প্রধান কার্যালয়ঃ ৩-ডি, কাব্যকস ভবন, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি- ২০৪৪৭৪/২০২৫
ফোন:- 02224458547-01339-314085
ই-মেইল- crimebd2025@gmail.com
যুক্তরাষ্ট্র গ্রঁ প্রিতে দাপুটে জয় তুলে নিয়ে কিমি অ্যান্টোনেল্লি ২০২৬ সালের ফর্মুলা ওয়ানের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হওয়ার একেবারে দ্বারপ্রান্তে পৌঁছে গেছেন। অস্টিনের সার্কিট অব দ্য আমেরিকাসে শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত নিয়ন্ত্রণ ধরে রেখে মার্সিডিজের এই ইতালিয়ান তারকা ১৩.০৭৮ সেকেন্ড ব্যবধানে জয় পান। চলতি মৌসুমে এটি তাঁর নবম জয়। দ্বিতীয় স্থানে ফেরারির শার্ল লেক্লের এবং তৃতীয় স্থানে রেড বুলের ম্যাক্স ভার্স্টাপেন রয়েছেন। লুইস হ্যামিল্টন চতুর্থ এবং ল্যান্ডো নরিস পঞ্চম স্থান দখল করেছেন।
অ্যান্টোনেল্লির সামনে অস্টিনেই শিরোপা নিশ্চিত করার সুযোগ ছিল। এজন্য তাঁকে জিততে হতো, হ্যামিল্টনকে সেরা চারজনের বাইরে থাকতে হতো এবং জর্জ রাসেলকে নবম বা তার নিচে থাকতে হতো। অ্যান্টোনেল্লি নিজের কাজটি নিখুঁতভাবে সম্পন্ন করলেও হ্যামিল্টন চতুর্থ এবং রাসেল অষ্টম হওয়ায় যুক্তরাষ্ট্রে শিরোপা নিশ্চিত হয়নি। তবে অস্টিনের জয়ে রাসেলের চেয়ে অ্যান্টোনেল্লির ব্যবধান বেড়ে ১২৩ পয়েন্ট এবং হ্যামিল্টনের চেয়ে ১২৪ পয়েন্ট হয়েছে। মৌসুমের এখন সর্বোচ্চ ১২৫ পয়েন্ট পাওয়ার সুযোগ রয়েছে।
অর্থাৎ, আগামী সপ্তাহের মেক্সিকো সিটি গ্রঁ প্রিতে অ্যান্টোনেল্লি নবম বা তার চেয়ে ভালো অবস্থানে থেকে রেস শেষ করলেই তিনি নিশ্চিতভাবে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হয়ে যাবেন। এমনকি মেক্সিকোতে রাসেল ও হ্যামিল্টন কেউই রেস জিততে না পারলেও অ্যান্টোনেল্লির শিরোপা নিশ্চিত হবে। মাত্র ২০ বছর বয়সী এই ইতালিয়ান বর্তমানে নিজের দ্বিতীয় মৌসুমে ফর্মুলা ওয়ানের ইতিহাসে সবচেয়ে কম বয়সী বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হওয়ার সুযোগের সামনে দাঁড়িয়ে আছেন।
অস্টিনে অ্যান্টোনেল্লির জয়ের অন্যতম বড় কারণ ছিল কৌশল। শীর্ষ পাঁচের মধ্যে একমাত্র তিনিই মাঝারি ধরনের টায়ার নিয়ে রেস শুরু করেছিলেন। শুরুতেই নরম টায়ারের বাড়তি সুবিধা পাওয়ার কথা ছিল পেছনের প্রতিদ্বন্দ্বীদের, কিন্তু প্রথম বাঁকে দুর্দান্ত শুরু করে অ্যান্টোনেল্লি নেতৃত্ব ধরে রাখেন। খুব দ্রুতই তিনি চার সেকেন্ডের ব্যবধান তৈরি করেন।
ভার্স্টাপেন ১৩তম কোলে প্রথমবার গর্তে ঢুকে নরম টায়ার নেন। এতে তাঁর দুইবার গর্তে ঢোকার কৌশল কার্যত নিশ্চিত হয়ে যায়। ফেরারিও পরে একই কৌশল নেয়। কিন্তু মার্সিডিজ অ্যান্টোনেল্লিকে একবারই গর্তে ঢোকানোর পরিকল্পনায় থাকে। ২৪তম কোলে তাঁকে গর্তে নিয়ে শক্ত টায়ার পরানো হয়। এরপর আর থামতে হয়নি তাঁকে।
গর্ত থেকে বের হওয়ার পর চতুর্থ স্থানে নেমে গেলেও ৩২তম কোলে লেক্লেরকে পেছনে ফেলে আবারও নেতৃত্বে ফেরেন অ্যান্টোনেল্লি। শেষ দিকে নতুন টায়ারে লেক্লের ও ভার্স্টাপেন ব্যবধান কমালেও অ্যান্টোনেল্লির জয় নিয়ে বড় কোনো শঙ্কা তৈরি করতে পারেনি তারা। শেষ পর্যন্ত ১ ঘণ্টা ৩৫ মিনিট ১৬.৬৫০ সেকেন্ডে রেস শেষ করেন তিনি।
লেক্লের শেষ দিকে দারুণ গতি দেখিয়ে দ্বিতীয় হন। তিনি ভার্স্টাপেনকে টার্ন ১২-তে পেছনে ফেলে দেন, যখন রেস শেষ হতে তখনও সাতটি কোলে বাকি। ভার্স্টাপেন শেষ পর্যন্ত তৃতীয় এবং হ্যামিল্টন মাত্র ১.০৩০ সেকেন্ড পিছনে থেকে চতুর্থ হন। নরিস পঞ্চম, ইসাক হাদজার ষষ্ঠ, অস্কার পিয়াস্ত্রি সপ্তম এবং রাসেল অষ্টম হন। নবম স্থানে লিয়াম লসন এবং দশম স্থানে পিয়ের গাসলি রয়েছেন।
রাসেলের জন্য অস্টিনের রেসটি হতাশাজনক ছিল। ষষ্ঠ স্থান থেকে শুরু করেও প্রথম কোলে অস্কার পিয়াস্ত্রির সঙ্গে লড়াইয়ের সময় ট্র্যাকের বাইরে গিয়ে সুবিধা নেওয়ার কারণে পাঁচ সেকেন্ডের শাস্তি পান। নিজের একমাত্র গর্তে ঢোকার সময় সেই শাস্তি যোগ হওয়ায় তিনি পিয়াস্ত্রির পেছনে চলে যান। প্রায় অর্ধেক রেস কাছাকাছি থেকেও ম্যাকলারেনের চালককে পেছনে ফেলতে পারেননি। রেস শেষে নিজের গতি নিয়ে রাসেল হতাশা প্রকাশ করেন।
অ্যান্টোনেল্লির জন্য এই জয় আরও গুরুত্বপূর্ণ, কারণ সেপ্টেম্বরে স্পেন গ্রঁ প্রির পর এটিই তাঁর প্রথম জয়। মৌসুমের শেষভাগে মার্সিডিজের গাড়ি সবসময় সবচেয়ে দ্রুত না হলেও অ্যান্টোনেল্লি ধারাবাহিকভাবে শিরোপার লড়াই নিয়ন্ত্রণে রেখেছেন। মালয়েশিয়া গ্রঁ প্রিতে আনা দলের নতুন উন্নয়নও শুরুতে প্রত্যাশা অনুযায়ী ফল দেয়নি। কিন্তু অস্টিনে একবার গর্তে ঢোকার কৌশলের নিখুঁত বাস্তবায়ন প্রমাণ করল, শিরোপা জয়ের জন্য শুধু রক্ষণাত্মক অবস্থানে নেই মার্সিডিজ—তারা জয়ের জন্যই লড়ছে।
অ্যান্টোনেল্লি বলেন, "দলের প্রয়োজনীয় ফলটিই তারা পেয়েছে এবং নতুন গাড়ির উন্নয়ন নিয়ে দলের দীর্ঘ পরিশ্রমের ফল দেখতে পেরে তিনি আনন্দিত।" তাঁর মতে, "একবার গর্তে ঢোকার কৌশলটিও নিখুঁতভাবে কাজে লাগানো হয়েছে।"
এখন ফর্মুলা ওয়ান মৌসুমের পরবর্তী গন্তব্য মেক্সিকো সিটি। ৩০ অক্টোবর থেকে ১ নভেম্বর পর্যন্ত চলবে মেক্সিকো সিটি গ্রঁ প্রি। সেখানেই অ্যান্টোনেল্লির সামনে ইতিহাস গড়ার সুযোগ—মাত্র ২০ বছর বয়সে ফর্মুলা ওয়ানের সবচেয়ে কম বয়সী বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হওয়ার।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন