প্রধান কার্যালয়ঃ ৩-ডি, কাব্যকস ভবন, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি- ২০৪৪৭৪/২০২৫
ফোন:- 02224458547-01339-314085
ই-মেইল- crimebd2025@gmail.com
আজ ২৩ সেপ্টেম্বর। বছরের অন্যান্য দিনগুলোর মতো ২৪ ঘণ্টায় দিন ও রাত মিলিয়ে একটি দিন সম্পূর্ণ হচ্ছে। তবে আজকের দিনটি বিশেষ। কারণ, আজ পৃথিবীর প্রায় সব স্থানে দিন ও রাতের দৈর্ঘ্য প্রায় সমান হয়ে থাকে। এই বিশেষ জ্যোতির্বৈজ্ঞানিক ঘটনাকে ‘ইকুইনক্স’ বা বিষুব বলা হয়।
ইকুইনক্সের সময় সূর্যের আলো পৃথিবীর উত্তর ও দক্ষিণ গোলার্ধে প্রায় সমানভাবে পৌঁছে। এর ফলে বিশ্বের বিভিন্ন স্থানে দিন ও রাতের দৈর্ঘ্য প্রায় ১২ ঘণ্টা করে হয়ে থাকে। তবে প্রকৃতপক্ষে দিন ও রাত একেবারে সমান ১২ ঘণ্টা হয় না। সূর্যের আকার এবং পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে আলোর প্রতিসরণের কারণে সূর্যোদয় ও সূর্যাস্তের সময়ের মধ্যে কিছু পার্থক্য দেখা দেয়।
প্রতি বছর সাধারণত দুবার ইকুইনক্স ঘটে, মার্চ ও সেপ্টেম্বরে। মার্চের ইকুইনক্সের পর উত্তর গোলার্ধে দিনের দৈর্ঘ্য বৃদ্ধি পেতে থাকে এবং জুনের দিকে বছরের দীর্ঘতম দিন দেখা যায়। সেপ্টেম্বরে আবার দিন-রাতের দৈর্ঘ্য প্রায় সমান হয়ে যায়। এরপর উত্তর গোলার্ধে রাতের দৈর্ঘ্য বৃদ্ধি পেতে থাকে, আর দক্ষিণ গোলার্ধে দিনের দৈর্ঘ্য বাড়তে থাকে।
ইকুইনক্সের পেছনে মূল কারণ হলো পৃথিবীর অক্ষের হেলন এবং সূর্যের চারপাশে এর পরিক্রমণ। পৃথিবীর অক্ষ কক্ষপথের সমতলের লম্ব থেকে প্রায় ২৩ দশমিক ৫ ডিগ্রি হেলে রয়েছে। সূর্যের চারদিকে পরিক্রমণের সময় এই অক্ষ প্রায় একই দিকে হেলে থাকার কারণে বছরের বিভিন্ন সময়ে পৃথিবীর একেক গোলার্ধ সূর্যের দিকে বেশি ঝুঁকে থাকে। এর ফলস্বরূপ ঋতু পরিবর্তনের পাশাপাশি দিন ও রাতের দৈর্ঘ্যেও পরিবর্তন ঘটে।
২৩ সেপ্টেম্বরের ইকুইনক্সের সময় সূর্যের আপাত অবস্থান বিষুবরেখার কাছাকাছি থাকে। ফলে উত্তর ও দক্ষিণ গোলার্ধে সূর্যালোকের বণ্টন প্রায় সমান হয়ে যায়। এরপর সূর্যের আপাত অবস্থান ধীরে ধীরে দক্ষিণ গোলার্ধের দিকে সরে যেতে থাকে। এর ফলে উত্তর গোলার্ধে দিনের দৈর্ঘ্য কমতে এবং রাতের দৈর্ঘ্য বাড়তে থাকে। বিপরীতে দক্ষিণ গোলার্ধে দিনের দৈর্ঘ্য বৃদ্ধি পায়।
ইকুইনক্সের সময় পৃথিবীর মেরু অঞ্চলেও অরোরা বা মেরুজ্যোতি দেখা যেতে পারে। সূর্য থেকে আসা চার্জযুক্ত কণা এবং পৃথিবীর চৌম্বকক্ষেত্রের মিথস্ক্রিয়ায় সৃষ্ট এই আলোকচ্ছটা মেরু অঞ্চলের অন্যতম আকর্ষণীয় প্রাকৃতিক দৃশ্য।
এদিকে, পৃথিবীর কক্ষপথ সূর্যের চারপাশে পুরোপুরি বৃত্তাকার নয়, বরং এটি উপবৃত্তাকার। ফলে বছরের বিভিন্ন সময়ে পৃথিবী সূর্যের বিভিন্ন দূরত্বে অবস্থান করে। জানুয়ারির দিকে পৃথিবী সাধারণত সূর্যের তুলনায় কাছে থাকে, যাকে বলা হয় ‘পেরিহেলিয়ন’। আর জুলাইয়ের দিকে সূর্য থেকে তুলনামূলক দূরে থাকে, যাকে বলা হয় ‘অ্যাফিলিয়ন’।
তবে ঋতু পরিবর্তনের প্রধান কারণ পৃথিবী-সূর্যের দূরত্বের এই পরিবর্তন নয়। পৃথিবীর অক্ষের প্রায় ২৩ দশমিক ৫ ডিগ্রি হেলন এবং সূর্যের চারপাশে পৃথিবীর পরিক্রমণের কারণেই মূলত ঋতুর পরিবর্তন ঘটে।
আজকের ইকুইনক্স তাই শুধুমাত্র একটি জ্যোতির্বৈজ্ঞানিক ঘটনা নয়, এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে পৃথিবীর অক্ষের হেলন, সূর্যের চারপাশে পরিক্রমণ এবং দুই গোলার্ধে সূর্যালোকের পরিবর্তিত বণ্টন। আজকের পর উত্তর গোলার্ধ ধীরে ধীরে শীতের দিকে এগোবে, আর দক্ষিণ গোলার্ধ উষ্ণ সময়ের দিকে এগোবে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন