প্রধান কার্যালয়ঃ ৩-ডি, কাব্যকস ভবন, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি- ২০৪৪৭৪/২০২৫
ফোন:- 02224458547-01339-314085
ই-মেইল- crimebd2025@gmail.com
রাজবাড়ীর গোয়ালন্দে সিজারের পর পেটে গজ রেখে সেলাই করা ডিপ্লোমা মিডওয়াইফ নার্স বিথী আক্তার (২৫) মারা গেছেন।
বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ৮টার দিকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে তার মৃত্যু ঘটে।
মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন তার স্বামী রাকিবুল ইসলাম।
বিথী গোয়ালন্দ উপজেলার উজানচর ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের তমিজ উদ্দিন মৃধার পাড়া এলাকার রাকিবুল ইসলামের স্ত্রী।
জানা গেছে, ফরিদপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে সিজারিয়ান অপারেশনের সময় ডা. তামান্না ও ইন্টার্ন চিকিৎসক অরবিন্দের মাধ্যমে অস্ত্রোপচারটি সম্পন্ন করা হয়। পরিবারের অভিযোগ, ওই অস্ত্রোপচারের পর বিথী আক্তারের পেটে গজ রেখে সেলাই করা হয়েছিল।
এরপর থেকে বিথী শারীরিক নানা জটিলতায় ভুগতে থাকেন। বর্তমানে তিনি হাসপাতালের সিসিইউতে (কার্ডিয়াক কেয়ার ইউনিট) চিকিৎসাধীন অবস্থায় গুরুতর অসুস্থ হয়ে জীবন-মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করছেন।
চার মাস নিজের নবজাতক সন্তানকে বুকে জড়িয়ে ধরার তো দূরের কথা, সন্তানকে কোলে নেওয়া কিংবা দুধ খাওয়ানোর মতো অবস্থাতেও নেই তিনি। তার ছোট্ট সন্তান মায়ের স্নেহ থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।
পরিবারের অভিযোগ, গত ৬ মে ফরিদপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে বিথী আক্তারের সিজারিয়ান অস্ত্রোপচার সম্পন্ন হয়। অভিযোগ রয়েছে, অস্ত্রোপচারের সময় সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকদের অবহেলার কারণে তার পেটের ভেতর গজ থেকে যায়। এরপর থেকেই তার শরীরে তীব্র যন্ত্রণা ও দীর্ঘ জটিলতা শুরু হয়।
শারীরিক অবস্থার আশঙ্কাজনক অবনতি হলে, প্রথম অস্ত্রোপচারের প্রায় দুই মাস পর তাকে আবারও বড় ধরনের অস্ত্রোপচার করাতে হয়। পরে পেটের নাড়িতে তীব্র জটিলতা দেখা দেওয়ায় তাকে আইসিইউতে চিকিৎসাধীন থাকতে হয় এবং বাইপাস সার্জারিসহ একাধিক জটিল চিকিৎসা নিতে হয়। দীর্ঘদিন অসুস্থতায় ভুগে একসময়ের ৬১ কেজি ওজনের সুস্থ বিথী আক্তারের শারীরিক ওজন বর্তমানে কমে দাঁড়িয়েছে মাত্র ৩৮ কেজিতে।
গোয়ালন্দ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাইফুল হুদা গণমাধ্যমকে জানান, বিথীর মৃত্যুর খবরটি আমি শুনেছি, এটি অত্যন্ত দুঃখজনক। ইতোমধ্যে বিথীর বাচ্চাকে দেখতে জেলা প্রশাসক গেছেন। আমিও তার বাড়িতে বাচ্চাকে দেখতে দুইবার গিয়েছি। এ ঘটনায় তদন্ত সাপেক্ষে দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করা উচিত।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন