প্রধান কার্যালয়ঃ ৩-ডি, কাব্যকস ভবন, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি- ২০৪৪৭৪/২০২৫
ফোন:- 02224458547-01339-314085
ই-মেইল- crimebd2025@gmail.com
দেশের দুর্বল অর্থনীতি পুনরুদ্ধার, ব্যাংকিং খাতে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা এবং উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার বিষয়গুলোকে সরকারের বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে চিহ্নিত করেছেন শিল্প ও বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির।
শনিবার (৭ নভেম্বর) দুপুরে সিলেট শিল্পকলা একাডেমি অডিটোরিয়ামে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে জেলা প্রশাসনের আয়োজিত আলোচনাসভায় তিনি এসব কথা বলেন।
বাণিজ্যমন্ত্রী জানান, রাষ্ট্রের প্রতিটি স্তরে জনসেবার মান উন্নত করতে হবে। সরকারকে একটি জনবান্ধব প্রতিষ্ঠানে পরিণত করতে হবে, যেখানে জনগণ প্রকৃত সেবা পাবে।
পোশাকশিল্পে সাম্প্রতিক অস্থিরতা বিনিয়োগের ওপর প্রভাব ফেলবে কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, কোনো ধরনের অস্থিরতা কাম্য নয়। কারণ একটি অস্থিরতা থেকে নতুন আরেকটি অস্থিরতা সৃষ্টি হতে পারে। তবে বিনিয়োগ একটি দীর্ঘমেয়াদি বিষয়। তাই কয়েক দিনের অস্থিরতার কারণে বিনিয়োগের গতিপথ দুই ধাপ পিছিয়ে যাবে বা এগিয়ে যাবে, এমনটা নয়।
স্থলবন্দরের বাণিজ্য বৃদ্ধি নিয়ে তিনি বলেন, এ ক্ষেত্রে ভারত ও বাংলাদেশ—দুই দেশকেই উদ্যোগী হতে হবে।
এদিন সকালে অন্য একটি অনুষ্ঠানে গার্মেন্টস শ্রমিকদের আন্দোলন প্রসঙ্গে বাণিজ্যমন্ত্রী মন্তব্য করেন, অর্থনীতির বিকাশের জন্য অস্থিতিশীলতা ও অস্থিরতা বড় অন্তরায়। অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য রাজনৈতিক ও সামাজিক স্থিতিশীলতা এবং স্বাভাবিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি অপরিহার্য।
সম্প্রতি শ্রমিক অসন্তোষের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, শ্রমিকদের অসন্তোষের পেছনে কোনো যৌক্তিক কারণ ছিল না। সরকার ঘটনার পরপরই মজুরি বোর্ড গঠন করেছে এবং ডিসেম্বর থেকে নতুন মজুরি বাস্তবায়নের ঘোষণা দিয়েছে। শ্রমিক অসন্তোষের পেছনে স্বাভাবিক কারণের বাইরে অন্য কোনো বিষয় রয়েছে কি না, তা সংশ্লিষ্টরা খতিয়ে দেখবেন বলেও তিনি জানান।
এ ধরনের অসন্তোষের কারণে অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব পড়লেও তা কাটিয়ে ওঠার সম্ভাবনা রয়েছে বলে আশা প্রকাশ করেন মন্ত্রী।
জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবসের গুরুত্ব তুলে ধরে খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, ১৯৭৫ সালের ৩ নভেম্বরের অভ্যুত্থানের পর দেশের মানুষ আশঙ্কা করেছিল যে, বাংলাদেশ আবারও ১৫ আগস্টের আগের অন্ধকার সময়ে ফিরে যাচ্ছে। তবে দেশের মানুষ আর পেছনে ফিরে যেতে চায়নি। স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও জাতীয় মর্যাদা অক্ষুণ্ন রাখার আকাঙ্ক্ষা থেকেই সিপাহি-জনতার ঐতিহাসিক বিপ্লব সংঘটিত হয়েছিল।
তিনি আরও বলেন, সে সময় দেশের অর্থনীতি ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি বিপর্যস্ত ছিল। লাভজনক শিল্পকারখানাগুলো জাতীয়করণের ফলে অনেক প্রতিষ্ঠান দুর্বল হয়ে পড়েছিল। বিভিন্ন বাহিনীর কর্মকাণ্ড নিয়েও জনমনে অসন্তোষ ছিল। রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সংকট মানুষের মধ্যে হতাশা তৈরি করেছিল। ১৫ আগস্টের পর ৩ নভেম্বরের অভ্যুত্থান সেই আশঙ্কা আরো বাড়িয়ে দেয়। পরবর্তী চার দিন দেশের মানুষের জন্য চরম অনিশ্চয়তার সময় ছিল।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সিলেটের জেলা প্রশাসক আব্দুল্লাহ আল মামুন। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন জাতীয় সংসদ সদস্য এমএ মালিক, এমরান আহমদ ও তাহসিনা রুশদীর লুনা।
এ ছাড়া বক্তব্য দেন সিলেটের বিভাগীয় কমিশনার মশিউর রহমান, পুলিশের সিলেট রেঞ্জের ডিআইজি মো. জাহাঙ্গীর হোসেন, সিলেট মহানগর পুলিশের কমিশনার সারওয়ার মুর্শেদ শামীম, সিলেট ওয়াসার চেয়ারম্যান মিফতাহ সিদ্দিকী, সিলেট উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রেজাউল হাসান কয়েস লোদী, সিলেট জেলা পরিষদের প্রশাসক আবুল কাহের চৌধুরী শামীম, পুলিশ সুপার ড. চৌধুরী মো. জাবের সাদেক ও সিলেট মহানগর বিএনপির সভাপতি নাসিম হোসেইন প্রমুখ।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন