প্রধান কার্যালয়ঃ ৩-ডি, কাব্যকস ভবন, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি- ২০৪৪৭৪/২০২৫
ফোন:- 02224458547-01339-314085
ই-মেইল- crimebd2025@gmail.com
সরকারি চাকরিতে ২৫ বছর পূর্ণ করার পূর্বে যে কেউ পদত্যাগ করে, তিনি পেনশন সুবিধার অধিকারী হবেন না, এ বক্তব্য একটি রায় আপিল বিভাগের পক্ষ থেকে প্রকাশিত হয়েছে।
এই রায়টি ৯ জুলাই সুপ্রিম কোর্টের ওয়েবসাইটে ২৮ পৃষ্ঠার পূর্ণাঙ্গ রূপে প্রকাশ করা হয়। রায়টি লিখেছেন বিচারপতি ফারাহ মাহবুব।
এর prior, হাইকোর্টের এক রায়ের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষ যে আপিল করেছে, তা মঞ্জুর করে আপিল বিভাগের বিচারপতি মো. রেজাউল হক, বিচারপতি এস এম এমদাদুল হক এবং বিচারপতি ফারাহ মাহবুবের সমন্বয়ে যে রায়টি হয়েছে, তা ১১ মার্চ প্রকাশিত হয়।
রাষ্ট্রপক্ষে আদালতে শুনানিতে অংশগ্রহণ করেন অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল মোহাম্মদ আরশাদুর রউফ এবং অনীক আর হক। তাদের সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ। এছাড়া, রিট আবেদনের পক্ষে শুনানিতে অংশগ্রহণ করেন রিটকারী মাহবুব মোরশেদ নিজে।
রায়ে উল্লেখ করা হয়েছে, আইনসভা প্রজ্ঞা ও যৌক্তিক বিবেচনার উপর ভিত্তি করেই এমন বিধান তৈরি করা হয়েছে যে ২৫ বছরের চাকরির টাইম লাইনে পূর্ণ হওয়ার পূর্বে যদি কোনো সরকারি কর্মচারী পদত্যাগ করেন, তাহলে তিনি কোনো সুবিধার অধিকারী হবেন না।
নথিপত্র থেকে দেখা যায়, মাহবুব মোরশেদ ১৯৯১ সালে সহকারী বিচারক হিসেবে জুডিশিয়াল সার্ভিসে যোগ দেন। ১৯ বছর সার্ভিস করে ২০১১ সালের ৩১ জানুয়ারি তিনি স্বেচ্ছায় পদত্যাগ করেন, তখন তিনি অতিরিক্ত জেলা জজ ছিলেন। সার্ভিসে ১৯ বছর পূর্ণ হওয়ার পরে ৬১ শতাংশ পেনশন ও আনুতোষিকের জন্য ২০১৫ সালে আইন মন্ত্রণালয়ে আবেদন করেন তিনি।
এরপর, প্রধান হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে ২০১৫ সালের ২৫ মার্চ আইন মন্ত্রণালয়ে একটি চিঠিতে জানানো হয়, সরকারি চাকরিতে পদত্যাগ করলে পূর্ববর্তী চাকরিকাল আইনগতভাবে বাজেয়াপ্ত হবে। অর্থাৎ, পেনশনের জন্য সেটি গণনা করা হবে না (বিএসআর প্রথম খণ্ডের বিধি-৩০০ সেকশন-৩)। মাহবুব মোরশেদের চাকরিকাল ২৫ বছর পূর্ণ হয়নি, এবং তিনি ২৫ বছর পূর্তি সাপেক্ষে সংশ্লিষ্ট বিধানের আলোকে পেনশনের জন্য কোনো আবেদন করেননি, সুতরাং তিনি পেনশনপ্রাপ্ত নন (১৯৭৪ সালের গণকর্মচারী অবসর আইনের ৯ ধারা অনুযায়ী)।
এ অবস্থায়, বিধি-৩০০ এবং ওই চিঠির বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে মাহবুব মোরশেদ ২০১৬ সালে রিট করেন। চূড়ান্ত শুনানির পর, হাইকোর্ট ২০২১ সালের ১৮ মার্চ রায় দেন, এবং এতে ২০১৫ সালের ২৫ মার্চের ওই চিঠিকে আইনগত কর্তৃত্ববহির্ভূত ঘোষণা করা হয়। একইসাথে, রায়ের অনুলিপি পাওয়ার ৯০ দিনের মধ্যে, চাকরির মেয়াদ অনুসারে মাহবুব মোরশেদের পেনশনসহ অন্যান্য বকেয়া সুবিধার গণনা ও মঞ্জুর করতে নির্দেশ দেয়া হয়।
এই রায়ের বিরোধিতায় রাষ্ট্রপক্ষ লিভ টু আপিল (আপিল করার অনুমতি চেয়ে আবেদন) করে। ২০২২ সালের ২৪ অক্টোবর লিভ টু আপিল মঞ্জুর করে আপিল বিভাগ, এবং সেইসাথে হাইকোর্টের রায়ের স্থগিতাদেশ চলমান রাখে। এর ধারাবাহিকতায়, রাষ্ট্রপক্ষ আপিল করে।
রাষ্ট্রপক্ষের করা ওই আপিল মঞ্জুর করে হাইকোর্টের দেওয়া রায়টি বাতিল করে গত ১১ মার্চ আপিল বিভাগ রায় দেন।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন