টমসের তথ্য অনুযায়ী, শুধু মে মাসেই জব্দ করা হয়েছে ৫ হাজার ৮৪৪ কার্টন সিগারেট। গত বছরের ডিসেম্বরে সর্বাধিক ৬ হাজার ৫৪২ কার্টন সিগারেট জব্দ করা হয়েছিল। এছাড়া জানুয়ারিতে ১ হাজার ৯৯৭ কার্টন, ফেব্রুয়ারিতে ৪ হাজার ৩৩৪ কার্টন, মার্চে ১ হাজার ৪৫৬ কার্টন এবং এপ্রিলে ৪ হাজার ১৯১ কার্টন সিগারেট জব্দ করা গেছে।
চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসের সহকারী কমিশনার শরীফ মো. আল আমিন বলেন, ব্যাগেজ রুলস অনুযায়ী একজন যাত্রী সর্বাধিক ২০০ শলাকা বা ১০ প্যাকেট সিগারেট আনতে পারেন। এর বেশি আনলে তা আইন অনুযায়ী জব্দ করা হয়।
বর্তমান ব্যাগেজ রুল অনুযায়ী, বিদেশ থেকে আসা একজন যাত্রী ব্যক্তিগত ব্যবহারের জন্য ২০০ শলাকা সিগারেট বহন করতে পারেন। কিন্তু শুল্ক আরোপের সুযোগ নেই, তাই বিদেশ থেকে আনা এসব সিগারেট দেশে বাজারে তিন থেকে চার গুণ বেশি দামে বিক্রির উদ্দেশ্যে চোরাচালান হয়ে থাকে।
চট্টগ্রাম শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের মুখপাত্র প্রকৌশলী ইব্রাহীম খলিল বলেন, মধ্যপ্রাচ্য ডিউটি-ফ্রি বাণিজ্যের একটি বড় কেন্দ্র। সেখানে কম দামে কেনা সিগারেট শুল্ক ছাড়া দেশের বাজারে প্রবেশ করলে দুই থেকে তিন গুণ লাভ হওয়া সম্ভব। এ কারণেই রাজস্ব ফাঁকি দিয়ে এসব সিগারেট দেশে আনার প্রচেষ্টা চলছে।
বর্তমানে বাংলাদেশে নিম্ন স্তরের ১০ শলাকা সিগারেটের দাম ৬২ টাকা থেকে শুরু হয়ে অতি উচ্চ স্তরের প্রিমিয়াম সিগারেটের দাম ২১০ টাকা পর্যন্ত নির্ধারিত হয়েছে। প্রতিটি স্তরেই সরকার নির্ধারিত সম্পূরক শুল্ক কার্যকর রয়েছে।
অন্যদিকে, মধ্যপ্রাচ্যের দুবাইয়ে এসব সিগারেটের দাম বাংলাদেশি মুদ্রায় মাত্র ৩ থেকে ৫ টাকা। অথচ দেশে সেগুলো ২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে এ কথা জানিয়েছেন শুল্ক কর্মকর্তারা।
চট্টগ্রাম শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে প্রতিদিন অন্তত ১০টি আন্তর্জাতিক ফ্লাইট অবতরণ করে। সংশ্লিষ্টদের মতে, যদি প্রতিটি যাত্রীর লাগেজে কার্যকরভাবে তল্লাশি চালানো যায়, তাহলে আরও বিপুল পরিমাণ অবৈধ সিগারেট উদ্ধার করা সম্ভব হবে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন