প্রধান কার্যালয়ঃ ৩-ডি, কাব্যকস ভবন, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি- ২০৪৪৭৪/২০২৫
ফোন:- 02224458547-01339-314085
ই-মেইল- crimebd2025@gmail.com
কুমিল্লার আলোচিত স্কুলছাত্রী জান্নাতুন তাজমিনকে ধর্ষণের পর হত্যার ঘটনায় অভিযুক্ত সুমন মিয়াকে নিয়ে পুলিশ এবং স্থানীয়দের পক্ষ থেকে চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে।
পুলিশের মতে, সুমন মিয়া নিয়মিতভাবে গাঁজা ও ইয়াবা সেবন করতেন। তিনি দীর্ঘদিন ধরে লালমাইয়ে শ্বশুরবাড়িতে বসবাস করছিলেন, যেখানে তিনি নিজের বাড়িঘর বিক্রি করে চলে এসেছিলেন। তার মাদকাসক্তির কারণে শ্বশুরবাড়ির সদস্যরা অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছিলেন।
পুলিশ জানায়, সুমন মিয়ার বাড়ি চাঁদপুরের কচুয়া উপজেলায়। তিনি জয়নগর গ্রামে শ্বশুরবাড়িতে ঘরজামাই হিসেবে বসবাস করছিলেন। পেশায় তিনি সিএনজিচালিত অটোরিকশাচালক।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মাদকসেবনের জন্য সুমন শ্বশুরের দামি আসবাব একে একে বিক্রি করে দিয়েছেন। একপর্যায়ে তার স্ত্রী তার বিরুদ্ধে মামলা করেন এবং পরে তিনি সন্তানসহ আলাদা থাকতে শুরু করেন। এরপর সুমন অটোরিকশা চালিয়ে বিভিন্ন স্থানে মাদকসেবন করতেন।
পুলিশের তদন্ত এবং সুমনের স্বীকারোক্তির ভিত্তিতে জানা যায়, গত বুধবার মধ্যরাতে কক্সবাজার থেকে ফিরে তাজমিন পদুয়ার বাজার বিশ্বরোড এলাকায় নামেন। সেখান থেকে কুমিল্লা শহরের বাসায় যাওয়ার জন্য তিনি সুমনের অটোরিকশা ৩০০ টাকায় ভাড়া করেন। শর্টকার্ট পথের কথা বলে সুমন তাকে একটি নির্জন স্থানে নিয়ে যান।
তাজমিন আতঙ্কিত হয়ে চলন্ত গাড়ি থেকে লাফ দিয়ে পালানোর চেষ্টা করেন। কিন্তু সুমন তাকে ধাওয়া করে ধরে ফেলেন। ধর্ষণের চেষ্টা করার সময় তাজমিন বাধা দেন। এ সময় ধানখেতে তাদের মধ্যে ধস্তাধস্তি হয়। পরে সুমন তার গলায় গামছা প্যাঁচিয়ে ধর্ষণের পর মাটিতে ফেলে পা দিয়ে চেপে শ্বাসরোধ করে হত্যা করেন। তার ব্যানিটি ব্যাগ থেকে আইফোন নিলেও পরে একটি জঙ্গলে ফেলে চট্টগ্রামে পালিয়ে যান তিনি।
বৃহস্পতিবার পুলিশ কিশোরীর লাশ উদ্ধার করে। এ ঘটনায় তাজমিনের বাবা অজ্ঞাত আসামিদের বিরুদ্ধে মামলা করেন। গোয়েন্দা এবং থানা পুলিশ তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় শুক্রবার চট্টগ্রাম থেকে সুমনকে গ্রেপ্তার করে।
সুমনের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে বাগমারার একটি জঙ্গল থেকে সেই আইফোনটি উদ্ধার করা হয়। শনিবার রাতে কুমিল্লার চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মমিনুল হকের আদালতে হত্যার দায় স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছেন সুমন। পরে বিচারক তাকে জেলা কারাগারে পাঠান।
লালমাই থানার ওসি মো. মিজানুর রহমান বলেন, ঘাতক সুমন মিয়া একজন উচ্চমাত্রার নেতাগ্রস্ত। তিনি গাঁজা ও ইয়াবা সেবন করতেন। তার অপকর্মের তথ্য বিশ্লেষণ করা হচ্ছে।
কুমিল্লার ডিবি পুলিশের পরিদর্শক মোহাম্মদ শামছুল আলম শাহ জানান, মামলা তদন্তের স্বার্থে কথিত প্রেমিক রাজু চৌধুরীকে গ্রেপ্তারের পর কুমিল্লায় আনা হয়েছে এবং তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন