প্রধান কার্যালয়ঃ ৩-ডি, কাব্যকস ভবন, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি- ২০৪৪৭৪/২০২৫
ফোন:- 02224458547-01339-314085
ই-মেইল- crimebd2025@gmail.com
পাবনার ঈশ্বরদীর ৩৭ নং ছলিমপুর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আবুল কালাম আজাদ ও সহকারী শিক্ষক তানভীর রেজার মধ্যে হাতাহাতির একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে। এর ফলে শিক্ষক-শিক্ষার্থী, অবিভাবক ও স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক আলোচনা সৃষ্টি হয়েছে।
বুধবার (০৮ জুলাই) দিবাগত রাতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি এলাকাবাসীর নজরে আসে। ভিডিওটি ৫ মিনিট ৪৫ সেকেন্ড দীর্ঘ এবং এতে নেটিজেনরা ব্যাপক প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন।
বিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, গত ৫ জুলাই সকালে বিদ্যালয়ের বারান্দায় প্রাত্যহিক সমাবেশ চলাকালে এ ঘটনা ঘটে। তবে বুধবার রাতে প্রধান শিক্ষক আবুল কালাম আজাদ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ওই ঘটনার ধারণকৃত ভিডিও পোস্ট করেন।
ভাইরাল ভিডিওতে দেখা যায়, বৃষ্টির ফলে বিদ্যালয়টির বারান্দায় শিক্ষার্থীদের সারিবদ্ধ করে সমাবেশের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। ওই সময় প্রধান শিক্ষক উচ্চ স্বরে সহকারী শিক্ষক তানভীর রেজা ও তার স্ত্রী ইসরাত জাহানকে সমাবেশের শৃঙ্খলা বজায় রাখতে নির্দেশ দেন। বেশ কয়েকবার বলার পরও তারা সেই স্থানে দাঁড়িয়ে থাকেন। একপর্যায়ে প্রধান শিক্ষক তাদের ধমক দিলে সহকারী শিক্ষক তানভীর রেজা ও ইসরাত জাহান প্রধান শিক্ষকের ব্যবহারের সংশোধন করতে বলেন। তখন শিক্ষক তানভীর রেজা প্রধান শিক্ষকের সাথে বাকবিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়েন। পরবর্তীতে তানভীর রেজা প্রধান শিক্ষকের হাতে থাকা মুঠোফোন ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করলে তাদের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে।
বিদ্যালয়ে কর্মরত অন্যান্য শিক্ষকরা জানান, প্রধান শিক্ষকের সাথে সহকারী শিক্ষকদের এমন ঘটনা তাদের কর্মক্ষেত্রে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। প্রতিদিন এমন ঘটনা শুধু শিক্ষকরা পাঠদানে মনোযোগ হারাচ্ছেন না, কোমলমতি শিক্ষার্থীরা মানসিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন এমন প্রবণতা দেখা যাচ্ছে।
ছলিমপুর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আবুল কালাম আজাদ এ সম্পর্কে বলেন, দীর্ঘ ১৩ বছর ধরে তিনি এই প্রতিষ্ঠানে প্রধান শিক্ষক হিসেবে কর্মরত আছেন। সহকারী শিক্ষক তানভীর রেজা ও ইসরাত জাহান স্বামী-স্ত্রী। সাম্প্রতিক সময়ে তারা বিদ্যালয়টিকে পারিবারিক প্রতিষ্ঠানে পরিণত করে ফেলেছেন।
তিনি আরও অভিযোগ করেন যে, বেশ কিছুদিন ধরে সহকারী শিক্ষক তানভীর রেজা ও তার স্ত্রী ইসরাত জাহান সঠিক সময়ে বিদ্যালয়ে আসছেন না এবং প্রতিষ্ঠানে কোনো দাপ্তরিক কাজে ও প্রাত্যহিক সমাবেশে সহযোগিতা করছেন না।
এছাড়া সাম্প্রতিককালে ওই শিক্ষক দম্পতি তাদের দুই সন্তানকে বিদ্যালয়ে নিয়ে আসেন এবং ক্লাসরুমে পর্যন্ত শিশুদের নিয়ে প্রবেশ করেন। তারা ক্লাসে এবং অফিসকক্ষে শিশুদের খাওয়ানোর কাজ করেন এবং অবসর সময় পেলে দোতলার একটি কক্ষে বাচ্চাদের নিয়ে আড্ডা দেন।
প্রধান শিক্ষক যোগ করেন, ঘটনার দিন ওই শিক্ষক দম্পতিকে বারবার বলার পরও তারা সমাবেশে যোগ দেননি। পরে ভিডিও করতে তিনি বাধ্য হন। বিষয়টি মৌখিকভাবে উপজেলা সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তাকে জানানোর পরও কোনো সমাধান না পেয়ে গতকাল এটি সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করতে বাধ্য হয়েছেন।
এ বিষয়ে শিক্ষক দম্পতি তানভীর রেজা ও ইসরাত জাহান বলেন, প্রধান শিক্ষক তাদের বিরুদ্ধে শুধুমাত্র ব্যক্তিগত আক্রোশে অভিযোগ তুলেছেন। বরং প্রধান শিক্ষক বিদ্যালয়ে পাঠদান করেন না এবং সবসময় সহকারী শিক্ষকদের তার গোলাম হিসেবে মনে করেন। প্রতিষ্ঠানের বাহিরেও ব্যক্তিগত কাজের জন্য তাদের হুকুম করেন। এসব বিষয়ে আপত্তি জানালে শিক্ষক দম্পতির বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ তোলেন।
তাদের দাবি, সম্প্রতি সমাবেশের ঘটনার কারণে প্রধান শিক্ষক অশোভন আচরণ করেছেন এবং সেটিকে ভিডিও করে সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়েছেন। শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা জানান, ১৯৬২ সালে প্রতিষ্ঠিত হওয়া বিদ্যালয়টি দীর্ঘদিন সুনামের সাথে পরিচালিত হয়ে আসছিল, কিন্তু সাম্প্রতিককালে শিক্ষকদের এ ধরনের আচরণ কোমলমতি শিক্ষার্থীদের মানসিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। শিক্ষকদের দীর্ঘ সময়ে চলমান দ্বন্দ্বে বিদ্যালয়ের শিক্ষার মান নিম্নমুখী হয়েছে এবং শিক্ষার্থীসংখ্যা কমে গেছে। তাই স্থানীয়রা আশা করেছেন উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করে পড়াশোনার পরিবেশ ফিরিয়ে আনবেন।
ঈশ্বরদী উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা শাহীনা আক্তার মুঠোফোনে জানান, এখন পর্যন্ত তিনি এসব ঘটনায় লিখিত কোনো অভিযোগ পাননি। শিক্ষকদের মধ্যে এমন আচরণ খুবই লজ্জাজনক এবং এটি কাম্য নয়। তবে তিনি শিক্ষা পরিবেশ বজায় রাখতে তদন্ত সাপেক্ষে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাসও দিয়েছেন।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন