প্রধান কার্যালয়ঃ ৩-ডি, কাব্যকস ভবন, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি- ২০৪৪৭৪/২০২৫
ফোন:- 02224458547-01339-314085
ই-মেইল- crimebd2025@gmail.com
রংপুর, ২২ অক্টোবর, ২০২৬ : পীরগঞ্জ উপজেলার কৃষকরা প্রচণ্ড গরম ও বৃষ্টির অভাবে আমন ধানের খেত নিয়ে সমস্যায় পড়েছেন। ১৫টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভার বিভিন্ন স্থানে ধানের জমিতে সেচের অভাব দেখা দিয়েছে। কিছু জায়গায় জমির মাটি ফেটে চৌচির হয়ে গেছে। কৃষকরা উদ্বেগ প্রকাশ করছেন যে, এতে ধান গাছের স্বাভাবিক বৃদ্ধি ব্যাহত হতে পারে।
সরেজমিনে রায়পুর, বড় দরগা ও পৌর এলাকা পরিদর্শন করে দেখা গেছে, আমন ধানের মৌসুমে নিয়মিত বৃষ্টির ওপর নির্ভরশীলতা রয়েছে। কিন্তু এবারের মৌসুমে বৃষ্টিপাতের অভাবে জমির আর্দ্রতা কমে গেছে। তীব্র রোদ ও গরমের কারণে মাটি দ্রুত শুকিয়ে যাচ্ছে, ফলে ধান গাছ সতেজ রাখা কঠিন হয়ে পড়ছে। এই পরিস্থিতিতে অনেক কৃষক সেচের মাধ্যমে জমিতে পানি দেওয়ার চেষ্টা করছেন। তবে অতিরিক্ত সেচের কারণে উৎপাদন খরচ বৃদ্ধি পাওয়ায় ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকরা দুশ্চিন্তায় রয়েছেন। সময়মতো বৃষ্টি না হলে ফলন কমে যাওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, উপজেলায় মোট ৩২ হাজার ৮শ’ হেক্টর জমিতে আমন ধান চাষ করা হয়েছে। চলতি মৌসুমে ২৫ হাজার ৫৯৫ হেক্টর জমিতে রোপা আমনের চাষ করেছেন কৃষকরা।
বড় দরগা ইউনিয়নের কৃষক আব্দুর রাজ্জাক বাসস’কে জানিয়েছেন, ‘ধানের জমিতে পানি নেই। বাধ্য হয়ে সেচ দিতে হচ্ছে। এতে খরচ অনেক বেড়ে গেছে। দ্রুত সময়ের মধ্যে বৃষ্টি না হলে ফলন নিয়ে বিপদে পড়ব। এসময় জমিতে পানি না হলে ব্যাপক ক্ষতি হবে ধানের।’
রায়পুরের কৃষক মজনু মিয়া বলেছেন, ‘জমির মাটি ফেটে গেছে। ধান গাছের বৃদ্ধি আগের মতো নেই। এখন আল্লাহর রহমতে বৃষ্টি ছাড়া কোনো উপায় দেখছি না। আমন ধান আমাদের সারা বছরের খাদ্য ও আয়ের অন্যতম উৎস। তাই দ্রুত বৃষ্টি দরকার।’
আলমপুরের কৃষক মাহামুদুল হাসান বাসস’কে জানিয়েছেন, এসময় আমন ধানের জমিতে প্রচুর পানির প্রয়োজন। ধান গাছে শীষ বের হওয়ার সময় পানি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু বৃষ্টিপাত কম হওয়ায় জমি শুকিয়ে যাচ্ছে। ফলে বাধ্য হয়ে সেচ দিতে হচ্ছে। এতে উৎপাদন খরচ বাড়ছে।
কাবিলপুরের কৃষক নজরুল ইসলাম বলেছেন, ‘বর্ষা মৌসুমে সাধারণত বৃষ্টির পানির ওপর নির্ভর করেই আমরা আমন ধানের চাষ করি। কিন্তু সময়মতো বৃষ্টি না হলে জমিতে পানির সঙ্কট দেখা দেয়। তখন বিকল্প উপায়ে সেচের ব্যবস্থা করতে হয়। এতে বাড়তি টাকা খরচ হয়। পাশাপাশি সময় এবং শ্রম দুটোই বেশি লাগে। তাই স্বল্প খরচে সেচের পানির ব্যবস্থা করা গেলে অনেক উপকার হতো।’
পৌরসভার কৃষক রানু মিয়া বলেছেন, এখন ধানের শীষ বের হওয়ার সময় জমিতে পানির প্রয়োজন। কৃষকরা অনেক আশা নিয়ে ধান চাষ করেন, কিন্তু আবহাওয়া অনুকূলে না থাকলে সেই আশা পূরণ নিয়ে দুশ্চিন্তা তৈরি হয়। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সুমন আহমেদ বাসস’কে জানিয়েছেন, ‘বর্তমান পরিস্থিতিতে কৃষকদের প্রয়োজন অনুযায়ী সেচ দিতে হবে এবং জমির আর্দ্রতা ধরে রাখতে হবে। আমরা মাঠ পর্যায়ে কৃষকদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ দিচ্ছি। আশা করছি, আগামী দিনে বৃষ্টিপাত হলে ধানের ক্ষতি অনেকটাই কমে আসবে।’
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন