প্রধান কার্যালয়ঃ ৩-ডি, কাব্যকস ভবন, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি- ২০৪৪৭৪/২০২৫
ফোন:- 02224458547-01339-314085
ই-মেইল- crimebd2025@gmail.com
ভারতের কলকাতার একটি হোটেলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ফলে নয় বাংলাদেশির মৃত্যুর ঘটনার প্রেক্ষাপটে দেশটির চিকিৎসা পর্যটন খাতে ব্যাপক প্রভাব পড়েছে। এই পরিস্থিতিতে বাংলাদেশি রোগীদের মধ্যে আস্থা পুনরুদ্ধার এবং চিকিৎসা খাতের স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে কলকাতার শীর্ষস্থানীয় হাসপাতালগুলো বাংলাদেশে একটি প্রতিনিধিদল পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এই প্রতিনিধিদল রোগী ও তাদের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করবে এবং হোটেল বুকিংয়ের বিষয়ে প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা প্রদান করবে। পাশাপাশি, রোগীরা যাতে নিরাপত্তা অনুমোদনপ্রাপ্ত আবাসনে অবস্থান করতে পারেন, সে বিষয়েও সহায়তা করবে।
কলকাতাস্থ বাংলাদেশ উপহাইকমিশন সম্প্রতি একটি ভ্রমণ পরামর্শ (অ্যাডভাইজরি) জারি করেছে, যার প্রেক্ষিতে এই পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। উক্ত পরামর্শে বাংলাদেশি পর্যটক ও রোগীদের ভারতে যাওয়ার আগে নিরাপদ হোটেলে কক্ষ বুক করার জন্য আইনগত অনুমোদন থাকা আবশ্যক বলে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে ফ্রি স্কুল স্ট্রিটের অগ্নিকাণ্ডের পর স্থানীয় প্রশাসনের অভিযানে অনেক কম খরচের হোটেল বন্ধ হয়ে যায়, যার ফলে স্বল্প বাজেটে চিকিৎসা নিতে আসা বাংলাদেশিরা আবাসনের সংকটে পড়েছেন। ঝুঁকিপূর্ণ হোটেলে যাচাই-বাছাই ছাড়া ওঠা বন্ধ করার জন্য হাসপাতালগুলো এখন অগ্রিম ব্যবস্থা গ্রহণের ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে।
রোগীদের ভোগান্তি ও নিরাপত্তা ঝুঁকি কমানোর লক্ষ্যে হাসপাতালগুলো নিজেদের উদ্যোগে নিরাপদ থাকার পরিবেশ নিশ্চিত করার চেষ্টা করছে। আলিপুরভিত্তিক উডল্যান্ডস মাল্টিস্পেশালিটি হাসপাতাল বাংলাদেশি রোগীদের ভ্রমণের পূর্বেই আশপাশের নিবন্ধিত নিরাপদ হোটেলের তালিকা প্রদান করছে। হাসপাতালটির প্রধান নির্বাহী রূপক বড়ুয়া জানিয়েছেন, উপহাইকমিশনের নির্দেশনা অনুযায়ী রোগীরা যাতে আগে থেকেই নির্ভরযোগ্য আবাসন নিশ্চিত করতে পারেন, সে বিষয়ে তারা সর্বাত্মক সহায়তা প্রদান করছেন।
অন্যদিকে, বিপি পোদ্দার হাসপাতাল বাংলাদেশে প্রতিনিধিদল পাঠানোর পাশাপাশি হাসপাতালের নিকটবর্তী বাংলাদেশি রোগীদের জন্য নিরাপত্তাবেষ্টিত আবাসন ব্যবস্থা গড়ে তোলার উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। রুবি জেনারেল হাসপাতাল বিশেষ সহায়তা কেন্দ্র চালু করেছে এবং দেশুন হাসপাতালও রোগী ও তাদের স্বজনদের জন্য আগাম আবাসনের সুযোগ প্রদান করছে।
সাধারণত বহির্বিভাগে চিকিৎসাসেবা নিতে আসা ব্যক্তিদের কয়েক দিন হোটেলে অবস্থান করতে হয়। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ আশা করছে, তাদের এই যৌথ পদক্ষেপ ও আগাম আবাসন সুবিধার মাধ্যমে চিকিৎসাপ্রার্থীদের ভয় দূর হবে এবং কলকাতার চিকিৎসা পর্যটন খাত দ্রুত স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসবে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন