প্রধান কার্যালয়ঃ ৩-ডি, কাব্যকস ভবন, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি- ২০৪৪৭৪/২০২৫
ফোন:- 02224458547-01339-314085
ই-মেইল- crimebd2025@gmail.com
টানা অতিবৃষ্টি, পাহাড়ি ঢল এবং ভূমিধসে বান্দরবানে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির তথ্য জেলা প্রশাসন প্রকাশ করেছে। জেলার প্রায় ৭০ শতাংশ এলাকা জলাবদ্ধ হয়ে পড়েছে। ফলে পানিবন্দি অবস্থায় পতিত হয়েছেন প্রায় ১২ হাজার ৫০০ পরিবার। একইভাবে আগামী ১৬ জুলাই থেকে জেলার পর্যটনকেন্দ্রগুলো খুলে দেওয়ার বিষয়ে প্রশাসন পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন। তবে এখনও এই সম্পর্কে কোনো প্রজ্ঞাপন জারি হয়নি।
মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) জেলা প্রশাসক সানিউল ফেরদৌস স্বাক্ষরিত একটি সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য উপস্থাপন করা হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, পানি উন্নয়ন বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, ৬ থেকে ১৩ জুলাই পর্যন্ত জেলায় মোট ৫১৮ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা গিয়েছে। বন্যার সময়ে সাঙ্গু ও মাতামুহুরী নদীর পানি বিপৎসীমার ২ দশমিক ৫ মিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। তবে মঙ্গলবার সকাল ৯টার রিপোর্ট অনুযায়ী, সাঙ্গু নদীর পানি বিপৎসীমার ৫ দশমিক ৪৮ মিটার এবং মাতামুহুরী নদীর পানি ৩ দশমিক ৭১ মিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।
জেলা প্রশাসনের তথ্য বলছে, জেলায় মোট ৪৭টি ভূমিধস ও পাহাড় ধসের ঘটনা ঘটেছে। এর মধ্যে ১১টি বড় ধরনের ছিল। লামা উপজেলায় পাহাড় ধসে পাঁচজন এবং পানিতে ডুবে দুজনের মৃত্যু হয়েছে।
পাহাড় ধস ও গাছ উপড়ে পড়ার কারণে জেলার ২১টি স্থানে সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। পরে সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর, ফায়ার সার্ভিস এবং সেনাবাহিনীর সহযোগিতায় এসব সড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক করা হয়। তবে সড়ক ও জনপথ বিভাগের ৬১ কিলোমিটার এবং এলজিইডির ৯০ কিলোমিটার সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এছাড়া চারটি সেতু ও কালভার্টও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর মধ্যে একটি সচল করা গেলেও বাকি তিনটির সংস্কারকাজ এখনও চলছে।
বিজ্ঞপ্তিতে আরো বলা হয়েছে, লামা পৌর এলাকা, বান্দরবান পৌরসভা এবং সদর উপজেলায় জলাবদ্ধতার প্রভাব সবচেয়ে বেশি পড়েছে। ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য ২২০টি আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত করা হলেও বর্তমানে ৬৭টি আশ্রয়কেন্দ্রে ২ হাজার ৫৮২ জন আশ্রয় নিয়েছেন।
এদিকে ২ হাজার ১০৪ হেক্টর কৃষিজমি ও বাগান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর মধ্যে ৩৬৮ হেক্টর জমি সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে গেছে। এতে ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছেন ৫ হাজার ৩২৩ জন কৃষক।
ত্রাণ কার্যক্রম নিয়ে জেলা প্রশাসন জানায়, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তর থেকে ৪০০ টন চাল ও ২০ লাখ টাকা এবং প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিল থেকে আরও ২০ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। প্রতিদিন দুই বেলা করে ৮০ হাজার ৫০০ দুর্গত মানুষের মধ্যে রান্না করা খাবার বিতরণ করা হচ্ছে। এছাড়া ৮ হাজার ৫৬০ ব্যাগ ত্রাণসামগ্রী, ৮৭৫ প্যাকেট শিশুখাদ্য এবং তিন লাখ টাকা নগদ সহায়তা বিতরণ করা হয়েছে।
জেলা প্রশাসনের পাশাপাশি পুলিশ, সেনাবাহিনী, বিজিবি, আনসার, রেড ক্রিসেন্ট, বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ও বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থাগুলো ত্রাণ কার্যক্রমে অংশগ্রহণ করছে। স্থানীয় সংসদ সদস্য ও জেলা বিএনপির আহ্বায়ক সাচিং প্রু জেরীর পক্ষ থেকেও ত্রাণ বিতরণ করা হচ্ছে।
বৈরি আবহাওয়ার কারণে থানচিতে ১৬৭ জন, রুমায় ৩৭ জন এবং আমিয়াখুম এলাকায় চারজন পর্যটক আটকা পড়েছিলেন। পরে বিজিবির সহায়তায় তাদের নিরাপদে থানচি সদরে ফিরিয়ে আনা হয়।
জেলা প্রশাসক সানিউল ফেরদৌস জানান, বর্তমান পরিস্থিতি বিবেচনা করে আগামী ১৬ জুলাই থেকে জেলার সব পর্যটনকেন্দ্র খুলে দেওয়ার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। তবে এ বিষয়ে এখনও আনুষ্ঠানিক প্রজ্ঞাপন জারি হয়নি।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন