প্রধান কার্যালয়ঃ ৩-ডি, কাব্যকস ভবন, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি- ২০৪৪৭৪/২০২৫
ফোন:- 02224458547-01339-314085
ই-মেইল- crimebd2025@gmail.com
ঢাকা, ২৪ অক্টোবর, ২০২৬ : পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির জানিয়েছেন, বাংলাদেশ বহুপাক্ষিকতার প্রতি দৃঢ়ভাবে অঙ্গীকারবদ্ধ এবং বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় জাতিসংঘের অর্থবহ সংস্কারকে সমর্থন করে।
জাতিসংঘ দিবস উপলক্ষে আজ দেওয়া এক বার্তায় তিনি উল্লেখ করেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকার গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থা জোরদার, মানবাধিকার ও আইনের শাসন সমুন্নত রাখা এবং জবাবদিহিমূলক প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার বিষয়ে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।
তিনি আরও বলেন, জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি হিসেবে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর নির্বাচিত হওয়া বহুপাক্ষিক কর্মকাণ্ডে সরকারের নতুন করে সক্রিয় হওয়ার অঙ্গীকারের প্রতিফলন।
হুমায়ুন কবির উল্লেখ করেন, বাংলাদেশ আরও প্রতিনিধিত্বমূলক, স্বচ্ছ ও কার্যকর জাতিসংঘ প্রতিষ্ঠার পক্ষে। সমসাময়িক বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে বিশ্ব সংস্থাটিকে কার্যকর ভূমিকা পালনে সক্ষম করতে নিরাপত্তা পরিষদের অর্থবহ সংস্কারসহ প্রয়োজনীয় পদক্ষেপকে বাংলাদেশ সমর্থন করে।
তিনি বলেন, ‘ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা, সশস্ত্র সংঘাত, মানবিক সংকট ও ক্রমবর্ধমান বৈষম্যের এ সময়ে বহুপাক্ষিকতা শুধু একটি বিকল্প নয়, বরং এটি অপরিহার্য।’
তিনি সংলাপ, বিরোধের শান্তিপূর্ণ নিষ্পত্তি, রাষ্ট্রগুলোর সার্বভৌম সমতা এবং আন্তর্জাতিক আইনের প্রতি শ্রদ্ধা পুনর্ব্যক্ত করার আহ্বান জানান।
বিশ্বশান্তিতে বাংলাদেশের অবদানের কথা তুলে ধরে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, জাতিসংঘের সঙ্গে বাংলাদেশের অংশীদারিত্ব বাস্তব কর্মকাণ্ড ও সংহতির ভিত্তির ওপর প্রতিষ্ঠিত।
তিনি জানান, জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে অন্যতম শীর্ষ অবদানকারী দেশ হিসেবে বাংলাদেশি শান্তিরক্ষীরা বিশ্বের বিভিন্ন স্থানে চ্যালেঞ্জিং পরিবেশে দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন।
শান্তিরক্ষা কার্যক্রম এবং শান্তি ও নিরাপত্তাবিষয়ক সিদ্ধান্ত গ্রহণে নারীদের অংশগ্রহণ এগিয়ে নেওয়ার বিষয়ে বাংলাদেশের অঙ্গীকারও পুনর্ব্যক্ত করেন তিনি।
হুমায়ুন কবির বলেন, টেকসই উন্নয়ন, দুর্যোগ মোকাবিলায় সক্ষমতা বৃদ্ধি, দারিদ্র্য বিমোচন, লিঙ্গসমতা ও মানবিক কার্যক্রমসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে জাতিসংঘের সঙ্গে বাংলাদেশের অংশীদারিত্ব বিস্তৃত।
মিয়ানমার থেকে জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত ১২ লাখেরও বেশি রোহিঙ্গাকে বাংলাদেশ আশ্রয় দিয়ে চলেছে উল্লেখ করে তিনি তাদের দ্রুত ও টেকসই প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের অব্যাহত সমর্থন কামনা করেন।
তিনি বলেন, টেকসই উন্নয়নের ২০৩০ এজেন্ডা বাস্তবায়নে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রচেষ্টার পাশাপাশি উন্নয়নশীল দেশ, স্বল্পোন্নত দেশ এবং জলবায়ু ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর জন্য অর্থায়ন, প্রযুক্তি হস্তান্তর ও সক্ষমতা বৃদ্ধিতে সহায়তা নিশ্চিত করা প্রয়োজন।
জাতিসংঘ ও এর সদস্যরাষ্ট্রগুলোর প্রতি আন্তরিক শুভেচ্ছা জানিয়ে হুমায়ুন কবির বলেন, জাতিসংঘ দিবস অভিন্ন বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় জাতিসংঘ সনদের স্থায়ী প্রাসঙ্গিকতা এবং সম্মিলিত উদ্যোগের গুরুত্ব স্মরণ করিয়ে দেয়।
তিনি বলেন, ‘আসুন, আমরা একসঙ্গে কাজ করে আস্থা পুনরুদ্ধার করি, বিভেদ দূর করি এবং এমন একটি বিশ্ব গড়ে তুলি, যেখানে শান্তি, ন্যায়বিচার ও সমৃদ্ধি সবার মধ্যে ভাগাভাগি হবে।’
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন