প্রধান কার্যালয়ঃ ৩-ডি, কাব্যকস ভবন, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি- ২০৪৪৭৪/২০২৫
ফোন:- 02224458547-01339-314085
ই-মেইল- crimebd2025@gmail.com
বরিশালের ১০ উপজেলায় চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত পাঁচ মাসের মধ্যে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) বিভিন্ন উন্নয়নকাজ বাস্তবায়ন করেছে। এসব কাজের মধ্যে রয়েছে সড়ক, হাটবাজার, সামাজিক অবকাঠামো, সেতু-কালভার্ট রক্ষণাবেক্ষণ এবং সেচ খাল খনন। এই উন্নয়ন ও রক্ষণাবেক্ষণ কাজে মোট ব্যয় হয়েছে ১৪৯ কোটি ১৮ লাখ ৬২ হাজার ১০০ টাকা।
এলজিইডির বরিশাল কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, এই সময়ে জেলার বিভিন্ন উপজেলায় ৭ দশমিক ৩৬৬ কিলোমিটার ইউনিয়ন সড়ক, ৪ দশমিক ৬৯৩ কিলোমিটার গ্রামীণ সড়ক এবং ৮ দশমিক ২৯ কিলোমিটার পাকা সড়ক প্রশস্তকরণ ও শক্তিশালীকরণ করা হয়েছে। সড়ক উন্নয়নের আওতায় মোট ২০ দশমিক ৩৪৯ কিলোমিটার কাজ সম্পন্ন হয়েছে, যার জন্য ব্যয় হয়েছে ২৮৪৭ দশমিক ৭৯১ লাখ টাকা।
একই সময়ে ৫১৮ দশমিক ৩৮ কিলোমিটার ব্রিজ ও কালভার্ট নির্মাণ করা হয়েছে, যার জন্য ব্যয় হয়েছে ৬৭২৯ দশমিক ৯৭ লাখ টাকা। এছাড়া, একটি হাট-বাজার ও গ্রোথ সেন্টারের উন্নয়ন করা হয়েছে, যার ব্যয় ৩৪৩ দশমিক ১৩ লাখ টাকা।
জেলার বিভিন্ন উপজেলায় ৪২টি সামাজিক অবকাঠামো নির্মাণ করা হয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে মসজিদ, কবরস্থান ও মন্দির। এসব কাজে ব্যয় হয়েছে ১৭৭ দশমিক ৭৬ লাখ টাকা। এলজিইডির তথ্য অনুযায়ী, বিদ্যমান সড়ক সচল ও চলাচলের উপযোগী রাখতে ৫৭ দশমিক ২৮ কিলোমিটার সড়কের রক্ষণাবেক্ষণে ব্যয় হয়েছে ২৩২০ দশমিক ০৭ লাখ টাকা।
এছাড়া, জেলার ১০টি উপজেলায় প্রকল্পের মাধ্যমে ১২২৮ দশমিক ৯৬ কিলোমিটার ব্রিজ ও কালভার্ট রক্ষণাবেক্ষণ করা হয়েছে, যার জন্য ব্যয় হয়েছে ২৪৪২ দশমিক ৬২ লাখ টাকা। কৃষি ও সেচব্যবস্থার উন্নয়নে ৫ দশমিক ১৭ কিলোমিটার খননকৃত সেচ খাল পুনঃখনন করা হয়েছে, এতে ব্যয় হয়েছে ৫৭ দশমিক ২৮ লাখ টাকা।
এলজিইডি সূত্রে জানা গেছে, বরিশাল সদর ও মুলাদী উপজেলায় উন্নয়নযোগ্য কাজের মধ্যে দুটি সড়ক প্রশস্তকরণ করা হয়েছে। এসব সড়ক সংশ্লিষ্ট এলাকার যোগাযোগব্যবস্থার উন্নয়নের পাশাপাশি গ্রামীণ পরিবেশের সৌন্দর্য বৃদ্ধি করেছে।
গৌরনদী ও উজিরপুর উপজেলায় দুটি নান্দনিক আরসিসি আর্চ গার্ডার ব্রিজ নির্মাণ করা হয়েছে। আধুনিক প্রকৌশল কৌশলে নির্মিত এসব ব্রিজের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট এলাকার মানুষের যাতায়াত ও যোগাযোগব্যবস্থা আরও সহজ হয়েছে।
জেলা এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ আল ইমরান বলেন, "জেলার গ্রামীণ যোগাযোগব্যবস্থার উন্নয়ন, কৃষিপণ্য পরিবহন সহজ করা এবং মানুষের জীবনযাত্রার মানোন্নয়নে এলজিইডির উন্নয়ন কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।"
তিনি আরও বলেন, "নতুন সড়ক ও সেতু-কালভার্ট নির্মাণের পাশাপাশি বিদ্যমান অবকাঠামোর রক্ষণাবেক্ষণেও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।" এছাড়া, হাটবাজার, গ্রোথ সেন্টার, সামাজিক অবকাঠামো ও সেচব্যবস্থার উন্নয়ন করা হচ্ছে। এর ফলে প্রত্যন্ত এলাকার মানুষের যোগাযোগ সুবিধা বৃদ্ধির পাশাপাশি কৃষি ও স্থানীয় অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড আরও গতিশীল হবে।
এলজিইডি কর্মকর্তারা জানান, জেলার বিভিন্ন উপজেলায় বাস্তবায়িত এসব কার্যক্রমের মাধ্যমে গ্রামীণ সড়ক যোগাযোগ উন্নয়ন, নিরাপদ ও সহজ যাতায়াত এবং স্থানীয় পর্যায়ে অবকাঠামোগত সুবিধা সম্প্রসারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। সূত্র: বাসস
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন