প্রধান কার্যালয়ঃ ৩-ডি, কাব্যকস ভবন, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি- ২০৪৪৭৪/২০২৫
ফোন:- 02224458547-01339-314085
ই-মেইল- crimebd2025@gmail.com
তাড়াহুড়া না করে, আলোচনায় অগ্রগতি অর্জন এবং জাতীয় স্বার্থের ভিত্তিতে উপযুক্ত সময়েই ভারত সফর করা হবে, এ কথা জানিয়েছেন নবনিযুক্ত পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির।
শনিবার (২২ আগস্ট) সাভারে, জাতীয় স্মৃতিসৌধে শহিদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানানোর পর, সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এই বক্তব্য দেন।
ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্কের বিষয়ে হুমায়ুন কবির বলেন, প্রতিবেশী দেশ হিসেবে ভারতকে সঙ্গে নিয়ে বাংলাদেশ ইতিবাচক ও কার্যকর সম্পর্ক বজায় রাখতে চায়। তবে বাংলাদেশ এরপর কোনো দেশের সঙ্গে জাতীয় স্বার্থের প্রসঙ্গে আপস করে সম্পর্ক এগিয়ে নেয়া হবে না।
ভারত সফরের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আলোচনায় কিছুটা অগ্রগতি হলে, আলোচনার ভিত্তিতে এবং জাতীয় স্বার্থ বিবেচনা করেই উপযুক্ত সময়ে ভারত সফর করা হবে। এ ব্যাপারে কোনো তাড়াহুড়া নেই।
প্রতিমন্ত্রী উল্লেখ করেন, ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের ইতিবাচক সম্পর্ক থাকা অত্যন্ত প্রয়োজন। তবে ভারতসহ সংশ্লিষ্ট কোনো দেশের প্রতি জাতীয় স্বার্থের প্রশ্নে ছাড় দেওয়ার সুযোগ নেই।
মির্জা ফখরুলকে ইরানের প্রেসিডেন্টের অভিনন্দনের প্রসঙ্গে জানাতে গিয়ে হুমায়ুন কবির বলেন, ভারতে অবস্থানরত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে হত্যাসহ বিভিন্ন মামলার বিচারিক প্রক্রিয়া চলছে। কিছু মামলার ফলও প্রকাশিত হয়েছে এবং আরো মামলা বিচারাধীন রয়েছে।
তিনি বলেন, বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে প্রত্যর্পণ চুক্তি বিদ্যমান। তাই শেখ হাসিনাসহ ভারতে থাকা অপরাধীদের ফিরিয়ে আনার বিষয়টি নতুন কোনো শর্তের বিষয় নয়; এটি একটি চলমান প্রক্রিয়ার অংশ।
ভারতে পালিয়ে থাকা শেখ হাসিনাসহ অন্যান্য অপরাধীদের ফিরিয়ে আনার বিষয়টি বাংলাদেশের মানুষের প্রত্যাশা ও আশা জড়িত বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
হুমায়ুন কবির বলেন, আরও অনেক অপরাধী ভারতে পালিয়ে রয়েছেন। তাদের ফিরিয়ে আনা বাংলাদেশের মানুষের স্বাভাবিক দাবি এবং অনুভূতির বিষয়। এই প্রক্রিয়াকে অগ্রাধিকার দিয়েই ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক গড়তে চায় বাংলাদেশ।
ভারত সফরে কোনো তাড়াহুড়া নেই উল্লেখ করে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আরো বলেন, জাতীয় স্বার্থের ভিত্তিতে দ্রুত যদি কোনো বিষয়ে ঐকমত্যে পৌঁছানো যায়, তাহলে দ্রুত সফর করা হতে পারে। আবার প্রয়োজন হলে, প্রয়োজনীয় সময় নিয়ে সফরও করা হবে।
তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী পর্যায়ের সফরের আগে প্রয়োজনীয় আলোচনা ও প্রস্তুতির দরকার রয়েছে। এই ধরনের সফর হুট করে করা যায় না। দুই দেশের সরকারপ্রধানদের বৈঠকের আগে কিছু বিষয় নিয়ে আলোচনা ও ভিত্তি তৈরি করতে হবে এবং বাংলাদেশ বর্তমানে সেই প্রস্তুতি নিচ্ছে।
ভারতের পক্ষ থেকেও ইতিবাচক মনোভাব ও সদিচ্ছার লক্ষণ দেখছেন বলে জানিয়েছেন হুমায়ুন কবির।
তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশের মানুষের অনুভূতির বিষয়টি ভারতও লক্ষ্য করেছে। বিশেষ করে ৫ আগস্টের পর পলাতক শেখ হাসিনার সংবাদ সম্মেলন, বাংলাদেশের মানুষের অনুভূতিতে আঘাত করেছে—ভারতও বিষয়টি স্বীকার করেছে।
এটিকে একটি ভালো সূচনা হিসেবে উল্লেখ করে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, এখন আলোচনা চলতে থেকে আরো অগ্রগতি হয় কি না, সেটিই দেখার বিষয়। আলোচনা ও বাংলাদেশের জাতীয় স্বার্থ বিবেচনায়, সময় উপযুক্ত হলেই ভারত সফর করা হবে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন