প্রধান কার্যালয়ঃ ৩-ডি, কাব্যকস ভবন, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি- ২০৪৪৭৪/২০২৫
ফোন:- 02224458547-01339-314085
ই-মেইল- crimebd2025@gmail.com
ইরানের সঙ্গে সামরিক সংঘাত শুরু হওয়ার পর গত আট মাসের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের অন্তত ৮১টি যুদ্ধবিমান, ড্রোন এবং হেলিকপ্টার ধ্বংস অথবা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এই সামরিক যন্ত্রপাতির মোট মূল্য প্রায় ৩৩০ কোটি ডলার বলে জানা গেছে।
মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) নিউইয়র্ক পোস্টো র প্রতিবেদনে এই তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে।
এতে উল্লেখ করা হয়েছে, কংগ্রেসনাল রিসার্চ সার্ভিসের (সিআরএস) ৫ অক্টোবর হালনাগাদ করা প্রতিবেদনে এই বিষয়টি উঠে এসেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের পার্লামেন্ট কংগ্রেসের তদন্ত ও অনুসন্ধান বিষয়ক পার্লামেন্টারি সংস্থার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ধ্বংস হওয়া সামরিক এয়ারক্রাফটের মধ্যে ১২টি এফ-১৫ ই স্ট্রাইক ঈগল যুদ্ধবিমান, একটি এফ-৩৫ লাইটনিং ২ স্টেলথ যুদ্ধবিমান এবং ২টি এ-১০ থান্ডারবোল্ট ২ অ্যাটাক এয়ারক্রাফট অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
২ মার্চ কুয়েতের আকাশে ‘ফ্রেন্ডলি ফায়ার’ বা নিজেদের বাহিনীর গুলিতে তিনটি এফ-১৫ই বিমান ভূপাতিত হয় মার্কিন বাহিনীর দ্বারা। এপ্রিলে ইরানের আকাশে যুদ্ধ অভিযানের সময় আরও একটি বিমান ধ্বংস হয়ে যায়।
সিআরএস প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, সেপ্টেম্বরে জর্ডানের মুওয়াফফাক সালতি বিমান ঘাঁটিতে ইরানের হামলার সময় আরও আটটি এফ-১৫ই বিমান সামান্য ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল।
মার্কিন সামরিক বাহিনীর অন্যতম অত্যাধুনিক যুদ্ধবিমান এফ-৩৫এ-টি ১৯ মার্চ ইরানের হামলার সময় ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং পরে বিমানটি পুনরায় পরিষেবায় ফিরিয়ে আনা হয়। মোট ক্ষতির একটি উল্লেখযোগ্য অংশজুড়ে রয়েছে ড্রোন।
কংগ্রেসের প্রতিবেদনে দেওয়া সর্বশেষ হিসাব অনুযায়ী, সিআরএস-এর তালিকায় অন্তত ৪৫টি এমকিউ-৯ রিপার ড্রোন অন্তর্ভুক্ত রয়েছে, যা নজরদারি এবং ক্ষেপণাস্ত্র হামলার কাজে ব্যবহৃত হয়।
বিভিন্ন ঘটনায় ক্ষতির কারণে মে মাস নাগাদ মার্কিন বিমান বাহিনীর এমকিউ-৯ ড্রোনের সংখ্যা ১৩৫টিতে নেমে আসে; অথচ অন্তত ১৮৯টি মোতায়েনযোগ্য রিপার ড্রোন সে সময় প্রয়োজন ছিল মার্কিন বাহিনীর।
২ মার্চ কুয়েতের আকাশে ‘ফ্রেন্ডলি ফায়ার’ বা নিজেদের বাহিনীর গুলিতে তিনটি এফ-১৫ই বিমান ভূপাতিত হয় এবং এপ্রিলে ইরানের আকাশে যুদ্ধ অভিযানের সময় আরও একটি বিমান ধ্বংস হয়ে যায়। প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, সেপ্টেম্বরে জর্ডানের মুওয়াফফাক সালতি বিমান ঘাঁটিতে ইরানের হামলার সময় আরও আটটি এফ-১৫ই বিমান সামান্য ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল।
সিআরএস এর তালিকায় ধ্বংস হওয়া যুদ্ধবিমান ও সামরিক এয়ারক্রাফটের মধ্যে আরও রয়েছে সাতটি কেসি-১৩৫ স্ট্র্যাটোট্যাঙ্কার (আকাশপথে জ্বালানি ভরার বিমান), একটি ই-৩ সেন্ট্রি নজরদারি বিমান, দুটি এমসি-১৩০জে কমান্ডো ২ বিশেষ অভিযানের বিমান এবং একটি এইচএইচ-৬০ডব্লিউ জলি গ্রিন ২ যুদ্ধকালীন অনুসন্ধান ও উদ্ধারকারী হেলিকপ্টার।
এছাড়া রয়েছে একটি এমকিউ-৪সি ট্রাইটন ড্রোন, তিনটি এমকিউ-১ ড্রোন, একটি এএইচ-৬৪ অ্যাপাচি অ্যাটাক বা আক্রমণকারী হেলিকপ্টার, চারটি এএইচ-৬ লিটল বার্ড হালকা আক্রমণকারী (লাইট অ্যাটাক) হেলিকপ্টার এবং একটি এমএইচ-৬০ সিহক হেলিকপ্টার।
ই-৩ সেন্ট্রি বিমানটির ক্ষতি বিশেষভাবে তাৎপর্যপূর্ণ, কারণ এটি আকাশপথে নজরদারি এবং কমান্ড-অ্যান্ড-কন্ট্রোল বা নিয়ন্ত্রণ ও নির্দেশনার সক্ষমতা প্রদান করে। বোয়িং ৭০৭ (Boeing 707) কাঠামোর ওপর ভিত্তি করে তৈরি এই বিমানটি মার্কিন বিমান বাহিনীতে আগে থেকেই খুব কম সংখ্যায় ব্যবহৃত হতো।
সিআরএস-এর হালনাগাদ করা এই সংখ্যাটি মে মাসে প্রকাশিত প্রতিবেদনের আগের সংস্করণে উল্লিখিত ৪২টি বিমানের সংখ্যার প্রায় দ্বিগুণ। তবে এই বৃদ্ধির অর্থ এই নয় যে মে মাসের পর আরও ৩৯টি বিমান হারিয়ে গেছে। সিআরএস জানিয়েছে, নতুন তথ্য পাওয়া গেলে এবং আগে রিপোর্ট করা হয়নি এমন ক্ষতির বিষয়টি শনাক্ত হলে তাদের এই হিসাব পরিবর্তিত হতে পারে।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ শুরু করে মার্কিন বাহিনী। প্রায় সাড়ে তিন মাস পর জুন মাসের প্রথম সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও অপারেশন এপিক ফিউরির সমাপ্তি ঘোষণা করেন। তবে রুবিও সামরিক অভিযান সমাপ্তির ঘোষণা দিলেও পরবর্তী মাসগুলোতে নিয়মিতই পরস্পরকে লক্ষ্য করে হামলা করে গেছে ইরান এবং যুক্তরাষ্ট্র।
গত আগস্টে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বিরুদ্ধে অর্থনৈতিক অভিযান ‘অপারেশন ইকোনমিক আউটকাস্ট’ ঘোষণার পর সামরিক হামলায় একপ্রকার বিরতি চলছে, তবে তেহরান এবং যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে এখনো যথেষ্ট মাত্রায় উত্তেজনা রয়েছে এবং যে কোনো সময় ফের পরস্পরকে লক্ষ্য করে দু’পক্ষ সামরিক হামলা শুরু করতে পারে বলে মনে করছেন নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন