প্রধান কার্যালয়ঃ ৩-ডি, কাব্যকস ভবন, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি- ২০৪৪৭৪/২০২৫
ফোন:- 02224458547-01339-314085
ই-মেইল- crimebd2025@gmail.com
লিওনেল মেসির বিদায়ী ম্যাচে আর্জেন্টিনা ৩-০ গোলের জয় অর্জন করেছে। তবে এই ম্যাচের ফলাফল ছাপিয়ে, শেষ বাঁশির পর মনুমেন্টাল স্টেডিয়ামে এক আবেগঘন পরিবেশ বিরাজ করছিল। প্রিয় অধিনায়কের বিদায়ী বক্তব্য শোনার সময় কান্নায় ভেঙে পড়েন আর্জেন্টাইন মিডফিল্ডার এনজো ফার্নান্দেজ।
মেসি যখন সতীর্থ এবং সমর্থকদের উদ্দেশে বক্তব্য রাখছিলেন, তখন এনজোসহ দলের অন্যান্য খেলোয়াড়রা তার পাশে দাঁড়িয়ে ছিলেন। মেসির বক্তব্যের সময় এনজো চোখের পানি ধরে রাখতে পারেননি। সেই দৃশ্যটি দ্রুত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।
ম্যাচ শেষে এনজো মেসির বিদায় নিয়ে তার অনুভূতির কথা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, "সত্যি বলতে, দিনটি ছিল খুব আবেগের। অনেক রকম অনুভূতি কাজ করছিল। আশা করি, লিও দিনটি উপভোগ করেছে। আমরা তাকে খুব মিস করব।"
এনজোর মেসির প্রতি ভালোবাসা নতুন নয়। মাত্র ১৫ বছর বয়সে তিনি মেসিকে নিয়ে একটি চিঠি লিখেছিলেন। তখন মেসি জাতীয় দল থেকে অবসরের ঘোষণা দিয়েছিলেন। সেই সময় থেকেই এনজো হিসাব করতেন, মেসি ও তার বয়সের ব্যবধান কত। ভবিষ্যতে মেসির সঙ্গে আর্জেন্টিনার হয়ে খেলার সুযোগ পাবেন কি না, সেটিও ভাবতেন তিনি।
অবশেষে এনজোর সেই স্বপ্ন পূরণ হয়েছে। শুধু মেসির সঙ্গে মাঠ ভাগ করে নেওয়া নয়, বরং তার সতীর্থ হয়ে বিশ্বকাপও জিতেছেন তিনি।
মেসিকে উদ্দেশ্য করে লেখা সেই চিঠিতে এনজো বলেছিলেন, "আমি ছোট ছিলাম। তোমার বয়স আর আমার বয়স মিলিয়ে হিসাব করতাম। ভাবতাম, তোমার সঙ্গে একবার হলেও আর্জেন্টিনার হয়ে খেলতে পারব কি না।"
সময় গড়ানোর সঙ্গে সেই স্বপ্ন আরও বড় বাস্তবতায় রূপ নেয়। মেসির সঙ্গে অনুশীলন, ড্রেসিংরুম ভাগ করে নেওয়া, কঠিন সময় পার করা এবং আনন্দের মুহূর্ত উদ্যাপন সবকিছুরই অংশ হয়েছেন এনজো। শেষ পর্যন্ত দুজন একসঙ্গে হয়েছেন বিশ্বচ্যাম্পিয়ন।
এনজো মেসির কাছ থেকে পাওয়া ভালোবাসার কথাও স্মরণ করেন। তিনি লিখেছেন, "আমি সবসময় কৃতজ্ঞ থাকব, যেভাবে তুমি আমাকে শুরু থেকেই আপন করে নিয়েছ। আমি আমার আদর্শের সঙ্গে মাঠ ভাগ করে নেওয়ার স্বপ্ন নিয়ে এসেছিলাম। কিন্তু শুরু থেকেই তুমি আমাকে দলের একজন মনে করেছ।"
মেসির কাছ থেকে পাওয়া ছোট ছোট মুহূর্তও এনজোর কাছে বিশেষ। তার ভাষায়, "তোমার একটি ভালো কথা, একটি পরামর্শ, একটি আলিঙ্গন অথবা শুধু এমনভাবে পাশে থাকা, যাতে প্রয়োজনের সময় স্বস্তি পাই, কখনো ভুলব না।"
এনজোর জন্য মেসিকে ছাড়া আর্জেন্টিনার পরবর্তী ক্যাম্পের কথা ভাবতে কষ্ট হচ্ছে। এত বছর জাতীয় দলের জার্সিতে সামনে ১০ নম্বর জার্সিধারী মেসিকে দেখেই অভ্যস্ত তিনি।
চিঠির শেষদিকে নিজের শৈশবের সেই স্বপ্নের কথা স্মরণ করে এনজো লিখেছেন, "কী ভাগ্যবান ছিলাম আমি, লিও। সেই ছোট্ট ছেলেটি কত ভাগ্যবান ছিল, যে হিসাব করত সে কখনো সময়মতো তোমার সঙ্গে খেলতে পারবে কি না।"
মেসিকে ধন্যবাদ জানিয়ে এনজোর শেষ কথাগুলোও ছিল আবেগঘন। তিনি বলেন, "আমাকে যেভাবে আপন করে নিয়েছ, যা কিছু শিখিয়েছ এবং তোমার গল্পের একটি অংশ ভাগ করে নেওয়ার সুযোগ দেওয়ার জন্য ধন্যবাদ। আমরা তোমাকে খুব মিস করব, অধিনায়ক।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন