প্রধান কার্যালয়ঃ ৩-ডি, কাব্যকস ভবন, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি- ২০৪৪৭৪/২০২৫
ফোন:- 02224458547-01339-314085
ই-মেইল- crimebd2025@gmail.com
নেপালের দক্ষিণাঞ্চলীয় তরাই অঞ্চলের মধেশ প্রদেশে দাঙ্গার ঘটনায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে তিনজনে দাঁড়িয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে দেশটির চার জেলায় কারফিউ জারি করা হয়েছে। নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশ, আর্মড পুলিশ ফোর্স ও সেনাবাহিনীর সদস্যদের মোতায়েন করা হয়েছে।
প্রশাসন সুনসারি, সপ্তরী, সিরাহা ও ধনুষা জেলায় কারফিউ জারি করেছে। পাশাপাশি পারসা জেলায় সভা সমাবেশের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে। সংঘাতপূর্ণ এলাকাগুলোতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করা হয়েছে।
কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, গত রবিবার ভারতীয় সীমান্তসংলগ্ন সুনসারি জেলার একটি গ্রামে একটি শোভাযাত্রাকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা তৈরি হয়। পরে তা সংঘর্ষে রূপ নেয় এবং ধীরে ধীরে আশপাশের জেলাগুলোতেও ছড়িয়ে পড়ে।
নেপাল পুলিশের মুখপাত্র অবি নারায়ণ কাফলে জানিয়েছেন, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নিরাপত্তা বাহিনী ব্যবস্থা নেওয়ার সময় দুজন নিহত হন। কারফিউ চলাকালেও বৃহস্পতিবার সিরাহা জেলায় একটি বিক্ষোভের সময় আরও একজনের মৃত্যু হয়। তবে নিহতদের মৃত্যুর সুনির্দিষ্ট পরিস্থিতি নিয়ে তদন্ত চলছে।
গত রবিবার সুনসারি জেলার দেওয়াংগঞ্জ গ্রামীণ পৌরসভায় সংঘর্ষে আহত ২৪ বছর বয়সী ওম প্রকাশ মেহতার মৃত্যু হয়। পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ২০ বছর বয়সী জয় প্রকাশ মেহতারও মৃত্যু হয়। বৃহস্পতিবার সিরাহা জেলার গোলবাজারে সংঘর্ষের সময় ১৭ বছর বয়সী গণেশ যাদব নিহত হন।
এ ঘটনায় আহত ১৯ বছর বয়সী সুভাষ ঠাকুরের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকেরা।
বৃহস্পতিবার মধেশ প্রদেশের প্রাদেশিক রাজধানী জনকপুরে পরিস্থিতির আরও অবনতি হলে জনকপুরধাম উপমহানগর এলাকায় অনির্দিষ্টকালের জন্য কারফিউ জারি করা হয়। ধনুষা জেলা প্রশাসন আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে নিরাপত্তা বাহিনীকে ক্ষমতা দিয়েছে। জনকপুরে সেনাবাহিনীর সাঁজোয়া যান, হেলিকপ্টার ও পদাতিক টহল জোরদার করা হয়েছে।
অন্যদিকে সিরাহা জেলার গোলবাজারে কারফিউ উপেক্ষা করে মহাসড়ক অবরোধের চেষ্টা হলে পুলিশ কাঁদানে গ্যাস ও ফাঁকা গুলি ছুড়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এ সময় কয়েকটি দোকান ও বিপণিবিতানেও ভাঙচুর এবং অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে।
সিরাহার মুখ্য জেলা কর্মকর্তা সুরেন্দ্র পৌডেল জানিয়েছেন, পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। উত্তেজনা প্রশমনে রাজনৈতিক দল ও স্থানীয় নেতাদের সঙ্গে আলোচনা চলছে।
পরিস্থিতি মোকাবিলায় নেপাল পুলিশ জরুরি প্রয়োজন ছাড়া কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের সব ধরনের ছুটি বাতিল করেছে এবং অতিরিক্ত সদস্য মোতায়েন করেছে।
নেপাল পুলিশের মুখপাত্র অবি নারায়ণ কাফলে জানিয়েছেন, নিরাপত্তা বাহিনীকে প্রয়োজন অনুযায়ী আনুপাতিক বলপ্রয়োগের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে উত্তেজনা প্রশমনে স্থানীয় পর্যায়ে সংলাপ অব্যাহত রাখার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
এদিকে স্থানীয় নাগরিক সমাজের কয়েকজন প্রতিনিধি অভিযোগ করেছেন, কয়েক দিন ধরে উত্তেজনা থাকলেও শুরুতেই কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।
পরিস্থিতির মধ্যে জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে নেপালের প্রধানমন্ত্রী বালেন্দ্র শাহ নিরপেক্ষ তদন্তের আশ্বাস দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, দেশে শান্তিশৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে সরকার প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ নেবে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন