প্রধান কার্যালয়ঃ ৩-ডি, কাব্যকস ভবন, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি- ২০৪৪৭৪/২০২৫
ফোন:- 02224458547-01339-314085
ই-মেইল- crimebd2025@gmail.com
ইরান জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনায় বসার পূর্বে ওয়াশিংটনকে আস্থা পুনর্গঠনের জন্য পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। দেশটির সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের সচিব মেজর জেনারেল মোহসেন রেজাই উল্লেখ করেছেন যে, ইরানের সব শর্ত পূরণ না হওয়া পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনা হবে না।
মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে রেজাই এই অবস্থান তুলে ধরেন। এএফপির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তেহরান যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্কের ক্ষেত্রে আস্থার সংকট দূর করার ওপর গুরুত্বারোপ করছে।
গত মাসে কাতারের মধ্যস্থতায় ইরান যুক্তরাষ্ট্রের কাছে সাতটি শর্ত পাঠিয়েছিল। এসব শর্তের মধ্যে রয়েছে সব রণাঙ্গনে যুদ্ধ বন্ধ করা, জব্দ করা ইরানি অর্থ ছাড় দেওয়া এবং দেশের বন্দরগুলোর ওপর মার্কিন নৌ অবরোধ প্রত্যাহার করা। এছাড়া নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারসহ অন্যান্য দাবি আলোচনার অন্তর্ভুক্ত।
ইরান দাবি করেছে, ওয়াশিংটনের জবাব তাদের প্রত্যাশা পূরণ করতে সক্ষম হয়নি। রেজাইয়ের মতে, যুক্তরাষ্ট্রকে আগে আস্থা পুনর্গঠনের কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। তিনি উল্লেখ করেছেন, এই বিষয়ে ইরানের জনগণ ও কর্মকর্তাদের মধ্যে ঐকমত্য বিদ্যমান।
এদিকে, মঙ্গলবার তেহরানে পাকিস্তানের সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনিরের সঙ্গে বৈঠক করেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। বৈঠকে আঞ্চলিক পরিস্থিতি ও কূটনৈতিক মধ্যস্থতার বিষয়টি আলোচনা করা হয়। পাকিস্তান যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে আলোচনার পথ তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ মধ্যস্থতাকারী হিসেবে কাজ করছে।
ইরানের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম দেশের বাইরে নেওয়ার মার্কিন দাবিও রেজাই প্রত্যাখ্যান করেছেন। তিনি বলেন, সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের এক গ্রামও ইরান থেকে সরানো হবে না। তাঁর মতে, এসব পারমাণবিক উপাদান ইরানের সম্পদ এবং তা দেশের ভেতরেই থাকবে।
যুক্তরাষ্ট্র ও তেহরানের মধ্যে পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে বিরোধ দুই দেশের আলোচনার অন্যতম প্রধান বাধা হিসেবে কাজ করছে। যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ সীমিত করার দাবি জানিয়ে আসছে, অন্যদিকে তেহরান নিজেদের পারমাণবিক কর্মসূচি ও সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের ওপর নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখতে অনড়।
হরমুজ প্রণালি পুনরায় চালু করার বিষয়েও দুই দেশের মধ্যে মতপার্থক্য বিদ্যমান। ইরান বন্দরগুলোর ওপর মার্কিন নৌ অবরোধ প্রত্যাহারসহ নিজেদের শর্ত পূরণের ওপর জোর দিচ্ছে। ফলে পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় কূটনৈতিক প্রচেষ্টা চললেও দুই দেশের মধ্যে আলোচনা কবে শুরু হবে, তা এখনো অনিশ্চিত। তথ্যসূত্র: এএফপি, রয়টার্স
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন