প্রধান কার্যালয়ঃ ৩-ডি, কাব্যকস ভবন, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি- ২০৪৪৭৪/২০২৫
ফোন:- 02224458547-01339-314085
ই-মেইল- crimebd2025@gmail.com
ঢাকা, ২৪ অক্টোবর, ২০২৬ : আগামীকাল বাঙালি হিন্দু সম্প্রদায়ের অন্যতম ধর্মীয় উৎসব লক্ষ্মীপূজা উদযাপিত হবে। শারদীয় দুর্গোৎসবের পর প্রথম পূর্ণিমা তিথিতে ভক্তরা লক্ষ্মীর পূজা করে, যা কোজাগরী পূর্ণিমা বা কোজাগরী লক্ষ্মীপূজা হিসেবে পরিচিত।
আশ্বিনী পূর্ণিমা ছাড়াও, কিছু মানুষ প্রতি বৃহস্পতিবার লক্ষ্মীর বিশেষ পূজা পালন করে থাকে। কিছু অঞ্চলে দীপান্বিতা অমাবস্যায় সন্ধ্যাবেলা লক্ষ্মীপূজার রীতি প্রচলিত রয়েছে। পূজা সাধারণত ঘটে বা মূর্তিতে অনুষ্ঠিত হয় এবং এটি ব্যক্তিগত বা সর্বজনীনভাবে করা হয়।
শাস্ত্র অনুযায়ী, দেবী লক্ষ্মী ধনসম্পদ ও ঐশ্বর্যের প্রতীক। তিনি উন্নতি, আলো, জ্ঞান, সৌভাগ্য, উর্বরতা, দানশীলতা, সাহস ও সৌন্দর্যের দেবী হিসেবে পরিচিত। এ কারণে লক্ষ্মীকে ঐশ্বর্যের দেবী বলা হয়।
লক্ষ্মীর বাহন হচ্ছে প্যাঁচা। বিষ্ণু যখন রাম ও কৃষ্ণ রূপে অবতার গ্রহণ করেন, তখন লক্ষ্মী সীতা ও রাধা রূপে তাদের সঙ্গিনী হন। কোজাগরী পূর্ণিমা রাতে দেবী লক্ষ্মী ভক্তদের গৃহে ধনধান্যে ভরিয়ে দিতে আসেন। প্রাচীনকাল থেকে রাজা-মহারাজা, ব্যবসায়ী ও সাধারণ গৃহস্থরা সকলেই দেবী লক্ষ্মীর পূজা করে আসছেন।
বিশুদ্ধ সিদ্ধান্ত পঞ্জিকা অনুযায়ী, কোজাগরী লক্ষ্মীপূজা পালিত হবে ২৫ অক্টোবর রোববার। পূর্ণিমা তিথি শুরু হবে ২৫ অক্টোবর সকাল ১১টা ৫৫ মিনিটে এবং শেষ হবে ২৬ অক্টোবর সকাল ৯টা ৪১ মিনিটে।
বাংলার জনসমাজে লক্ষ্মীকে নিয়ে বিভিন্ন জনপ্রিয় গল্প প্রচলিত রয়েছে। এই গল্পগুলো লক্ষ্মীপূজার দিন পাঁচালি আকারে পাঠ করা হয়, যা লক্ষ্মীর পাঁচালি নামে পরিচিত।
লক্ষ্মীপূজার গুরুত্বপূর্ণ উপকরণ হলো- সিঁদুর, ঘট, ধান, মাটি, আম্রপল্লব, ফুল, দূর্বা, তুলসীপাতা, হরীতকী, চন্দন, ধূপ, দীপ, নৈবেদ্য, আতপ চাল ও জল। লক্ষ্মীপূজায় মঙ্গলঘট ও ধানের ছড়ার সঙ্গে গৃহস্থের আঙিনায় চালের গুঁড়োর আলপনায় লক্ষ্মীর ছাপ শোভা পায়। এ উপলক্ষে অনেক রমণী উপবাস ব্রত পালন করেন।
লক্ষ্মী পূজায় রাত্রি জাগরণ করা হয়। কোজাগরী অর্থাৎ কে জাগরী বা কে জেগে আছো। শাস্ত্র মতে, এই রাতে লক্ষ্মী সকলের বাড়িতে যান। যে গৃহের দরজা বন্ধ থাকে এবং গৃহস্থরা ঘুমিয়ে থাকেন, সেখান থেকে লক্ষ্মী ফিরে আসেন। এ কারণে এই লক্ষ্মী পূজাকে কোজাগরী বলা হয় এবং রাত্রি জাগরণের নিয়ম রয়েছে। বাঙালি হিন্দুর ঘরে ঘরে দেবী লক্ষ্মীর পূজা হয়ে থাকে। গৃহস্থরা প্রতি বৃহস্পতিবার লক্ষ্মীর পূজা করেন।
লক্ষ্মীপূজায় হিন্দু সম্প্রদায়ের অনেকে উপবাসব্রত পালন করেন। পূজা অর্চনার পাশাপাশি ঘরবাড়ির আঙিনায় লক্ষ্মীর পায়ের ছাপের আলপনা আঁকা হয়।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন