প্রধান কার্যালয়ঃ ৩-ডি, কাব্যকস ভবন, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি- ২০৪৪৭৪/২০২৫
ফোন:- 02224458547-01339-314085
ই-মেইল- crimebd2025@gmail.com
খাদ্য অধিদপ্তরের সাবেক পরিচালক সুকুমার রায়। ২০১৭ সালে সরকারের তৃতীয় গ্রেডের এই কর্মকর্তা চাকরি থেকে অবসর গ্রহণ করেন। সরকারি হিসাব অনুযায়ী, তার চাকরির শেষ সময়ে মাসিক বেতন ও ভাতা মিলিয়ে প্রায় ৯০ হাজার টাকা ছিল। এই বেতনের চাকরি করে তিনি একটি বিশাল সম্পদের সাম্রাজ্য গড়েছেন।
সম্প্রতি একটি অনুসন্ধানে তার এবং পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের নামে বিপুল পরিমাণ ব্যাংক আমানত, সঞ্চয়পত্র, জমি ও ফ্ল্যাটের তথ্য প্রকাশিত হয়েছে।
অনুসন্ধান থেকে জানা যায়, সোনালী ব্যাংকে সুকুমার রায়ের নামে অন্তত ৫১ কোটি টাকার আমানত রয়েছে। তার নিজের নামে ১ কোটি ২২ লাখ ৫১ হাজার টাকার সঞ্চয়পত্র রয়েছে। ফরিদপুরের বোয়ালমারী উপজেলার রামদিয়া মৌজায় তার নামে ২২০ শতাংশ ও ৩০ শতাংশ—দুটি জমির তথ্যও পাওয়া গেছে। ঢাকার পল্টন এলাকায় একটি ফ্ল্যাট এবং ফরিদপুর সদর এলাকায় আরেকটি ফ্ল্যাট রয়েছে।
সুকুমার রায় খাদ্য অধিদপ্তরের পরিচালক পদ থেকে ২০১৭ সালে অবসরে যান। অর্থ মন্ত্রণালয়ের সূত্রে জানা গেছে, অবসরের পর তিনি এককালীন প্রায় ৮০ লাখ টাকা পেনশন পেয়েছেন। চাকরির সময়ে তার মোট বেতন-ভাতা প্রায় ১ কোটি টাকা ছিল।
অর্থাৎ, চাকরিকালীন আয় ও পেনশন মিলিয়ে একজন তৃতীয় গ্রেডের কর্মকর্তার সর্বোচ্চ ২ কোটি টাকা আয় হওয়ার কথা। কিন্তু তার ব্যাংক হিসাবে কমপক্ষে ৫১ কোটি টাকা আমানত রয়েছে বলে জানা গেছে।
এত টাকা ও জমি তিনি কিভাবে অর্জন করেছেন, তার সঠিক ব্যাখ্যা নেই। সুকুমার রায়ের আয়কর নথিতে এসব সম্পদের কোনো তথ্য নেই।
এসব অভিযোগের বিষয়ে দেশের একটি বেসরকারি গণমাধ্যমকে সুকুমার জানিয়েছেন, "আমার ৫০০ কোটি টাকার সম্পদ আছে। তাতে আপনাদের কী? আপনি খুঁজে দেখেন আমার আরো অনেক সম্পদ রয়েছে।" এরপর তিনি ফোন কেটে দেন।
এদিকে, সুকুমার রায়ের স্ত্রী বনশ্রী বোস নিজেকে গৃহিণী হিসেবে দাবি করলেও তার নামে থাকা সোনালী ব্যাংকের অ্যাকাউন্টে ২৫ কোটি ৫০ লাখ টাকার আমানত রয়েছে। এছাড়া আইএফআইসি ব্যাংকে তার একটি হিসাবও রয়েছে, যার নাম্বার ০১৯০৩১৫২৭৩-৮১১। এই হিসাবটি খুলতে তিনি নিজেকে চাকরিজীবী হিসেবে পরিচয় দিয়েছেন, কিন্তু কোথায় চাকরি করেন সে সম্পর্কে কোনো তথ্য দিতে পারেননি।
জানা গেছে, বনশ্রী বোসের নামে ৫৫ লাখ টাকার সঞ্চয়পত্র রয়েছে। এর মধ্যে ৩ মাস অন্তর মুনাফাভিত্তিক সঞ্চয়পত্র আমানত রয়েছে ৫ লাখ টাকার। এছাড়া পরিবার সঞ্চয়পত্র হিসেবে ৩০ লাখ টাকা এবং ডাকঘর সঞ্চয় ব্যাংক আমানত হিসেবে ১০ লাখ টাকা রয়েছে। বনশ্রী বোসের নামে ফরিদপুর সদরের শ্রীঅংগন দক্ষিণ পল্লী এলাকায় একটি বাড়ি রয়েছে।
এছাড়া, বনশ্রী বোসের সোনালী ব্যাংকের ৪টি অ্যাকাউন্টের তথ্য থেকে জানা যায়, হিসাব নাম্বার ২০১১০৫০৫০০০৭৪০ এর বিপরীতে ২ কোটি টাকা ফিক্সড ডিপোজিট (এফডিআর) রয়েছে। ২০১১০৫০৫০০০৮১৩ হিসাব নাম্বারের বিপরীতে ২ কোটি ৫০ লাখ টাকার এফডিআর রয়েছে। ২০১১০৫০৫০০০১৯১ হিসাব নাম্বারের বিপরীতে ১১ কোটি টাকা এবং ২০১১০৫০৫০০০২১৭ হিসাবে ১০ কোটি টাকার এফডিআর রয়েছে। এসব এফডিআর করার সময়ে দেখানো হয়েছে বাবার বাড়ি থেকে প্রাপ্ত সম্পদ এবং জমি বিক্রয়ের টাকা। কিন্তু বনশ্রী বোসের ট্যাক্স ফাইলে এসব সম্পদের কোনো বিবরণ নেই।
সুকুমারের স্ত্রী ছাড়াও তার বড় ছেলে সৌমেন রায়ের অ্যাকাউন্টে অস্বাভাবিক লেনদেনের তথ্য বেরিয়ে এসেছে। জানা গেছে, সৌমেন রায়ের অ্যাকাউন্টে ৪০ লাখ টাকার লেনদেন হয়েছে তার মা বনশ্রী বোসের আইএফআইসি ব্যাংকের অ্যাকাউন্ট থেকে।
ফলে খাদ্য অধিদপ্তরের সাবেক এই পরিচালকের বিপুল সম্পদের তথ্য নিয়ে ব্যাপক আলোচনা সৃষ্টি হয়েছে। গণমাধ্যমে খবর প্রকাশের বিষয়টি নিয়ে তদন্ত করার কথা জানিয়েছেন দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) মহাপরিচালক খোন্দকার ফরহাদ আহমেদ।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন