প্রধান কার্যালয়ঃ ৩-ডি, কাব্যকস ভবন, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি- ২০৪৪৭৪/২০২৫
ফোন:- 02224458547-01339-314085
ই-মেইল- crimebd2025@gmail.com
সিলেট, ৭ নভেম্বর, ২০২৬ : ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিরুদ্ধে সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে আজ অনুষ্ঠিত দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে তাওহীদ হৃদয়ের দুর্দান্ত ডাবল সেঞ্চুরির মাধ্যমে বাংলাদেশ ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার সুযোগ পেয়েছে। হৃদয়ের এই ইনিংসের পর বাংলাদেশ দলের প্রধান কোচ ফিল সিমন্স তাঁর প্রশংসা করেছেন।
হৃদয় ৩৫৯ বল মোকাবেলা করে ২২টি চার ও ১১টি ছক্কায় অপরাজিত ২৪২ রান সংগ্রহ করেন। এটি বাংলাদেশের টেস্ট ইতিহাসে ব্যক্তিগত সর্বোচ্চ সংগ্রহ হিসেবে বিবেচিত। তাঁর ইনিংসের ভিত্তিতে বাংলাদেশ প্রথম ইনিংসে ৩৮৬ রান সংগ্রহ করে। এক পর্যায়ে ১৮৪ রানে ৬ উইকেট হারিয়ে বিপদে পড়া স্বাগতিকরা শেষ পর্যন্ত ৩০ রানের লিড নিতে সক্ষম হয়।
সিমন্স হৃদয়ের ইনিংসকে অসাধারণ উল্লেখ করে বলেন, তিনি দায়িত্ব নিয়ে ব্যাটিং করেছেন এবং দীর্ঘ সময় ক্রিজে থাকার পর শেষ দিকে ক্লান্ত হলেও অসাধারণ দৃঢ়তা প্রদর্শন করেছেন।
দিনের খেলা শেষে সাংবাদিকদের সিমন্স বলেন, “এটি ছিল অসাধারণ একটি ইনিংস। ক্লান্ত হবার পরও সে যেভাবে বাউন্ডারি খুঁজে পেয়েছে এবং ছক্কা মেরেছে, তা অবিশ্বাস্য।”
তিনি আরও বলেন, “কোন শট কখন খেলতে হবে এবং শেষ তিন ব্যাটারকে কখন স্ট্রাইক দিতে হবে, সে বিষয়ে অসাধারণ ম্যাচ সচেতনতার পরিচয় দিয়েছে হৃদয়। এই ইনিংসে সে যা করেছে, তার সবকিছুই ছিল অসাধারণ।”
ঢাকায় প্রথম টেস্টে হৃদয়ের ব্যাটিংয়ের তেমন প্রভাব না থাকায় সিলেটের ইনিংসটি বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে উঠেছে। ওই ম্যাচে কিছু দায়িত্বজ্ঞানহীন শট খেলার কারণে দীর্ঘ সংস্করণের ক্রিকেটে তাঁর ব্যাটিং পদ্ধতি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছিল।
তবে বাংলাদেশের কোচ মনে করেন, হৃদয় টেস্ট ব্যাটার হিসেবে দ্রুত পরিণত হচ্ছেন। ক্যারিয়ারের দ্বিতীয় টেস্টে ভুল করার জন্য তাঁকে কঠোরভাবে বিচার করা উচিত নয়।
সিমন্স বলেন, “হ্যাঁ, ঢাকায় সে দু-একটি বাজে শট খেলেছিল। কিন্তু সেটি ছিল তার দ্বিতীয় টেস্ট ম্যাচ। তাই ওই ভুলের জন্য তাকে দোষারোপ করা যায় না। আমার মনে হয়, সে দ্রুত পরিণত হচ্ছে এবং আজ আমরা সেটির প্রমাণ দেখেছি।”
ইনিংস চলাকালে হৃদয়কে কোনো বিশেষ নির্দেশনা দেননি বলেও জানান বাংলাদেশের কোচ। তাঁর মতে, মাঠে নামার পর ব্যাটারদের নিজেদের দায়িত্ব নিতে হয়।
সিমন্স বলেন, “তুমি যখন ব্যাটিং করছ, তখন কীভাবে ব্যাটিং করতে হবে, সে বিষয়ে আমি বার্তা পাঠাতে পারি না। একবার সীমানা অতিক্রম করে মাঠে ঢুকে পড়লে দায়িত্ব তাদেরই।”
হৃদয়কে সহযোগিতা করায় তাইজুল ইসলাম ও তাসকিন আহমেদেরও প্রশংসা করেন সিমন্স। বিশেষজ্ঞ ব্যাটারদের সঙ্গে ক্রিজে টিকে থেকে লড়াই চালিয়ে যাওয়ার যে কৌশল দলের ছিল, এই দুই বোলার সেটিই অনুসরণ করেছেন বলে জানান তিনি।
সিমন্স আরও জানান, ওপেনার সাদমান ইসলাম গুরুতর চোট পেয়েছেন। শুক্রবার তাঁকে হুইলচেয়ারে করে মাঠের বাইরে নিয়ে যেতে হয়েছে। দুই দিনের বিশ্রামে তিনি সুস্থ হয়ে উঠবেন বলে আশা করছেন কোচ। ইনিংস চলাকালে সাদমানের প্রয়োজন না হওয়ায় স্বস্তি প্রকাশ করেন তিনি।
এদিকে দ্বিতীয় ইনিংসে তিন স্পিনার আরও ভালো প্রভাব ফেলবেন বলে বিশ্বাস করেন সিমন্স। এই টেস্টে বাংলাদেশ একজন পেসার কম নিয়ে খেলেছে—- এমন ধারণাও নাকচ করে দেন তিনি।
তাঁর মতে, ঢাকা টেস্ট এবং সিলেটে প্রথম ইনিংসে স্পিনাররা এখনো নিজেদের প্রকৃত সামর্থ্য দেখাতে পারেননি। সুযোগ পেলে তাঁরা ভালো করবেন বলে আত্মবিশ্বাসী বাংলাদেশের কোচ।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন