প্রধান কার্যালয়ঃ ৩-ডি, কাব্যকস ভবন, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি- ২০৪৪৭৪/২০২৫
ফোন:- 02224458547-01339-314085
ই-মেইল- crimebd2025@gmail.com
চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে হাত-পা বাঁধা অবস্থায় উদ্ধার হওয়া গৃহবধূ চন্দনা রানী শীলের (২২) হত্যার ঘটনায় চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে এসআরবি-৭, যার মধ্যে তার স্বামী শিমুল শীলও রয়েছে।
শনিবার (১০ অক্টোবর) এসআরবি ৭-এর সহকারী পরিচালক (মিডিয়া) মোসলেহ উদ্দিন আহমেদ এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
গত শুক্রবার সকালে সীতাকুণ্ডের বারৈয়াঢালা ইউনিয়নের টেরিয়াইল উচ্চবিদ্যালয়ের পেছনে একটি জমির আইল থেকে পুলিশ চন্দনার মরদেহ উদ্ধার করে। তার দুই হাত কাপড় দিয়ে বাঁধা ছিল এবং গলায় ওড়না প্যাঁচানো ছিল।
পরিবারের সদস্যরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ছবি দেখে তার পরিচয় শনাক্ত করেন।
এসআরবি-৭ সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার রাত ১০টার দিকে সীতাকুণ্ডের বড় দারোগারহাট এলাকায় কুমিরা হাইওয়ে থানার সামনে থেকে শিমুল শীলকে গ্রেপ্তার করা হয়। শিমুলের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে রাত ১০টা ৪০ মিনিটে টেরিয়াইল বাজারের লাকি কমিউনিটি সেন্টারের সামনে থেকে পীযুষ শীল ওরফে প্রিতমকে গ্রেপ্তার করা হয়।
পরে তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে একই রাতে বারবকুণ্ডের মান্দারীটোলা এলাকা থেকে নজরুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করা হয়। শনিবার রাত ১২টা ১৫ মিনিটে ফকিরহাট এলাকা থেকে মো. ইলিয়াসকে গ্রেপ্তার করা হয়। এসআরবি নজরুল ও ইলিয়াসকে তদন্তে পাওয়া আসামি হিসেবে উল্লেখ করেছে।
এদিকে, এ ঘটনার মূল অভিযুক্ত চন্দনার স্বামী শিমুল শীল গতকাল আদালতে হত্যার দায় স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছেন। তার জবানবন্দিতে তিনি আরও দুই তরুণকে সঙ্গে নিয়ে স্ত্রীকে হত্যার কথা জানিয়েছেন।
চট্টগ্রামের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট শাখাওয়াত হোসেনের আদালতে শিমুল শীল স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন।
পুলিশ ও পরিবার সূত্রে জানা যায়, প্রায় এক বছর আগে শিমুলের সঙ্গে চন্দনার প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে এবং পরে তারা বিয়ে করেন। বিয়ের পর থেকে যৌতুকের দাবিতে চন্দনাকে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করা হতো বলে পরিবারের অভিযোগ।
ঘটনার আগের দিনও নির্যাতনের শিকার হয়ে চন্দনা বাবার বাড়িতে ফিরে এসেছিলেন। পরে তার স্বামী তাকে আবার ডেকে নিয়ে যান। এর এক দিন পর পরিবারের সদস্যরা তার মৃত্যুর খবর পান।
এদিকে গ্রেপ্তার হওয়া শিমুল জবানবন্দিতে আদালতকে জানান, তার স্ত্রী চন্দনা রানীর সঙ্গে নজরুলের সম্পর্ক ছিল বলে তার সন্দেহ ছিল। বিষয়টি নিয়ে তাদের মধ্যে ঝগড়া হয়। ঘটনার দিন রাতে তিনি এ নিয়ে চন্দনাকে জেরা করেন। সেখানে নজরুলও উপস্থিত ছিলেন। একপর্যায়ে চন্দনা মামলার হুমকি দিলে তারা চন্দনাকে হত্যা করেন। হত্যায় নজরুলের বন্ধু ইলিয়াসও অংশ নেন। তিনজন মিলেই চন্দনাকে খুন করেন।
পুলিশ জানায়, নজরুল ইসলাম ও ইলিয়াস হোসেন দুজনেই বন্ধু। নজরুল সিএনজি অটোরিকশার চালক এবং ইলিয়াস মিনিবাসের চালক। শিমুল ও পীযূষ দুজনেই কুমিরা হাইওয়ে পুলিশ ফাঁড়ির ডাম্পিং স্টেশনে প্রহরীর কাজ করেন।
নজরুলের সিএনজিচালিত অটোরিকশায় আসা-যাওয়া করতে গিয়ে চন্দনার সঙ্গে তার পরিচয় হয়। এ নিয়ে স্বামীর সঙ্গে তার বিরোধ তৈরি হয়। আর এর জের ধরেই শিমুল ও নজরুল তাকে ডেকে নিয়ে হত্যা করেন। হত্যায় অংশ নেন নজরুলের বন্ধু ইলিয়াসও।
সীতাকুণ্ড থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মহিনুল ইসলাম বলেন, ঘটনার পর দায়ের করা হত্যা মামলার শিমুল ও পীযূষকে গ্রেপ্তার করা হয়। তবে জিজ্ঞাসাবাদের পর শিমুল হত্যাকাণ্ডের কথা স্বীকার করেন এবং নজরুল এবং ইলিয়াসের জড়িত থাকার তথ্য দেন। এরপর রাতেই নজরুল এবং ইলিয়াসকে ভাটিয়ারী ক্যান্টনমেন্ট এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। গতকাল গ্রেপ্তার চারজনকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন