প্রধান কার্যালয়ঃ ৩-ডি, কাব্যকস ভবন, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি- ২০৪৪৭৪/২০২৫
ফোন:- 02224458547-01339-314085
ই-মেইল- crimebd2025@gmail.com
ঘি বা পরিশোধিত মাখন রান্নাঘরে একটি বিশেষ স্থান দখল করে আছে। উৎসবের মিষ্টিতে, পায়েসে কিংবা মুখরোচক বিরিয়ানি রান্নায় স্বাদটা আরও ভালো করার জন্য এক চামচ ঘিয়ের তুলনা নেই।
যখন কোনো খাবার নিরাপদ এবং সুস্বাদু মনে হয়, তখন সাধারণত মানুষ সেটির পরিমাণ সম্পর্কে চিন্তা করে না। এই চিন্তার অভাব থেকেই স্বাস্থ্যগত উদ্বেগ সৃষ্টি হতে পারে।
ঘি কেন এত নিরাপদ মনে হয়
আয়ুর্বেদের প্রাচীন শাস্ত্রে ঘিকে শুধুমাত্র রান্নার তেল বা চর্বি হিসেবে নয়, বরং স্বাস্থ্য ও সুস্থতার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে দেখা হয়েছে। ঘিতে প্রায় ৬২ শতাংশ স্যাচুরেটেড ফ্যাট বিদ্যমান এবং ১০০ গ্রাম ঘিতে প্রায় ৮৮৩ কিলো ক্যালরি শক্তি মজুত থাকে। অর্থাৎ, খুব অল্প পরিমাণের একটি খাবারে যথেষ্ট শক্তি লুকিয়ে থাকে, যা আমরা অনেক সময় অজান্তেই গ্রহণ করে ফেলি।
ডালে ফোড়ন দেওয়ার সময় এক চামচ, ভাতে আরেকটু, রুটির সঙ্গে আরও এক চামচ এইভাবে ঘি ব্যবহার করলে স্বাদ অনেক উন্নত হয়। প্রতিবারের জন্য পরিমাণটা সামান্য এবং নিরীহ মনে হয়। কিন্তু দিনের পর দিন বা সপ্তাহজুড়ে এই পরিমাণগুলো মিলিয়ে মোট পরিমাণটি অনেকের কাছে বিস্ময়কর হতে পারে।
অতিরিক্ত স্যাচুরেটেড ফ্যাট আসলে কীভাবে প্রভাব ফেলে তা জানা জরুরি।
যখন স্যাচুরেটেড ফ্যাটের পরিমাণ প্রয়োজনের তুলনায় অনেক বেশি হয়, তখন রক্তের কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণে সমস্যা দেখা দিতে পারে। অতিরিক্ত কোলেস্টেরল শরীর থেকে স্বাভাবিকভাবেই অদৃশ্য হয়ে যায় না। সময়ের সঙ্গে এটি ধমনির দেয়ালে জমতে পারে এবং ধীরে ধীরে রক্ত চলাচলের পথ সংকুচিত করে, যা হৃদযন্ত্রের জন্য ঝুঁকি বাড়ায়।
প্রতিদিন কতটা ঘি খাওয়া ঠিক?
ঘি ভালো না খারাপ এই বিতর্কের মধ্যে মূল বিষয় প্রায়শই আড়ালে চলে যায়। আসলে বিষয়টি পরিমাণের সঙ্গে সম্পর্কিত। সুস্থ প্রাপ্তবয়স্করা দৈনিক মোট রান্নার চর্বির অংশ হিসেবে প্রায় ১–২ চা চামচ ঘি গ্রহণ করতে পারেন। তবে তেল, ঘি ও মাখন মিলিয়ে দৈনিক মোট চর্বির পরিমাণ ব্যক্তির শারীরিক কার্যকলাপ ও ক্যালরির চাহিদার ওপর নির্ভর করে। সাধারণভাবে এটি প্রায় ২০–৫০ গ্রাম পর্যন্ত হতে পারে।
স্যাচুরেটেড ফ্যাটের পরিমাণও সীমিত রাখা গুরুত্বপূর্ণ। অনেক স্বাস্থ্য নির্দেশিকায় দৈনিক মোট ক্যালরির ১০ শতাংশের কম স্যাচুরেটেড ফ্যাট রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়; কিছু ক্ষেত্রে আরও কম পরিমাণ লক্ষ্য করা হয়।
যাদের ইতোমধ্যে হৃদরোগ, ডায়াবেটিস বা উচ্চ কোলেস্টেরল রয়েছে, তাদের খাদ্যাভ্যাস ব্যক্তিগত স্বাস্থ্যগত অবস্থার ওপর ভিত্তি করে ঠিক করা উচিত। চিকিৎসক বা পুষ্টিবিদের পরামর্শ অনুযায়ী ঘির পরিমাণ কমিয়ে সরিষা, চিনাবাদাম বা তিলের মতো উদ্ভিজ্জ তেল ব্যবহার করা যেতে পারে।
ঘিকে ক্ষতিকারক ভাবার প্রয়োজন নেই। বরং বেশি ব্যবহারের পরিবর্তে পরিমাপ অনুযায়ী রান্নায় ব্যবহার করাই যথেষ্ট। পরিমাণটা ঠিক রাখতে পারলে এটি শরীরের জন্য উপকারী।
তথ্যসূত্র: এনডিটিভি
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন