প্রধান কার্যালয়ঃ ৩-ডি, কাব্যকস ভবন, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি- ২০৪৪৭৪/২০২৫
ফোন:- 02224458547-01339-314085
ই-মেইল- crimebd2025@gmail.com
ভিন্ন দেশ, ভিন্ন ভাষা, এবং ভিন্ন সংস্কৃতির মানুষের মধ্যে একসূত্রে বেঁধে রাখার জন্য ফুটবল সবচেয়ে সুন্দর সেতু। এই খেলা এতটাই শক্তিশালী যে, এটি দুঃখ ও সুখ, জয় ও পরাজয়ের সীমা পেরিয়ে মুহূর্তেই ভেঙে দিতে পারে বিভেদের দেয়াল। স্পেনের তরুণ প্রতিভা লামিনে ইয়ামাল সেই দর্শনের জন্য জীবন্ত প্রতীক হিসেবে উঠে এসেছেন। তিনি উদ্বাস্তুদের বর্ষাকালীন একটি কলোনি থেকে উঠে এসে মাত্র ১৯ বছর বয়সে বিশ্বকাপ জয়ের স্বপ্ন পূরণ করেছেন এবং একটি অনুপ্রেরণার অসাধারণ গল্প রচনা করেছেন।
ইয়ামালের সাফল্যের পেছনে সবচেয়ে বড় ভূমিকা পালন করেছেন তার পিতা মুনির নাসরাউই ও মাতা শিলা এবানা গিনির। মরক্কো ও ইকুয়েটোরিয়াল গিনির অভিবাসী এই দম্পতি চরম আর্থিক সংকটের মধ্যেও তাদের ছেলের স্বপ্নকে বাঁচিয়ে রেখেছিলেন। তারা জীবনযাত্রার অনিশ্চয়তার কাছে হার মানেননি, বরং বিশ্বাস রেখেছিলেন যে একদিন তাদের সন্তান ইংরেজির দারুণ কিছু করবে।
ইয়ামালের পূর্ণ নাম হল লামিনে ইয়ামাল নাসরাউই এবানা। তাঁর নামের মধ্যেই লুকিয়ে আছে এক আবেগঘন ইতিহাস। 'লামিনে' এসেছে আরবী 'আল-আমিন' শব্দ থেকে, যার অর্থ বিশ্বস্ত বা সৎ। অন্যদিকে 'ইয়ামাল' এসেছে 'জামাল' শব্দ থেকে, যার অর্থ সৌন্দর্য। এই নাম শুধুমাত্র অর্থবহ নয়, এটি কৃতজ্ঞতার প্রতীকও। সন্তানের জন্মের সময় আর্থিক দুরবস্থায় পাশে দাঁড়িয়েছিলেন পরিবারের দুই বন্ধুর নাম থেকেই ছেলের নামকরণ করা হয়েছে।
জন্মের মাত্র পাঁচ মাস পর ফুটবল কিংবদন্তি লিওনেল মেসির কোলে ওঠার একটি স্মরণীয় ছবি এখনো ভক্তদের মনে রয়েছে। তবে ইয়ামালের শৈশবটি মোটেও সহজ ছিল না। তার বাবা-মায়ের বিচ্ছেদের পর, তিনি মায়ের কাছে বড় হয়েছেন। কিন্তু ফুটবলের প্রতি ভালোবাসার বীজ বপন করেছিলেন তার বাবা।
অভাবের সংসারে ছেলের জন্য একটি ফুটবল বুট কেনার সামর্থ্যও ছিল না মুনির নাসরাউইয়ের। তিনি স্থানীয় এক জুতা ব্যবসায়ীর কাছে ধার করে বুট নিয়েছিলেন এবং বলেছিলেন, একদিন আমার ছেলে বড় হয়ে এই ঋণ শোধ করবে। আর সেই ছেলে বর্তমানে বিশ্বের অন্যতম দামি ফুটবলারদের একজন। কিন্তু তারপরও ইয়ামাল তার বাবার সেই ত্যাগকে কখনো ভুলেননি।
বার্সেলোনার বিখ্যাত লা মাসিয়া একাডেমিতে ১২ বছর বয়সে যোগ দেওয়ার পর, তিনি দ্রুতই বিশ্ব ফুটবলের অন্যতম উজ্জ্বল তারকা হয়ে উঠেছেন। তবে সাফল্যের শীর্ষে পৌঁছানোর পরেও তিনি নিজের শিকড় ভুলে যাননি। তার হাতের আঙুলে লেখা থাকে '৩০৪', যা তার শৈশবের এলাকা রোকাফোন্দার পোস্টকোডের শেষ তিনটি সংখ্যা। গোল উদযাপন করার সময়ও সেটিই তিনি দেখান।
বার্সেলোনা থেকে প্রায় ৪০ কিলোমিটার দূরের মাতারো শহরের অভিবাসী অধ্যুষিত রোকাফোন্দা এলাকাই আজ ইয়ামালের কারণে নতুন পরিচয় লাভ করেছে। সেখানে ইয়ামালের ছবি শুধুমাত্র পোস্টারে নয়, বরং হাজারো শিশুর স্বপ্নেও দেখা যাচ্ছে।
বিশ্বকাপ জয়ের মঞ্চেও ইয়ামাল তার পরিচয় ও শিকড়কে গর্বের সঙ্গে তুলে ধরেছেন। তার হেডব্যান্ডে ছিল 'রোকাফোন্দা'র নাম, আর বুটে ছিল তার বাবা-মায়ের জন্মভূমি মরক্কো ও ইকুয়েটোরিয়াল গিনির পতাকা।
ইয়ামালের জীবনের গল্প যেন জন লেননের বিখ্যাত উক্তিকেই নতুন করে সত্য প্রমাণ করে, যে স্বপ্ন দেখার সাহস থাকলে একদিন সেই স্বপ্ন বাস্তব হয়। উদ্বাস্তু কলোনির সংকীর্ণ গলি থেকে বিশ্বজয়ের মঞ্চে পৌঁছে তিনি صرف একটি ট্রফিই জেতেননি, বরং কোটি মানুষদের হৃদয়ও জয় করেছেন।
তবে একটি বিষয়ে উল্লেখযোগ্য, এই প্রতিবেদনে কিছু তথ্য, বিশেষ করে ২০২৬ বিশ্বকাপের ফলাফল এবং ইয়ামালের বিশ্বজয় সম্পর্কিত অংশ, যদি বাস্তব ঘটনার পরিবর্তে কল্পনাপ্রসূত বা বিকল্প প্রেক্ষাপটে লেখা হয়ে থাকে, সেক্ষেত্রে সেগুলো স্বাধীনভাবে যাচাই করার প্রয়োজন আছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন